জলবায়ু ও আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদারে একমত বাংলাদেশ-আইসিআইএমওডি

ব্যাংকক, ২ জুলাই ২০২৬: জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পরিবেশগত সুশাসন জোরদারে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (আইসিআইএমওডি)।

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং আইসিআইএমওডির মহাপরিচালক পেমা গ্যাতশো এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

বৈঠকে আইসিআইএমওডির মহাপরিচালক বাংলাদেশের সক্রিয় সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন এবং হিমবাহ-উৎসারিত নদী ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অভিন্ন নদীর টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত আন্তঃসীমান্ত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং আইসিআইএমওডির মধ্যমেয়াদি মূল্যায়ন ও কৌশলগত পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সমর্থন কামনা করেন।

প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশে আইসিআইএমওডির জাতীয় ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে মনোনীত করার প্রস্তাবও আলোচনায় উঠে আসে। এ বিষয়ে মন্ত্রী প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিষয়টি তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করবেন।

মন্ত্রী আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য আইসিআইএমওডির বোর্ড সভায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং সংস্থার মধ্যমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহযোগিতাসহ ভবিষ্যতেও সংস্থাটির বিভিন্ন উদ্যোগে বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।

উভয় পক্ষই উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রধান নদীর উৎপত্তি প্রতিবেশী দেশগুলোতে হওয়ায় আন্তঃসীমান্ত জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন এবং পর্বত থেকে বদ্বীপ (Mountain-to-Delta) বাস্তুতন্ত্রের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বৈঠকের শেষে বাংলাদেশ ও আইসিআইএমওডি দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রশংসা করে ভবিষ্যতে জলবায়ু, পরিবেশ ও অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 × 5 =