
জুড বেলিংহামের জোড়া গোলে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। মায়ামির প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে ১৯৬৬ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা শেষ চারে উঠে এখন অপেক্ষা করছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচের বিজয়ীর জন্য।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য ছিল ইংল্যান্ডের। প্রথমার্ধে ৬৮ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও খেলার ধারার বিপরীতে ৩৬তম মিনিটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দারুণ এক শটে গোল করে স্বাগতিক সমর্থকদের স্তব্ধ করে দেন।

তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের পাস থেকে জুড বেলিংহাম গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর যোগ করা সময়েই হ্যারি কেইনের আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হলে ১-১ সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করে। ৫৭তম মিনিটে কর্নার থেকে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে টরবইয়র্ন হেগেম বল জালে পাঠালেও ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। ৭৫তম মিনিটে কর্নার থেকে আরেকটি প্রচেষ্টায় নরওয়ের হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসায় স্বস্তি পায় ইংল্যান্ড।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন বেলিংহাম। মরগান রজার্সের দূরপাল্লার শট নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিয়ল্যান্ড ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে ফিরতি বলে দ্রুততম প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে জালে বল পাঠান রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার।
বাকি সময়ে মরিয়া চেষ্টা করেও সমতায় ফিরতে পারেনি নরওয়ে। ফলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড, আর ব্রাজিলকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ের স্বপ্নযাত্রার ইতি ঘটে।

ম্যাচে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হাল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন—দুজনেই গোলশূন্য ছিলেন।
এদিকে, দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সাথে সুইজারল্যান্ডের খেলা চলমান আছে। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ১ গোলে এগিয়ে আছে। সেই ম্যাচের বিজয়ী দল সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হবে।