অতিরিক্ত সময়ে আলভারেজ–লাওতারোর জোড়া আঘাতে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চারে আর্জেন্টিনা

অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্টিনেজের জোড়া গোলে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ চারে লিওনেল মেসিদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড।

নির্ধারিত সময়জুড়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে ভাঙতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। সাহসী লড়াই করেও বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে স্বপ্নযাত্রার ইতি টানতে হয়েছে সুইসদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ১০ মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত হেড থেকে পাওয়া বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। শুরুতে এগিয়ে গেলেও এরপর কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে লিওনেল স্কালোনির দল। সেই সুযোগে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে সুইজারল্যান্ড।

ক্রমাগত আক্রমণের পুরস্কার পায় সুইসরা ৬৭তম মিনিটে। রিকার্দো রদ্রিগেজের পাস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে সমতাসূচক গোল করেন ড্যান এনদোয়ে।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৭২তম মিনিটে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন সুইজারল্যান্ডের ব্রিল এম্বোলো। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তে ১০ জনের দলে পরিণত হলেও শেষ পর্যন্ত অসাধারণ রক্ষণ সামলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও যোগ করা সময় পার করে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ নিয়ে যায় সুইসরা।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা পায়নি আর্জেন্টিনা। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ১১৪তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামা হুলিয়ান আলভারেজ প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

গোল হজমের ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। অতিরিক্ত সময়ের যোগ করা মিনিটে লাওতারো মার্টিনেজ তৃতীয় গোল করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জয় নিশ্চিত করেন।

স্কোরলাইন ৩-১ হলেও পুরো ম্যাচজুড়ে সুইজারল্যান্ডের লড়াকু ফুটবল প্রশংসা কুড়িয়েছে। একজন কম নিয়ে প্রায় ৪০ মিনিট বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আটকে রাখার পর শেষ মুহূর্তে ভেঙে পড়ে তাদের রক্ষণ।

এই জয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের লাইনআপও পূর্ণ হলো। আগে থেকেই শেষ চার নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স, স্পেন ও ইংল্যান্ড। এবার তাদের সঙ্গে যোগ দিল দক্ষিণ আমেরিকার একমাত্র প্রতিনিধি আর্জেন্টিনা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বিশ্লেষকদের সম্ভাব্য চার সেমিফাইনালিস্টের পূর্বাভাসও মিলেছে।

এখন সবার নজর আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড মহারণে। দুই ফুটবল পরাশক্তির এই লড়াই বিশ্বকাপ ইতিহাসের বহু স্মরণীয় অধ্যায়ের কথা মনে করিয়ে দেবে। বিশেষ করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং ইতিহাসের অন্যতম সেরা একক নৈপুণ্যের গোল আজও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। এবারও দুই দলের লড়াইকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তুমুল আগ্রহ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × 1 =