
ফুটবল নয় ক্রিকেট খেললো ক্রিকেটের জন্মভূমির দেশ ইংল্যান্ড নবাগত ইতালির বিরুদ্ধে। অত্যন্ত উপভোগ্য একটি ম্যাচে ইতালিকে ২৪ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে চতুর্থ দল হিসাবে গ্রূপ অফ এইটে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড বাটিংয়ের ১৭ ওভার পর্যন্ত চোখে চোখ রেখেই লড়ছিল ইতালি। ১৬.৫ ওভারে রান ছিলো ৬/১৫৯। এই সময় উইকেটে থাকা ২২ বলে ৫৩* রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দিয়ে ইংলিশ স্কোর ২০২/৭ নিয়ে যায়। শক্তিশালী ইংল্যান্ড আক্রমণ মোকাবিলা করে এই রান টপকে চমক সৃষ্টি করা সম্ভব হলো না নবাগত ইতালির। চেষ্টার ত্রুটি করেনি ইতালি। মানেনটি (২৫ বলে ৬০), স্টুয়ার্ট (২৩ বলে ৪৫) করে ম্যাচটি প্রাণবন্ত করে রেখেছিল। শেষ রক্ষা হয়নি ইংল্যান্ড চৌকষ ক্রিকেটার স্যাম কুরানের বুদ্ধিদীপ্ত ৩/২২ বোলিংয়ের কল্যানে। ইতালিকে সাবাস জানাবো প্রাণবন্ত ক্রিকেট উপহার দেয়ার জন্য।
কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে বিশকাপে মুখোমুখি ইংল্যান্ড, ইতালি। খেলাটি যদি ক্রিকেট না হয়ে যদি হতো ফুটবল, নিঃসন্দেহে আকাশ ভেঙে পড়তো সন্দেহ নেই। ফুটবল বিশ্বের দুই জাদরেল দলের খেলা দেখতে। কিন্তু আজ ছিল ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ফরমেট টি২০ বিশ্বকাপ। পরিস্থিতি এমন ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি ইংল্যান্ডকে জিততেই হবে টুর্নামেন্টে এগিয়ে যেতে হলে প্রথম বারের মত খেলতে এসে চমক সৃষ্টি করা ইতালির বিরুদ্ধে। পরিকল্পিত ব্যাটিং করে এবং এরপর ইতালির হার না মানা যুদ্ধ প্রয়াস স্তিমিত করে ১৭৮ রানে সীমিত রাখে ইনিংস। ২৪ রানের ব্যাবধানে জয় দিয়ে গ্রূপ পর্ব পেরিয়ে বিজনেস রাউন্ডে উত্তীর্ণ হয় ইংল্যান্ড। সি গ্রূপে খেলতো বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ইংল্যান্ড উত্তীর্ণ হলো ইংল্যান্ড। নেপাল, ইতালি দুটি দল ইংল্যান্ডকে ঘাম ঝরিয়েছে নিঃসন্দেহে।
ইংল্যান্ড: ২০২/৭ (উইল জ্যাক্স ৫৩*, টম বন্টন ৩০, ফিল সল্ট ২৮, স্যাম কুরান ২৫। কৃষাণ কালু গামাগে ২/৪১, গ্রান্ট স্টুয়ার্ট ২/৫১)
ইতালি: ১৭৮ অল আউট (বেন মানেনটি ৬০, গ্রান্ট স্টুয়ার্ট ৪৫, জাস্টিন মোস্কা ৪৩। জেমি ওভারটন ৩/১৮, স্যাম কুরান ৩/২২, জোফরা আর্চার ২/৩৫)
ইংল্যান্ড ২৪ রানে জয়ী
ম্যাচের সেরা: উইল জ্যাক্স (ইংল্যান্ড)
ইংল্যান্ড ইনিংসের অন্তত ১৫ ওভার পর্যন্ত দুর্দান্ত বোলিং করে ইতালি শেয়ানে শেয়ানে লড়াই করেছিল। ৭.৩ ওভারে ৬৭ রান তুলতে ইংল্যান্ড হারিয়েছিল বাটলার (৩), সল্ট (২৮) আর বেথেলের ( ২৩) উইকেট। ১৪ রান করে ব্রুক বিদায় নিলে ভালো ব্যাটিং করে দলকে এগিয়ে নেয়ার দায়িত্বও তুলে নেয় প্রথমে বণ্টন (৩০), স্যাম কুরান (২৫) ১৬.৫ ওভারে দলীয় ১৫৯ রানে ষষ্ট উইকেট হিসাবে কুরান বিদায় নিলে উইল জ্যাক্স খেলে ২২ বলে অপরাজিত ৫৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। ইংল্যান্ড ইনিংস শেষ হয় ২০২/৭। এই ইনিংস খেলার পথে জ্যাক্স ৩ চার ৪ ছক্কা উপহার দিয়েছে। ইতালির হয়ে কৃষাণ কালুগামাগে ২/৪১ আর গ্রান্ট স্টুয়ার্ট ২/৫১ ছিল সফল বোলার।
ইতালির ইনিংসের প্রথম ওভারেই জোড়া আঘাত হানে জোফরা আর্চার। ফিরে যায় এন্টোনি মোস্কা (০), জে জে স্মুটস (০)। ২২ রান তুলতেই বিদায় নেয় ১২ রান করে অধিনায়ক হ্যারি মানেট। জাস্টিন মস্কার সঙ্গে জুটি বেঁধে লড়াই জারি রাখে বেন ম্যানেনটি। এই জুটির করা ৯২ রানের জুটি ইংল্যান্ড শিবিরে কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিলো। মানেনটি ২৫ বলে ৪ চার আর ৬ ছক্কায় ৬০ রান করে ইংলিশ বোলিংয়ে হৃদকম্প সৃষ্টি করেছিল। সৌভাগ্য ইংল্যান্ডের ১১৪ রানের মাথায় মানেনটি আর ১৩৫ রানের মাথায় জাস্টিন মোস্কা বিদায় নিলে ইতালি লড়াই ময়দানে পিছিয়ে পড়ে। গ্রান্ট স্টুয়ার্ট ২৩ বলে ৪৫ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস খেলে আশা জাগালেও শেষ দিকে স্যাম কুরান বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং করে ইতালির যুদ্ধ জয়ের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। নিজেদের নির্ধারিত ওভারের শেষ বলে ১৭৮ রানে অল আউট হয় ইতালি। হেরে যায় ইতালি ২৪ রানে। টুর্নামেন্টে চতুর্থ দল হিসাবে রাউন্ড অফ ফোর নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
বীরের মত লড়াই করেই হেরেছে ইতালি। এই বিশ্বকাপে প্রথম আবির্ভাবে কিছু বিমূর্ত মুহূর্ত উপহার দিয়েছে ইতালি। আমি নিশ্চিত ইতলিতে ঘরোয়া ক্রিকেট অবকাঠামো গড়ে উঠলে আগামী ৩-৫ বছরে বিশ্ব ক্রিকেটে আলো ছড়াবে দেশটি।