বিশ্বকাপ ট্রফি: সোনালি প্রতীকের নকশা, ইতিহাস ও গৌরবের গল্প

ফুটবল বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত পুরস্কার ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু একটি স্বর্ণের ভাস্কর্য নয়, এটি বিশ্ব ফুটবলের গৌরব, সংগ্রাম ও বিজয়ের প্রতীক। রোববার স্পেন অথবা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে নতুন বিশ্বচ্যাম্পিয়নের নাম ইতিহাসে লিখবেন।

বর্তমান বিশ্বকাপ ট্রফির নকশা করেন ইতালীয় ভাস্কর সিলভিও গাজ্জানিগা। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বার বিশ্বকাপ জিতে জুলে রিমে ট্রফির স্থায়ী মালিকানা লাভ করার পর নতুন ট্রফির নকশা আহ্বান করে ফিফা। সেই প্রতিযোগিতায় ৫০টিরও বেশি নকশার মধ্যে গাজ্জানিগার ত্রিমাত্রিক মডেলটি নির্বাচিত হয়।

ট্রফিটির নকশায় দুটি মানবাকৃতি ঘূর্ণায়মান ভঙ্গিতে পৃথিবীর প্রতীক একটি গোলককে ধারণ করে আছে। গাজ্জানিগার ভাষ্য অনুযায়ী, এতে একজন ফুটবলারের কঠোর পরিশ্রম, সংগ্রাম, বিজয়ের আনন্দ এবং সমর্থকদের উচ্ছ্বাসকে একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

গাজ্জানিগার ছেলে জর্জিও জানান, তাঁর বাবা চেয়েছিলেন এমন একটি নকশা তৈরি করতে, যা গতিময়তা, শক্তি ও বিজয়ের অনুভূতিকে একই সঙ্গে প্রকাশ করবে। দুটি বাহুর বিস্তৃত আকৃতি বিজয়ের ডানার প্রতীক, আর ওপরের গোলকটি বিশ্বজয়ের প্রতিচ্ছবি।

বর্তমান ট্রফিটির উচ্চতা ৩৬ সেন্টিমিটার (১৪ ইঞ্চি)। এটি ১৮ ক্যারেট স্বর্ণে নির্মিত এবং নিচের অংশে সবুজ ম্যালাকাইট পাথরের দুটি বৃত্ত রয়েছে, যা ফুটবল মাঠের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

বিশ্বকাপ শেষে আসল ট্রফিটি আবার ফিফার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় এবং সুইজারল্যান্ডে সংরক্ষণ করা হয়। বিজয়ী দল দেশে নিয়ে যায় ট্রফিটির স্বর্ণপ্রলেপ দেওয়া একটি প্রতিরূপ। বর্তমানে তিনবার বিশ্বকাপ জিতলেও কোনো দেশকে আসল ট্রফির স্থায়ী মালিকানা দেওয়া হয় না।

এর আগে ১৯৩০ সালে চালু হওয়া জুলে রিমে ট্রফি ছিল বিজয়ের গ্রিক দেবী নাইকির প্রতিকৃতি সম্বলিত। ট্রফিটি ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে একবার চুরি হলেও পরে উদ্ধার করা হয়। তবে ১৯৮৩ সালে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের সদর দপ্তর থেকে চুরি হওয়ার পর সেটি আর কখনও উদ্ধার হয়নি।

গাজ্জানিগা পরিবারের কাছে এখনও সংরক্ষিত রয়েছে ট্রফিটির মূল নকশা, প্রোটোটাইপ ও মোমের ছাঁচ। জর্জিও গাজ্জানিগার স্মৃতিতে আজও অমলিন ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল, যখন প্রথমবার তাঁর বাবার নকশা করা ট্রফি বিজয়ী পশ্চিম জার্মানির অধিনায়কের হাতে ওঠে। তাঁর ভাষায়, “সেই মুহূর্তেই একটি সাধারণ ভাস্কর্য বিশ্ব ফুটবলের চিরন্তন প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

9 + 19 =