জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ-আইওএমের ১১.২৫ লাখ ইউরোর প্রকল্প শুরু

ঢাকা, ২৪ জুলাই, ২০২৬ – জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অভিবাসন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ১১ লাখ ২৫ হাজার ইউরো মূল্যের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং আইওএম বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এ চুক্তির আওতায় ‘দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসনে সমন্বিত পদ্ধতির প্রসার’ শীর্ষক তিন বছর মেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন বিষয়ে তথ্য ও উপাত্ত ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা, গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময় সম্প্রসারণ, জলবায়ু কার্যক্রমে প্রবাসীদের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বাড়ানো এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি ও অভিবাসন মোকাবেলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত আঞ্চলিক সহযোগিতা গড়ে তোলা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট মানব অভিবাসনের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকে বাংলাদেশ সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু অভিযোজন কৌশলের সঙ্গে জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি তাদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

তিনি বলেন, অভিবাসন সুশাসন জোরদার, তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য উপাত্ত তৈরি এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে আইওএমের ধারাবাহিক সহযোগিতা বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইআরডি সচিব আশা প্রকাশ করেন, নতুন এই উদ্যোগ দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে, জ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটাবে, প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রণয়নে সহায়তা করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন বিষয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

আইওএম বাংলাদেশের মিশন প্রধান ড. লরা টম বন্ডে প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন অংশীদারদের সক্রিয় সম্পৃক্ততারও প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম উভয়ই জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। তাদের আশা, এই প্রকল্প বাংলাদেশের জলবায়ু-সম্পর্কিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়, জ্ঞান ভাগাভাগি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও ইউএন উইং প্রধান এ কে এম সোহেল, যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফাহমিদা হক খান, ইআরডির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রাজিবুল আলম, আইওএম বাংলাদেশের জাতীয় কর্মসূচি কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান খান, সরকারি সংযোগ বিশেষজ্ঞ ড. এস এম মোরশেদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও উন্নয়ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 − 5 =