বাতিল নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ প্রকল্প রিভিউ করা হচ্ছে

আর্ন্তবর্তিকালীন সরকারের সময় বাতিল করা ৩৭টি নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প রিভিউ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার| ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময় ৫,৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদনে ৩৭টি প্রস্তাব চূড়ান্ত করে লেটার অব ইনটেন্ড দেওয়া হয়েছিল|

সেন্টার ফর পলিসি ডাইলগ (সিপিডি) আয়োজিত ফোর্থ বাংলাদেশ চায়না রিনিয়েবল এনার্জি ফোরামে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি এই তথ্য জানান| তিনি বলেন, যে ৩৭টি এলওআই বাতিল করা হয়েছে তা রিভিউ করে আগামী ১০ দিনের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে| সুপারিশের আলোকে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ্য করেছেন|

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাদুবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাসটেনেবল ও রিনিয়েবল এনার্জি এসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ| তিনি বলেছেন যে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে দেশী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে|

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত বৃদ্ধি বিশেষ আইনের আওতায় গ্রহন করা আলোচ্য ৩৭টি প্রকল্প অ¯^চ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগে আর্ন্তবর্তিকালীন সরকারের সময় বাতিল করা হয়| এই ৩৭টি প্রকল্প রিভিউ করার জন্য বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে দফায় দফায় অনুরোধ জানানো হলেও অর্ন্তবর্তিকালীন সরকার তা বিবেচনায় নেয়নি| উল্টো নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্পের জন্য বাস্তবায়ন চুক্তি রহিত এবং পাওয়ার পারচেজ চুক্তিতে পরিবর্তন এনে ৫৫টি সোলার প্রকল্পের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলেও তাতে কোনো বিদেশী বিনিয়োগকারী অংশ নেয়নি| সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের সমীক্ষা অনুসারে প্রতিটি প্রকল্পের জন্য ১.৪টি করে প্রস্তাব পাওয়া যায়| এরমধ্যে থেকে ৯০০ মেগাওয়টের প্রকল্প চূড়ান্ত করে এলওআই ইস্যু করা হলেও কাজ পাওয়ার কোনো কোম্পানি এখনো চুক্তি ¯^াক্ষর করেনি|

এলওআই বাতিলের কারণে নবায়নযোগ্য শক্তি সম্প্রসারণে বিনিয়োগে অনাস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়| কিন্তু বিপুল জনরায় নিয়ে সরকার গঠনের পর ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে| সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায়র ˆবঠকে এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়|

এর আগে পিপিপির আওতায় নবায়নযোগ্যশক্তি প্রকল্প উন্নয়নের জন্য জমি বরাদ্ধ নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে| সরকারের সকল সংস্থাকে তাদের পড়ে থাকা জমি চিহ্নিত করে সেখানে সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে| সরকারি জমি চিহ্নিত করার পর পিপিপির আওতায় বেরকারি খাতের কাছ থেকে প্রস্তাব চাওয়া হবে|

সাসটেনেবেল এন্ড রিনিয়েবল এনার্জি ডেভলপমেন্ট অথরিটির তথ্যানুসারে দেশের ২৩০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ, ৬২ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ সহ মোট নবায়নযোগ্য শক্তি সক্ষমতা ১,৭৩৮ মেগাওয়াট| তারমধ্যে গ্রীডে যুক্ত ১,৩৬০ মেগাওয়াট| যার মধ্যে সিংহভাগ ১০৬৮ মেগাওয়াট সোলার| জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা অনুসারে ২০৩০ সালের মধ্যে এই সক্ষমতা মোট বিদ্যুতের ২০ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে|

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ৩৭টি প্রকল্প বাতিল করার কারণে সোলার বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ গতি হারিয়েছে এবং উদ্যোক্তারা দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিকাশের বিনিয়োগে আগ্রহ হারিছে| আবার বাস্তবায়ন চুক্তি না থাকা এবং পাওয়ার পারচেজ চুক্তিতে পরিবর্তন আনার কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়েছে| ফলে বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলো মূল্যায়নের পাশাপাশি সোলার প্রকল্পের ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন চুক্তি ফিরিয়ে আনা এবং পিপিএ‘র শর্ত পরিবর্তন করে বিনিয়োগ ফিরে পাওয়ার গ্যারান্টি নিশ্চিত না করা হলে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ সক্ষমতা সম্প্রসারণেল লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না|

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 + twenty =