বিশ্বকাপের ইতিহাসের ক্ষুদ্রতম দেশ কুরাসাওকে গোল বন্যায় ভাসালো জার্মানী 

জার্মানি ৭  কুরাসাও ১

সালেক সুফী

হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের আজকের প্রথম ম্যাচে গোল বন্যায় ৭-১ গোলে বিশ্বকাপে নবাগত কুরাসওকে ভাসিয়ে দিয়েছে ফুটবল পরাশক্তি জার্মানী ম্যাচটা যে অসম হতে যাচ্ছে সেই ইঙ্গিত আগে থেকেই ছিল। ম্যাচের ৬ মিনিটে ফেলিক্স এনমেচা জার্মানির হয়ে প্রথম গোলটি করেন। কিন্তু এরপর ২১ মিনিটে ইতিহাস গড়া সমতাসূচক গোলটি করে কুরাসাও। জনসংখ্যার হিসাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্ষুদ্রতম দেশটির হয়ে গোল করনে লিভানো কোমেনেনসিয়া। তবে ম্যাচে কুরাসাওয়ের প্রাপ্তি অইটুকুই। অনেকে জার্মানীর ৭-১ গোলের জয়কে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে একই ব্যাবধানে জয়ের কথা স্মরণ করিয়েছেন। অনেকেই কিন্তু জার্মানিকে এবারের বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসাবে বিবেচনা করছেনা। জার্মানী হয়তো এই বিশাল জয়ে তাদের বার্তা দিলো।

জনসংখ্যার হিসাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাঁরা ক্ষুদ্রতম দেশ। এবারই বিশ্বকাপে অভিষেক। আর অভিষেকেই ৪ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং বরাবরের অন্যতম শিরোপা সম্ভবা জার্মানির মুখোমুখী হয়ে বিশ্বকে চমকে দেয় ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার   ক্ষদ্র দেশটি কুরাসাও। জার্মানিকে হারাবে বা রুখে দিবে এটি কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি। প্রত্যাশিত ভাবেই জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছে। কিন্তু ম্যাচ শুরুর ভেনেজুয়েলা উপকূল থেকে ৫৪ কিলোমিটার দূরে ক্যারিবিয়ান উপসাগরের ক্ষুদ্র দ্বীপদেশ। নেদারল্যান্ডস প্রভাবিত একটি স্বায়ত্তশাসিত দেশ।

হিউস্টোনে অনুষ্ঠিত এই খেলায় ৬ মিনিটেই জার্মানির মিড্ ফিল্ডার এনমেচা গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়েছিল। পুচকে কারাসও কিন্তু মুষড়ে পরেনি। ২১ মিনিটে দলের হয়ে গোল পরিশোধ করে ইতিহাস সৃষ্টি করে কোমেনেনসিয়ার।বক্সের ভেতর থেকে কুরাসাও রাইটব্যাক লিভানো কোমেনেনসিয়ার বাঁ পায়ের শট ঠেকাতে পারেননি জার্মানি গোলকিপার ম্যানুয়েল নয়্যার ১-১।  খেলার পরিণতি কি হবে সবার জানা। তবে বিশ্ব ফুটবলে অজানা অচেনা একটি দেশ অন্তত কিছু সময়ের জন্য জার্মানির মত দেশের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে সেটি  বিশ্বকাপ ফুটবলের বিশ্বায়নের পথে বিশাল অর্জন।

প্রবল প্রতাপশালী প্রতিদ্বন্দীর সঙ্গে বেশি সময় টিকে থাকতে পারে নি কুরাসও। ৩৮ মিনিটে কর্নার থেকে সহজ হেডে গোল করেন জার্মানির ডিফেন্ডার নিকো শ্লটারবেক। ২–১ গোলে এগিয়ে জার্মানি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে মুহূর্তে পেনাল্টি পায় জার্মানি। জার্মানির মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা কুরাসাওয়ের বক্সে ফাউলের শিকার হন যোগ করা সময়ে। পেনাল্টি থেকে গোল করেন জার্মানি ফরোয়ার্ড কাই হাভার্টজ।

৩–১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে জার্মানি। বিরতির পরপরই ব্যবধান বাড়িয়েছেন জামাল মুসিয়ালা। ইয়োশুয়া কিমিখের পাস ধরে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোলটি করেন মুসিয়ালা। ম্যাচে জার্মানি এগিয়ে  যায় ৪–১ গোলে। জার্মানদের হয়ে ৫ম গোলটি করলেন নাথানিয়েল ব্রাউন ৫-১ । ম্যাচের ৬৮ মিনিটে গোলটির করেন এই লেফটব্যাক। জার্মানির হয়ে এবার ৬ষ্ঠ গোলটি করলেন ডেনিজ উনদাভ ৬-১ । ম্যাচের ৭৮ মিনিটে এসেছে এই গোলটি। কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির হয়ে ৭ম গোলটি করেছেন হাভার্টজ ৭-১ । ম্যাচে এটি হাভার্টজের দ্বিতীয় গোল।

আমি বিষয়টাকে ভিন্ন ভাবে দেখতে চাই। ক্ষুদ্র একটি দেশ বিশ্বকাপে প্রথম আবির্ভাবে ফুটবল পরাশক্তির সাথে বিপর্যস্ত হবে সেটি ছিল স্বাভাবিক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

twelve + 14 =