বিতর্কিত পেনাল্টি নিয়ে তোলপাড়: ‘সেনেগালকে ডাকাতি করে হারানো হয়েছে’—ইব্রাহিমোভিচ

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশে বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেনেগালের নাটকীয় পরাজয়ের পর বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে শেষ মুহূর্তের পেনাল্টির সিদ্ধান্ত। ম্যাচ শেষে সাবেক সুইডিশ তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ দাবি করেছেন, ‘সেনেগালের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।’

ম্যাচের ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল সেনেগাল। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পাওয়ার স্বপ্ন তখন হাতছানি দিচ্ছিল আফ্রিকার দলটিকে। তবে শেষদিকে বেলজিয়ামের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের পর অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে (১২৫ মিনিটে) ভিএআর পর্যালোচনার ভিত্তিতে পাওয়া একটি বিতর্কিত পেনাল্টি ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত ল্যামিন কামারার চ্যালেঞ্জে বেলজিয়ামের ইউরি টিলেমানস বক্সের ভেতরে পড়ে গেলে। প্রথমে খেলা চালিয়ে দিলেও পরে ভিএআরের সহায়তায় রেফারি সাইদ মার্তিনেজ পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় বেলজিয়ামের জয় এবং বিদায় নেয় সেনেগাল।

ম্যাচ শেষে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন সুইডেনের সাবেক তারকা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। যুক্তরাষ্ট্রের ফক্স স্পোর্টসকে তিনি বলেন, “আমার মতে এটি কোনোভাবেই পেনাল্টি ছিল না। সেনেগালের কাছ থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষটি ছিল খুবই সামান্য, কিন্তু বেলজিয়ামের খেলোয়াড় সেটিকে বাড়িয়ে দেখিয়েছে এবং রেফারি বিভ্রান্ত হয়েছেন।”

ইব্রাহিমোভিচ আরও বলেন, “এটাই আধুনিক ফুটবলের বড় সমস্যা। ফরোয়ার্ডরা জানে, ডি-বক্সে সামান্য স্পর্শ পেলেই পড়ে গিয়ে ভিএআরের মাধ্যমে পেনাল্টি আদায় করা সম্ভব। পেনাল্টি এমন সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, যা নিয়ে ১০টি রিপ্লে বা পাঁচ মিনিটের বিতর্কের প্রয়োজন না পড়ে।”

তার মতে, নকআউট পর্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ভাগ্য এমন ‘সফট পেনাল্টি’ দিয়ে নির্ধারণ করা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমি যদি সেনেগালের জায়গায় থাকতাম, তাহলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতাম। আফ্রিকান দলগুলোর বিপক্ষে এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত বারবার দেখা যাচ্ছে।”

এর আগে একই দিনে ইংল্যান্ড-কঙ্গো ম্যাচেও পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। প্রথমার্ধে কঙ্গোর গোলরক্ষক লায়নেল এমপাসির সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে গেলেও ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেনকে পেনাল্টি দেননি রেফারি।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার মনে করেন, সেটি পরিষ্কার পেনাল্টি ছিল। বিবিসিকে তিনি বলেন, “গোলরক্ষকের সঙ্গে স্পষ্ট শারীরিক সংঘর্ষ হয়েছে। আমার মতে, এটি পেনাল্টি হওয়া উচিত ছিল।”

তবে সাবেক স্ট্রাইকার ওয়েইন রুনি ভিন্নমত পোষণ করেন। তার ভাষ্য, “হ্যারি কেন নিজেই নিজের ভারসাম্য হারিয়ে গোলরক্ষকের ওপর পড়ে যান। সেখানে স্পর্শ ছিল ঠিকই, কিন্তু রেফারি পেনাল্টি না দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন।”

দুটি ম্যাচে ভিএআর ও পেনাল্টি নিয়ে ভিন্নধর্মী সিদ্ধান্ত নতুন করে ফুটবলে রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা এবং ভিএআরের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে সেনেগাল-বেলজিয়াম ম্যাচের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিতর্কে পরিণত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

1 + 20 =