নকআউটে গোলের অপেক্ষায় রোনালদো, ভাঙবে কি দীর্ঘ খরা?

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতাদের একজন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দুই দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অসংখ্য রেকর্ড গড়া এই পর্তুগিজ তারকা প্রায় সব বড় টুর্নামেন্টেই নিজের ছাপ রেখেছেন। তবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখনো গোলশূন্য থাকাই তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অপূর্ণতা।

শুক্রবার ভোরে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে মাঠে নামবে পর্তুগাল। দলকে শেষ ষোলোয় তোলার পাশাপাশি নকআউট পর্বে গোল না করার দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগও থাকবে রোনালদোর সামনে।

২০০৬ সালে বিশ্বকাপে অভিষেকের পর থেকে শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনাল মিলিয়ে আটটি নকআউট ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এই সময়ে নেদারল্যান্ডস, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, স্পেন, উরুগুয়ে, সুইজারল্যান্ড ও মরক্কোর মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাঠে নামলেও একবারও গোলের দেখা পাননি।

এ পর্যন্ত বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ৬৫০ মিনিটের বেশি সময় খেলেও গোল করতে না পারা রোনালদোর মতো একজন ফরোয়ার্ডের জন্য বিস্ময়কর পরিসংখ্যান। অথচ ক্লাব ফুটবল, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং উয়েফা নেশনস লিগসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তিনি ধারাবাহিকভাবে গোল করে গেছেন।

চলতি বিশ্বকাপে রোনালদোর পারফরম্যান্সও ছিল ওঠানামার। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান। ম্যাচ শেষে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “I am back.” তবে পরবর্তী ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে তিনি তেমন প্রভাব ফেলতে পারেননি।

বিশ্বকাপে রোনালদোর মোট ১০টি গোলের সবই এসেছে গ্রুপ পর্বে। ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তিও গড়েছেন তিনি। কিন্তু নকআউট পর্বে প্রথম গোলের অপেক্ষা এখনও শেষ হয়নি।

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু পর্তুগালের জন্যই নয়, রোনালদোর ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কোটি ভক্তের প্রত্যাশা, এবার হয়তো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বেও গোলের খরা কাটিয়ে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করবেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই গোলস্কোরার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × four =