হৃদয়ের দুর্দান্ত ইনিংসে রেকর্ড জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশের

তাওহিদ হৃদয়ের ঝড়ো হাফ-সেঞ্চুরির সাথে পারভেজ হোসেন ইমন এবং শামীম হোসেনের ক্যামিও ইনিংসের সুবাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আজ সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে হারিয়েছে নিউজিল্যান্ডকে। এই জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লিটন দাসের দল। খবর বাসস

টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রান করে নিউজিল্যান্ড। জবাবে ২ ওভার বাকী থাকতে ৪ উইকেটে ১৮৩ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। আগেরটি ২০২৫ সালে চট্টগ্রামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ।

চার নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ২৭ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন হৃদয়। ইমন ১৪ বলে ২৮ এবং শামীম ১৩ বলে অপরাজিত ৩১ রান করেন।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রন জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস।

দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট শিকারের আনন্দে মেতে উঠে বাংলাদেশ শিবির। ফিল্ডার তাওহিদ হৃদয়ের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে খালি হাতে ফিরেন নিউজিল্যান্ড ওপেনার টিম রবিনসন।

দলীয় ১১ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেঁধে বাংলাদেশ বোলারদের উপর চড়াও হন নিউজিল্যান্ডের আরেক ওপেনার কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভার। পাওয়ার প্লে’তে ৬১ রান জমা করেন তারা।

স্পিনার রিশাদ হোসেনের করা দশম ওভারের তৃতীয় বলে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ক্লিভার। ঐ ওভারের চতুর্থ ডেলিভারিতে লেগ বিফোর আউট হন ক্লিভার। ২৮ বলে ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫১ রান করেন তিনি।

দলীয় ৯৯ রানে ক্লিভার ফেরার পর টি-টোয়েন্টিতে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ক্লার্ক। কিন্তু ক্লার্কও ইনিংস বড় করতে পারেননি। রিশাদের বলে হৃদয়কে ক্যাচ দিয়ে আউট হন ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ বলে ৫১ রান করা ক্লার্ক। দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ বলে ৮৮ রান যোগ করেন ক্লার্ক ও ক্লিভার।

এরপর মিডল অর্ডারে দ্রুত দুই উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। বেভন জ্যাকবসকে ১ রানে তানজিম হাসান এবং ডিন ফক্সক্রফটকে ৩ রানে আউট করেন স্পিনার মাহেদি হাসান। এতে ১৫ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১৩০ রান তুলে নিউজিল্যান্ড।

ষষ্ঠ উইকেটে ১৭ বলে ৩২ রান যোগ করে নিউজিল্যান্ডকে বড় সংগ্রহের পথ দেখান এ ম্যাচের অধিনায়ক নিক কেলি ও জশ ক্লার্কসন। ১৮তম ওভারে দলকে ১৬২ রানে রেখে বাংলাদেশের পেসার শরিফুল ইসলামের শিকার হন কেলি। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ২৭ বলে ৩৯ রান তুলেন তিনি।

ইনিংসের শেষ ১৩ বলে ২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে নিউজিল্যান্ডকে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮২ রানের সংগ্রহ এনে দেন ক্লার্কসন ও নাথান স্মিথ। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৪ বলে অপরাজিত ২৭ রান করেন ক্লার্কসন। ২ রানে অপরাজিত থাকেন স্মিথ।

বল হাতে বাংলাদেশের রিশাদ ২টি, শরিফুল-তানজিম ও মাহেদি ১টি করে উইকেট নেন।

১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩৩ বলে ৪১ রানের সূচনা করে বাংলাদেশ। জুটিতে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৬ বলে ১৭ রান করে থামেন সাইফ।

সাইফের বিদায়ে ক্রিজে এসে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ভালো শুরু করেন অধিনায়ক লিটন। কিন্তু নিউজিল্যান্ড স্পিনার ইশ সোধির শিকার হয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। ১৫ বলে ২১ রানে থামেন টাইগার দলপতি।

লিটন ফেরার কিছুক্ষন পর সোধির দ্বিতীয় শিকার হন তানজিদ। ওয়ানডে মেজাজে খেলে ২৫ বলে ২০ রান করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। এতে ১১তম ওভারে ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

চাপে থাকা বাংলাদেশকে লড়াইয়ে ফেরাতে নিউজিল্যান্ড বোলারদের উপর চড়াও হন তাওহিদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। দু’জনের ২৮ বলে গড়া ৫৭ রানের জুটিতে জয়ের লড়াইয়ে ফিরে বাংলাদেশ।

১৫তম ওভারের পঞ্চম বলে আউট হন ইমন। ১ চার ও ২ ছক্কায় ১৪ বলে ২৮ রান করেন তিনি।

ইমন যখন ফিরেন তখন ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৩১ বলে ৪৯ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের। পঞ্চম উইকেটে শামীম হোসেনকে নিয়ে ২১ বলে ৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ১২ বল বাকী থাকতে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন হৃদয়।

এই জুটিতে ২৬ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন হৃদয়। ২টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৭ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ১৩ বলে অনবদ্য ৩১ রানের ইনিংস খেলার পথে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন শামীম। নিউজিল্যান্ডের সোধি ২ উইকেট নেন।

চট্টগ্রামেই আগামী ২৯ এপ্রিল সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

নিউজিল্যান্ড : ১৮২/৬, ২০ ওভার (ক্লিভার ৫১, ক্লার্ক ৫১, রিশাদ ২/৩২)।

বাংলাদেশ : ১৮৩/৪, ১৮ ওভার (হৃদয় ৫১*, শামীম ৩১*, সোধি ২/৪০)।

ফল : বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : তাওহিদ হৃদয় (বাংলাদেশ)।

সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × five =