পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: মিন্টু

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এ খাতে দুর্নীতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। খবর বাসস

দুর্নীতি প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের (নোয়াখালী-১) লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী গত ১৪ বছরে ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের বিভিন্ন প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী জানান, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর একটি প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বর্তমানে তদন্ত করছে।

২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর প্রকাশিত টিআইবি’র প্রতিবেদনে ২০০৯-১০ থেকে ২০২৩-২৪ সময়কালে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোতে ২ হাজার ১১০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু সংসদকে জানান, চলমান তদন্তে সহায়তার জন্য ট্রাস্ট ফান্ড ইতোমধ্যেই দুদক-এর চাহিদামতো তাদের কাছে সব নথি ও তথ্য সরবরাহ করেছে। ভবিষ্যতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি কয়েকটি কৌশলগত উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, অনলাইনে প্রকল্প তদারকি নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা বিভাগের পিপিএস (পিপিএস) সফটওয়্যারে প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণ অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলছে।

এছাড়া, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর জন্য নতুনভাবে প্রণীত মানদণ্ডের ভিত্তিতে প্রকল্প যাচাই-বাছাই করতে ১২ সদস্যের একটি কারিগরি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদারকি আরও জোরদার করতে ‘ট্রাস্ট ফান্ড মানি ইউজ পলিসি (সংশোধিত ২০২৫)’ প্রণয়ন এবং স্থায়ী আমানত ব্যবস্থাপনার হালনাগাদ নির্দেশিকা চালু করা হয়েছে।

মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু আরও জানান, অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাস্তব সময়ে তদারকির জন্য একটি ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা উন্নয়ন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

এ সময় মন্ত্রী পরিবেশ অধিদপ্তরের (ডিওই) সংস্কার কার্যক্রমও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ কমাতে পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে আনা হয়েছে।

এছাড়া, ডিওই কর্মকর্তাদের জন্য অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, নিয়মিত তদারকি এবং সততা বিষয়ক প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু আশ্বাস দেন, যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসদাচরণের অভিযোগ কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

two × 5 =