বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ল মার্কিনরা। কানাডা ও মেক্সিকোর পর তৃতীয় স্বাগতিক দল হিসেবে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়ায় উত্তর আমেরিকাজুড়ে এখন বিশ্বকাপ উন্মাদনা তুঙ্গে।
তবে এই জয় মোটেও সহজ ছিল না। ম্যাচজুড়ে বসনিয়া কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুললেও কৌশলগত ফুটবল, শৃঙ্খলিত রক্ষণ এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার করে জয় নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। ৪৫তম মিনিটে মালিক টিলম্যানের পাস বসনিয়ার দুই ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফোলারিন বালোগানের সামনে চলে আসে। একা গোলরক্ষক নিকোলা ভাসিলজকে পেয়ে কোনো ভুল করেননি এই স্ট্রাইকার। তার নিখুঁত ফিনিশিংয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারত। ৬৪তম মিনিটে বসনিয়ার মুহারোমোভিচের ওপর বিপজ্জনক ট্যাকলের দায়ে প্রথমে হলুদ কার্ড দেখলেও ভিএআরের পরামর্শে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে প্রায় আধাঘণ্টা ১০ জনের দল নিয়ে খেলতে হয় যুক্তরাষ্ট্রকে।
সংখ্যাগতভাবে পিছিয়ে পড়লেও আত্মবিশ্বাস হারায়নি স্বাগতিকরা। বরং ৮২তম মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মালিক টিলম্যান। তার নিখুঁত শটে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের।
এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোয় ইউরোপের শক্তিশালী দল বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী মঙ্গলবার ভোরের সেই ম্যাচে কঠিন পরীক্ষার অপেক্ষায় থাকবে স্বাগতিকরা।

এদিকে তিন স্বাগতিক—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—একযোগে শেষ ষোলোয় পৌঁছানোয় উত্তর আমেরিকাজুড়ে বিশ্বকাপের উন্মাদনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও পরবর্তী পর্বে তিন দলই কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে। যুক্তরাষ্ট্র খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে, মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্স এবং কানাডার সামনে থাকবে মরক্কোর চ্যালেঞ্জ।
কাগজে-কলমে তিন স্বাগতিকই আন্ডারডগ হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে অঘটনের সম্ভাবনা কখনোই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।