পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজে ফেভারিট বাংলাদেশ

আগামী কাল ১১ মার্চ থেকে শুরু হতে চলেছে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের তিন ম্যাচের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সিরিজ। ১৩ এবং ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা বাকি দুটি ম্যাচ। সবগুলো ম্যাচ হবে মীরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

পাকিস্তান সদ্য সমাপ্ত টি২০ বিশ্বকাপ খেলেছে শ্রীলংকায়। প্রথম রাউন্ডের গন্ডি পেরিয়ে গ্রুপ অফ এইটে যেতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ রাজনৈতিক পরিস্থিতির শিকার হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি। এই সিরিজ থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হবে।

মীরপুর উইকেটে পূর্ণ শক্তির বাংলাদেশ দল সিরিজ জয়ের জন্য ফেভারিট হিসাবেই বিবেচনা করবো। পাকিস্তান দল বাবর আজম, সাইয়ুম আইয়ুব, ফখর জামানকে বিশ্রামে রেখে বেশ কয়েকজন তরুণ খেলোয়াড় নিয়ে আসছে।

পাকিস্তান স্কোয়াড: শাহীন শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আব্দুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, হারিস রউফ, হোসাইন তালাত, মাজ সাদাত, মোহাম্মদ রেজওয়ান, মোহাম্মদ ওয়াসিম (জুনিয়র), মোহাম্মদ গাজী ঘোরী, শান মাসুদ, শাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলী আগা এবং সামিল হোসাইন।

বাংলাদেশ স্কোয়াড: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন কুমার দাস, আফিফ হোসাইন, মাহিদুল ইসলাম, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম, নাহিদ রানা।

পাকিস্তান দলে নেই দলের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বিশ্বমানের ব্যাটসম্যান বাবর আজম। দলে নেই অভিজ্ঞ ফখর জামান আর ওপেনিং ব্যাটসম্যান সাইয়ুম আইয়ুব। টি২০ বিশ্বকাপে দারুন ছন্দে থাকা শাহিবজাদা ফারহান, শান মাসুদ, মোহাম্মদ রিজওয়ান আর সালমান আলী আগা ছাড়া ব্যাটিং অনেকটাই নবীন খেলোয়াড় সমৃদ্ধ।

অপেক্ষাকৃত কঠিন উইকেটে বাংলাদেশের শক্তিশালী বোলিং মোকাবেলায় পাকিস্তানের ব্যাটিং সাফল্য নির্ভর করবে টপ অর্ডারের উপর। ফারহানের সঙ্গে নবীন খেলোয়াড় হিসাবে আছে আব্দুল সামাদ, মাজ সাদাত, মুহাম্মাদ গাজী ঘোরী, সাদ মাসুদ আর সামিল হোসাইন।

অভিজ্ঞ শাহীন আফ্রিদি, হারিস রউফ, আবরার, ফাহিম আশরাফ আর নবীনদের সমন্বয়ে গঠিত পাকিস্তান বোলিং আক্রমণ খেলতে  নিজেদের প্রমাণ করার জন্য বাংলাদেশের ক্ষুদার্থ ব্যাটসম্যানদের অসুবিধা হওয়ার কারণ দেখি না।

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে না পারার মনকষ্টে তেতে থাকার কথা। তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, নাজমুল শান্ত, তৌহিদ হৃদয়, লিটন দাস বাংলাদেশের বাটিংয়ে আছে প্রতিভা আছে বিকল্প।লেট মিডল অর্ডারে মেহেদী মিরাজের সঙ্গে থাকবে আফিফ হোসেন। সুযোগ হয়নি জাকের আলী, শামীম পাটোয়ারী, সোহান কারো।  বাংলাদেশকে পরিবর্তিত মীরপুর উইকেটে কিন্তু ম্যাচ জয়ের জন্য নিদেনপক্ষে ২৬০-২৭০ করতে হবে।

আমি বলবো এই মুহূর্তে বাংলাদেশ বোলিংয়ে আছে বৈচিত্র আর গভীরতা। তাসকিন, শরিফুল, মুস্তাফিজের সঙ্গে বিকল্প হিসাবে আছে নাহিদ রানা। রিশাদ হোসেন বিগ বাস খেলেছে অস্ট্রেলিয়ায় হোবার্টের হয়ে।তাসকিন আর মুস্তাফিজ ভালো ফর্মে আছে। পাকিস্তানকে কিন্তু বাংলাদেশের শক্তিশালী বোলিং মোকাবেলায় সংগ্রাম করতে হতে পারে।

আমার বিশ্লেষণে বাংলাদেশ সিরিজে ফেভারিট এমনকি বাংলাওয়াশ অর্জন করলেও অবাক হবো না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

10 + fourteen =