উপকূল সুরক্ষা ও জলবায়ু অভিযোজনে ব্লু কার্বন অর্থায়ন জোরদারের আহ্বান বাংলাদেশের

ব্যাংকক (থাইল্যান্ড), ২ জুলাই ২০২৬ – উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং ডেল্টা অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ব্লু কার্বন অর্থায়ন (Blue Carbon Finance) সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জাতিসংঘ সম্মেলন কেন্দ্রে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন (ESCAP) এবং ল্যান্ডস্কেপ অ্যালায়েন্স আয়োজিত ‘এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমন্বিত জলবায়ু কার্যক্রম ত্বরান্বিতকরণ: ব্লু কার্বন অর্থায়নের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে এ আহ্বান জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

মন্ত্রী বলেন, ব্লু কার্বনভিত্তিক বাস্তুতন্ত্রকে শুধু পরিবেশগত সম্পদ হিসেবে নয়, বরং জলবায়ু, জনসম্প্রদায় এবং টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদারেরও আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ মানুষ দেশের অভ্যন্তরে বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এ বাস্তবতায় বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ বন ও উপকূলীয় জলাভূমি কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং জাতীয় জলবায়ু অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবেশমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো একই ধরনের জলবায়ু ঝুঁকির মুখোমুখি। বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে ব্লু কার্বন ম্যাপিং, কার্বন পরিমাপের অভিন্ন পদ্ধতি এবং আঞ্চলিক কার্বন বাজার গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ESCAP কার্যকর সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনা সভায় পাকিস্তানের পরিবেশমন্ত্রী শেজরা মানসাব আলী খান খারাল, মালদ্বীপের পরিবেশমন্ত্রী আলি শরীফ, ESCAP-এর নির্বাহী সচিব আরমিদা সালসিয়াহ আলিসজাহবানা এবং বিভিন্ন দেশের পরিবেশমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 + 12 =