
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টি ২০ সিরিজ
চট্টগ্রামের সাগরিকায় সার্জেন্ট জহুরুল হক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টি২০ সিরিজের প্রথম ম্যাচে কাল স্বল্প অভিজ্ঞ নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশকে ১৮৩ রানের কঠিন টার্গেট দিয়েছিল। সরকারি সিদ্ধান্তে টি২০ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ হারানো বাংলাদেশ জ্বলছিল অন্তর জ্বালায়। জয়ের নেশায় ক্ষুদার্থ বাংলাদেশ দারুন ব্যাটিং করে ১২ বল হাতে রেখেই ১৮৩/৪ করে ৬ উইকেটে ম্যাচ জয় করে সিরিজে এগিয়ে গেল। জয়ের মূলে ছিল তাওহীদ হৃদয়ের হৃদয় হরণকারী ২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রান, সঙ্গে শামীম পাটোয়ারী (১৩ বলে অপরাজিত ৩১) আর পারভেজ ইমনের ১৪ বলে ২৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংস। ম্যাচ জয়টির অনুভূতি ছিল গ্রীষ্মের তীব্র দাবদহের ম্যাচে সুশীতল বারিধারা।
হতে পারে নিউজিল্যান্ড দলটি স্বল্প অভিজ্ঞ আনকোরা নবীন, কিন্তু ওরা আগে ব্যাটিং করে ১৮২/৬ উইকেটের বিশাল স্কোর গড়েছিল। দেখার মতো ছিল ওপেনার কাটিন ক্লার্ক (৫১) আর ৩ নম্বরে ব্যাটিং করা ডান ক্লিভারের (৫১) রান আর দ্বিতীয় উইকেট জুটির দ্রুত ৮৮ রানের পার্টনারশিপ। একসময়ের মনে হয়েছিল ব্ল্যাক ক্যাপ্স ইনিংস ২০০ রান পেরিয়ে যাবে। সহজ ব্যাটিং উইকেটে বাংলাদেশের কিছুটা খর্বশক্তির বোলিং নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে নিউজিল্যান্ড ইনিংসকে ১৮২/৬ রানে সীমিত রেখেছিলো।
তবুও ১৮৩ রান তাড়া করে জয় সহজ ছিল না মোটেও। বাংলাদেশ বোলারদের মাঝে রিশাদ হোসেন (২/৩২) ছাড়া বাকিরা খুব ভালো করেছে বলবো না। তবুও ১১.৪ ওভারে ৩/১১০ অবস্থান থেকে নিউজিল্যান্ডকে ধরা ছোয়ার মাঝেই রেখেছিল বাংলাদেশ। বলতেই হবে লিটন চাপের মুখে নিজেদের বোলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চাপ সৃষ্টি করে অতিথিদের ইনিংস বাধনহারা হতে দেননি। যাহোক দ্বিতীয় ম্যাচে শরিফুলকে বিশ্রাম দিয়ে সাইফুদ্দিনকে খেলানো যেতে পারে।
বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতে উইকেটের চরিত্র পাল্টে কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়েছিল।তানজিদ তামিম, সাইফ হাসান জুটি ধীরে সুস্থে ৫.৩ ওভারে ৪১ রান তুলে সমীকরণ কঠিন করে দিয়েছিল। বিশেষ করে তানজিদ তামিম স্বভাব বিরুদ্ধ শ্লথ ইনিংস (২৫ বলে ২০ রান) খেলে মিডেল অর্ডার ব্যাটসম্যানদের চাপে ফেলেছিল। লিটন দাস ১৫ বলে ২১ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলার পর পারভেজ ইমন (২৮) আর তাওহীদ হৃদয় (৫১*) ৭৭ রানের জুটি খেলার ধারা পাল্টে দেয়।
উইকেটে এসে শামীম পাটোয়ারীর ১৩ বলের অপরাজিত ইনিংস ৩১ রানের টর্নেডো ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। ওডিআই সিরিজে স্ট্রাইক রেট নিয়ে সংগ্রাম করতে তাওহীদ হৃদয় খেলে ২৭ বলে অপরাজিত ৫১ রানের মুক্তা জ্বলা ইনিংস। বাংলাদেশ দুই ওভার হাতে রেখে ৬ উইকেটের দাপুটে জয় দিয়ে সিরিজে ১-০ এগিয়ে যায়। বাংলাদেশ ইনিংসে ছিল ১১ চার আর ৯ ছক্কা। এই ধরনের পাওয়ার হিটিং সক্ষমতা ধারাবাহিকভাবে করা এখন বাংলাদেশের স্ট্রাটেজি হওয়া উচিত বলে মনে করি।
স্বল্প অভিজ্ঞ নিউজিল্যান্ড দল ব্যাটিং বোলিং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি। ব্যাটিং করার সুময় সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও ২০-২৫ রান কম করেছে। ৫ জন আন্তর্জাতিক মানের বোলার না থাকায় স্লগ ওভারে শামীম পাটোয়ারী, তাওহীদ হৃদয়ের সংহারী রুদ্র মূর্তির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। কাল অধিনায়ক টম লাথাম খেলেনি। একমাত্র সোধি ছাড়া সবাই ছিল নবীন। কিন্তু তাই বলে দলটিকে দুর্বল ভাবার কোন কারণ ছিল না।
খেলায় বাংলাদেশ দলের আগ্রাসী শরীরী ভাষা বলে দিয়েছে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ বঞ্চিত দলটি জয়ের জন্য কতটা ক্ষুধার্থ ছিল।
সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড
নিউজিল্যান্ড ১৮২/৬ (কাটিন ক্লার্ক ৫১, ডান ক্লেভার ৫১, নিক কেলি ৩৯, জোস্ ক্লার্কসন ২৭*, রিশাদ হোসেন ২/ ৩২)
বাংলাদেশ ১৮৩/৪ (তাওহীদ হৃদয় ৫১*, শামীম পাটোয়ারী ৩১*, পারভেজ হোসেন ইমন ২৮, লিটন কুমার দাস ২১, তানজিদ তামিম ২০, সোধি ২/৪০)
বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় তাওহীদ হৃদয়।