
তুমুল লড়াই করেও শেষ রক্ষা হলো না পাকিস্তানের। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর হ্যারি ব্রুকের লড়াকু ১০০ রানের সুবাদে ৫ বল হাতে রেখে ২ উইকেটে জয়ী হয়ে ইংল্যান্ড সেমি ফাইনাল খেলা অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেললো। পরাজিত পাকিস্তানের উত্তরণ এখন শেষ ম্যাচ জয় আর বেশ কিছু সমীকরণের উপর নির্ভরশীল হয়ে গেল।
টস জয়ী পাকিস্তান আগে ব্যাটিং করে ১৬৪/৯ করেছিল। উইকেট খুব একটা দুরূহ ছিল না। ৫৮ রানে ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারের ৪ উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তান ইংল্যান্ডকে চাপে রেখেছিল। কিন্তু অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের দুর্দান্ত ১০০* ইংল্যান্ডকে রুদ্ধশ্বাস জয় এনে দেয়।
পরপর দুই ম্যাচে শ্রীলংকা আর পাকিস্তানকে হারিয়ে এখন ইংল্যান্ড সেমি ফাইনাল খেলা অনেকটাই নিশ্চিত করে ফেলেছে। পাকিস্তান-নিউজিল্যাড খেলা বৃষ্টিতে পন্ড হওয়ায় দুই ম্যাচের পর পাকিস্তানের পয়েন্ট ১। সেমিফাইনাল খেলতে হলে পাকিস্তান শুধু শ্রীলংকার সঙ্গে বড় ব্যবধানে জিতলেই হবে না নিউজিলান্ড-ইংল্যান্ড খেলার ফলাফল অনুকূলে থাকতে হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
পাকিস্তান ১৬৪/৯ (শাহিবজাদা ফারহান ৬৩, বাবর আজম ২৫, ফখর জামান ২৫, শাদাব খান ২৩। লিয়াম ডসন ৩/২৪, জেমি ওভারটন ২/২৬, জোফার আর্চার ২/৩২)
ইংল্যান্ড ১৬৬/৮: ১৯.১ ওভার (হারি ব্রুক ১০০, উইল জ্যাক্স ২৮। শাহীন শাহ আফ্রিদি ৪/৩০, মোহাম্মদ নেওয়াজ ২/২৬)
পাকিস্তান কাল ফকর জামানকে একাদশে নিয়ে ব্যাটিং গভীরতা বাড়িয়েছিল। কিন্তু শুরুতেই আর্চার এবং ডসন সাইযুম আইয়ুব (৭) এবং সালমান আগাকে (৫) দ্রুত ফিরিয়ে দিলে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে চাপ সৃস্টি হয়। একপ্রান্তে নিজ মূর্তিতে সক্রিয় ছিল সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং ভরসা ফারহান (৬৩), বাবর আজমের (২৫) যোগাযোগে তৃতীয় উইকেট জুটি আরো একটু লম্বা হলে পাকিস্তান স্কোর হয়তো ১৮০-১৯০ হতে পারতো। ফখর জামান (২৫), শাদাব খান (২৩) অন্তত একটি ইনিংস বিস্তৃত হলেও পাকিস্তানের পুঁজি বাড়তো। ইংল্যান্ড বোলার্সরা ডসন (৩/২৪), ওভারটন (২/২৬), আর্চার (২/৩২) নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিলে পাকিস্তান ইনিংস ১৬৪/৯ শেষ হয়। উইকেটের বিচারে রান অন্তত ১৫-২০ কম ছিল।
তবুও পাকিস্তান লড়াই করেছে। কাল বহু ম্যাচ পরে শাহীন আফ্রিদির বলে গতি আর মুভমেন্ট দুটোই ছিল। ৫৮ রানে টপ অর্ডারের ৪ উইকেট হারিয়ে কোনঠাসা হয়ে পড়েছিল। দেয়ালে পিঠ রেখে লড়াই করেই দলের ত্রাতা হিসাবে আবির্ভুত হলো দলনায়ক হ্যারি ব্রুক। ১০ চার আর ৪ ছক্কায় ৫১ বলে সংগ্রহ করা ১০০ রানের ইনিংস ইংল্যান্ডকে জয় ছিনিয়ে আনতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। ৫ বল বাকি থাকতে ১৬৬/৮ করে ২ উইকেটে ম্যাচ জয় করে ইংল্যান্ড।
আগের ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলংকাকে গুড়িয়ে দেওয়ার পর এই ম্যাচ জয় ইংল্যান্ডের সেমি ফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে। এখন দেখতে হবে বাকি তিন দলের (পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা) কোন দল ইংল্যান্ডের সাথী হয়।
পাকিস্তানের হয়ে কাল শাহীন আফ্রিদি (৪/৩০) ছিল সফল বলার। মোহাম্মদ নেওয়াজ (২/২৬) আর উসমান তারিক (২/৩১) ভূমিকা রেখেছিল। কিন্তু আগেই বলেছি পাকিস্তানের পুঁজি ১৫-২০ কম থাকায় শেষ রক্ষা হলো না। উপমহাদেশের তিনটি ক্রিকেটপ্রেমী দেশ পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলংকার টুর্নামেন্ট ভাগ্য এখন দোলক দোলায় দুলছে।