অপরিশোধিত তেল সংকটে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধের পর্যায়ে পৌঁছেছে। ডেডস্টক থেকে খুব সীমিতভাবে ইআরএল এর উত্পাদন চালু রাখা হয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলছেন, “এটিকে পুরোপুরি বন্ধ বলা যাবে না, ডেড স্টক দিয়ে কার্যক্রম চালু রাখা আছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ক্রুড অয়েল আমদানি করতে না পারায় ইআরএলের পরিশোধন কার্যক্রম নীমিত করতে হয়েছে। সূত্র বলছে আগামী মাসের শুরুর আগে নতুন ক্রড পাওয়ার সম্ভবনা নেই।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের কোনো চালান বাংলাদেশে আসেনি। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ দেশে আসে; সেই তেল দিয়ে ইআরএলে এতদিন শোধন প্রক্রিয়া চলছিল।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে গত মার্চ মাসে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েলের চালান দেশে আসার কথা ছিল। তেলভর্তি জাহাজটি গত ৩ র্মাচ সৌদি আরবের রাস তানুরা টার্মিনাল থেকে দেশে আসার কথা থাকলেও তা আসতে পারেনি।
সরকার বিকল্প উপায়ে সৌদি আরামকোর কাছ থেকে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল কেনার জন্য ঋণচুক্তি করেছে। আগামী মাসের শুরুতে সেটি দেশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন বিপিসির কর্মকর্তারা।
জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী রঙবেরঙকে বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি। সেকারণে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ক্রুড অয়েলের সংকট চরমে। তবে, পরিশোধিত তেল আমদানির মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখা হচ্ছে। ফলে ইআরএল বন্ধ হলেও আতংকিত হওয়ার সুযোগ নেই।”
তিনি জানান, ইআরএল এখনো বন্ধ হয়নি, ডেড স্টক দিয়ে চালু আছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একটি কোম্পানি। এটি দেশের একমাত্র শোধনাগার। এর বাইরে বেসরকারি পর্যায়ে কয়েকটি ফ্রাকশেনেশন প্লান্ট চালু আছে। সেখান থেকে দেশীয় ও আমসদানী করা কনডেনসে্ট ব্যবহগার করে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন অব্যাহত আছে।