জাপান – নেদারল্যান্ডস দৈরথ ছিল মনোমুদ্ধকর ফুটবল প্রদর্শনী

জাপান ২ নেদারল্যান্ডস ২

সালেক সুফী

টেক্সাসের ডালাসে অনুষ্ঠিত এফ গ্রুপের জাপান -নেদারল্যান্ডস ম্যাচটি ছিল গতি ছন্দ, সৃজনশীল ফুটবলের অনুপম প্রদর্শনী। হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ের এই ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের টিকি টাকা ফুটবল মোকাবেলায় জাপানিজদের সামুরাই ফুটবল ছিল দর্শনীয়। দুই দুই বার গোল করে ডাচরা এগিয়ে গেলেও দুইবার গোল ফিরে আসে। ২-২ সমতায় শেষ হওয়া ছিল খেলাটির স্বাভাবিক পরিণতি।  সেয়ানে সেয়ানে লড়াই হওয়া এই খেলায় পয়েন্ট ভাগাভাগি হয়েছে যথার্থ।

বিশ্বের দুটি সুন্দর দেশ নেদারল্যান্ডস (টিউলিপ) এবং জাপান (চেরি) ফুটবলকে শিল্পে পরিণত করেছে। ১৯৯৮ নেদারল্যান্ডসে এবং ২০০০ জাপান দেখার সুযোগ হয়েছে। আজ কুইন্সল্যান্ডের লোগান সিটিতে বসে শীতের সকালে দুই দলের খেলা আমরা তিন প্রজন্ম প্রানভরে উপভোগ করেছি। টেলিভিশনের বড় পর্দায় ডালাসের ফুটবল মাঠের সবুজ গালিচায় কমলা আর নীল দলের শিল্পিত ফুটবল দেখে মনে হয়েছে ভিডিও গেম। আক্রমণ আর প্রতিআক্রণে জীবন্ত খেলাটিতে কোন দল পুরো নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। শুরুতে ডাচরা বেশি আক্রমণাত্মক থাকলেও নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে জাপানিরাও সমান তালে লড়তে থাকে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য ব্যবধানে শেষ হওয়ার পর চারটি গোলই হয়েছে পরের অর্ধে। ৫১ মিনিটে ডাচ অধিনায়ক ভার্জিন ফন ডাইকের গোল শোধ করেন জাপানের কেইতো নাকামুরা। ৬৪ মিনিটে সামারভিলের গোলে ডাচরা আবারও এগিয়ে গেলেও কামাদার গোলে শেষ পর্যন্ত ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে এশিয়ার দলটি।

ম্যাচের বয়স তখন ৫১ মিনিট। ভার্জিল ফন ডাইকের গোলে এগিয়ে গেল নেদারল্যান্ডস। ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে হেড করে গোল করেন ডাচ তারকা। বক্সে লিভারপুল ডিফেন্ডারের সেই চিরাচরিত হেডে গোল। বল পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।পিছিয়ে পড়ার মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় ম্যাচে সমতা ফিরিয়েছে জাপান। ৫৭ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে গড়া দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোলটি করেছেন মিডফিল্ডার কেইতো নাকামুরা। ১-১। এর পর থেকেই দুটি দল জয়সূচক গোল পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। ৫১–৬৪ এই ১৩ মিনিটে আসল তিন গোল। ১–১ সমতা ফেরার পর ৬৪ মিনিটে নেদারল্যান্ডসের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল ২-১। অদম্য জাপানিজরা মৌমাছির মত চেকে ধরে ডাচদের।  ৮৮ মিনিটে কামাদার গোলে শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতা আসে খেলায়। এফ গ্রুপের অন্য দুটি দল সুইডেন টিউনিসিয়া। জাপান নেদারল্যান্ডস দুটি দল অবধারিতভাবে টুর্নামেন্টের গভীরে যাবে। ডাচদের ধরা হচ্ছে টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য বিজয়ী হিসাবে। ১৯৭৪, ১৯৭৮ অদম্য ডাচ দল ফাইনালে উঠেও হেরে যায় জার্মানি আর আর্জেন্টিনার কাছে। দেখা যাক এবার কি করে কমলা সুন্দরীদের দেশ নেদারল্যান্ডস। আর জাপানিজরাও কিন্তু হাল ছেড়ে দেয় না কখনো সেটি আবারো দেখলো ফুটবল বিশ্ব আজ।

ভালো লাগছে এশিয়ার দেশগুলো এখন পর্যন্ত কোন ম্যাচ হরেনি। এমনকি জয় পেয়েছে আমাদের দেশ অস্ট্রেলিয়া।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × one =