বাংলাদেশের ব্ল্যাক ক্যাপ্স চ্যালেঞ্জ

২০২৬ ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সুচির বাংলাদেশের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ এপ্রিল মাসে ক্রিকেটের অন্যতম পরাশক্তি নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের পরিচিত পরিবেশে ওডিআই এবং টি২০ সিরিজ। ভারত ও শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে বঞ্চিত হওয়ার পর বাংলাদেশ পূর্ববর্তী ঘরোয়া সিরিজে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে। নিউ জিল্যান্ড কিন্তু গুণে মানে সকল ফরম্যাটেই এখন অপেক্ষাকৃত সফল দেশ।

বাংলাদেশের জন্য কিন্তু নিউ জিল্যান্ড ভিন্ন মাত্রার চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে। আমি ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিচ্ছি না। বাংলাদেশের অবশ্যই সম্ভাবনা আছে ওডিআই এবং টি২০ সিরিজ জয়ের। কিন্তু সেটি করতে হলে বাংলাদেশকে নিজেদের সেরা পারফরমেন্স ধারাবাহিকভাবে করতে হবে।

বাংলাদেশের কিছু খেলোয়াড় এখন পাকিস্তানে পিএসএল খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। অবশিষ্টরা দেশে প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে নিউ জিল্যান্ড ভিন্ন পরিবেশে গ্রীষ্মের শুরুতে বাংলাদেশে আসলেও ওদের অধিকাংশ খেলোয়াড়দের উপমহাদেশে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। ভারতে আইপিএল খেলে অনেক খেলোয়াড়।

সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে চলতি মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দল। আসন্ন এই সফরের জন্য ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—দুই ফরম্যাটের আলাদা দল ঘোষণা করেছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট (এনজেডসি)। চোট কাটিয়ে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের প্রত্যাবর্তন এবং আইপিএলের কারণে নিয়মিত অধিনায়কের অনুপস্থিতিতে এক নতুন চেহারার কিউই দল দেখা যাবে এই সফরে।

নিউ জিল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলার কারণে এই সফর থেকে ছুটি নিয়েছেন। তার অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ সিরিজে কিউইদের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ ব্যাটার টম ল্যাথাম। ল্যাথামের নেতৃত্বে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে দল সাজিয়েছে নিউ জিল্যান্ড।

চোট কাটিয়ে বেশ কয়েকজন পেসারের ফেরা। ম্যাট ফিশার, উইল ও’রুর্ক এবং ব্লেয়ার টিকনার চোট সারিয়ে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। এর মধ্যে ও’রুর্ক ওয়ানডে দলে এবং টিকনার টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে ম্যাট ফিশার তার পারফরম্যান্স ও ফিটনেস প্রমাণ করে দুই ফরম্যাটের দলেই ডাক পেয়েছেন।

নিউ জিল্যান্ড ওডিআই স্কোয়াড: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ আব্বাস, আদিত্য অশোক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার, ডিন ফক্সক্রফট, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, হেনরি নিকোলস, উইল ও’রুর্ক, বেন সিয়ার্স, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার ও উইল ইয়াং।

টি ২০ স্কোয়াড: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), কাটিন ক্লার্ক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার, ম্যাট ফিশার, ডিন ফক্সক্রফট, বেভন জ্যাকবস, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, টিম রবিনসন, বেন সিয়ার্স, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি ও ব্লেয়ার টিকনার।

স্পষ্ট দৃশ্যমান নিউ জিল্যান্ড প্রথম একাদশের অধিকাংশ খেলোয়াড় বিশ্রামে রেখে তরুণদের প্রাধান্য দিয়েছে উপমহাদেশের বৈরী পরিবেশে মানিয়ে নিয়ে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে। ক্ষুদ্র দেশ সামান্য জনবলের দেশে কিন্তু ক্রিকেট মেধার কমতি নেই। দেশের ক্রিকেট কাঠামো অনেক সমৃদ্ধ।

আইসিসি ওডিআই  রাংকিংয়ে নিউ জিল্যান্ড এখন দ্বিতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ ৯ম। বাংলাদেশকে ২০২৭ ওডিআই বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে মার্চ ২০২৭র মধ্যে রাঙ্কিং ১-৮র মধ্যে উন্নত করতে হবে। সেই সূত্রে ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে অবশ্যই নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের জন্য সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। টি২০ রাংকিংয়ে নিউ জিল্যান্ড চতুর্থ, বাংলাদেশ ৯ম। এখানেও রয়েছে বিশাল ব্যাবধান। কিন্তু মনে রাখতে হবে মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অনেক সময় রাঙ্কিং বিবেচনায় আসে না।

কিছুদিন আগেও ওডিআই ছিল বাংলাদেশের প্রিয় ফরমেট। কিন্তু মাশরাফি, তামিম, মাহমুদুল্লাহ অবসর নেওয়ায় এবং রাজনৈতিক কারণে সাকিব আল হাসান ব্রাত্য হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ ওডিআই সিরিজে অনেকটা খেয়ে হারিয়ে ফেলেছে। পেস বোলিং আক্রমণ তাসকিন, মুস্তাফিজ, শরিফুল, নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ সমৃদ্ধ হলেও সাকিবের অনুপস্থিতিতে স্পিন আক্রমণ তথা বোলিং ভারসাম্য হারিয়েছে।

যদিও নিউ জিল্যান্ড দলে প্রতিষ্ঠিত অধিকাংশ ব্যাটসম্যান নেই তবুও তরুণদের হালকাভাবে নেওয়া যাবে নাঠ। সম্প্রতি দেখলাম টনি হেমিংসের আগমনে বাংলাদেশের উইকেটগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছে। আশা করি ওডিআই এবং টি২০ সিরিজ দুটি প্রাণবন্ত হবে।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের স্মার্ট ক্রিকেট জেলাতে হবে। টপ অর্ডার নিয়মিত সফল হতে হবে।একজন বা দুই জন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানকে ৩০-৩৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করে ব্যাটিং নিউক্লিয়াস হতে হবে। আশা করি বাংলাদেশ ওডিআই সিরিজ জিতে রাংকিং উন্নীত করতে পারবে।

সাম্প্রতিক সময়ে টি২০ ফরম্যাটে ভালো খেলছে বাংলাদেশ। নিউ জিল্যান্ড দলটি অনেকটাই অচেনা নবীন। কিভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয় দেখতে হবে। আশা করি বাংলাদেশ উভয় সিরিজের জন্য সঠিক দল নির্বাচন করবে। এই সিরিজ দুটিতে বাংলাদেশ সাফল্য পেলে ক্রিকেট অনেক এগিয়ে যাবে। অনেক হতাশা এবং বিতর্কের মাঝে ক্রিকেট আবার জেগে উঠবে সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।

মীরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম এবং দ্বিতীয় ওডিআই ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১৭ এবং ২০ এপ্রিল, ২৩ এপ্রিল তৃতীয় ওডিআই অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রামে। ২৭ এবং ২৯ এপ্রিল প্রথম এবং দ্বিতীয় টি ২০ ম্যাচ চট্টগ্রামে টি ২০ দুটি ম্যাচ হবার পর সফরকারী দল ২ মে শেষ ম্যাচ খেলবে মিরপুরে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen + 3 =