পাম্প বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই, ছুটির কারণে সরবরাহ সংকট আছে

ইরানে মার্কিন-ইসরাইল হামলার পর সৃষ্ট সংকট মোকাবেলায় প্রথমে তেল বিক্রিতে রেশনিং চালু ও পরে তা প্রত্যাহার করা হলেও রাজধানীসহ সারা দেশের পাম্পগুলোতে তেল বিক্রিতে স্বাভাভিক অবস্থা ফিরে আসেনি। গত ১৪ মার্চ তেল বিক্রিতে রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হলেও আজ ২৩ মার্চ পর্যন্ত পাম্পগুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা অব্যাহত আছে। আবার তেল না থাকার কারণে কোনো কোনো পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। এর মাঝে ছড়িয়ে পড়ে ডিপো থেকে তেল সরবরাহ স্বাভাভিক না হলে সকল পাম্প বন্ধ থাকবে।

তবে স্থায়ীভাবে পাম্প বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল। অন্যদিকে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক জানান, “ব্যাংক বন্ধ থাকায় মালিকরা পে অর্ডার করতে পারেননি, সে কারণে তেল তোলা যায়নি। ফলে অনেক পাম্পেই তেল পাওয়া যাচ্ছে না।”

পাম্পে তেল না পাওয়া প্রশ্নে সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানান, যে পরিমাণ চাহিদা তার তিন ভাগের একভাগও ডিপো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে না। যেখানে তেল আছে সেখানে খোলা, যেখানে নেই সেখানে বন্ধ। তবে স্থায়ীভাবে পাম্প বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অন্যদিকে নাজমুল হক জানান, “ব্যাংক বন্ধ থাকায় মালিকরা পে অর্ডার করতে পারেননি, সে কারণে তেল তোলা যায়নি। এ কারণে পাম্পগুলোতে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার ব্যাংক খুললে আশা করা যায় বুধবার থেকে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

এদিকে আজ রাজধানীসহ অনেক জায়গায় দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের জন্য পাম্পে পাম্পে দীর্ঘ লাইন। দুয়েকটি পাম্পে সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেকেই করছেন অপেক্ষাও। কিছু পাম্পে আবার ভিন্নচিত্রও দেখা গেছে। সরবরাহ থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে তেল।

মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনতে শুরু করলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার।

বিষয়টি নিয়ে রাতে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রবল আপত্তি জানায়। পরে রোজার ঈদ সামনে রেখে গত ১৪ মার্চ পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

তার মানে আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ ও বিক্রির কথা। কিন্তু পাম্প মালিক ও ক্রেতাদের অভিযোগ চাহিদা অনুযায়ী তেল মিলছে না৷ খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন যে শুরুতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কপো‍র্রেশন যথাযথ কৌশল নিতে ব্যর্থতার কারণে দেশব্যাপী প্যানিং বায়িং শুরু হয়।

স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে জ্বালানি তেল বিক্রি দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই অবস্থা মোকাবেলায় জ্বালানি বিভাগ রেশনিং শুরু করলে পরিস্থিতি আরো অবনতি হয়। ফলে জ্বালানি বিভাগ তার রেশনিং এর আদেশ প্রত্যাহার করে। কিন্তু বাজারে তেল সরবরাহ ও বিক্রিতে এখনো স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসেনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

13 − 2 =