‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচিকে গণআন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান

ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬: দেশের পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারে সরকারের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচিকে সফল করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ সেলের চতুর্থ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, নারী, তরুণ, শিক্ষার্থী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীসহ সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় মাটি, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত স্থানে দেশীয় প্রজাতির গাছ রোপণ এবং রোপণের পর চারার বেঁচে থাকার হার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

নজরুল ইসলাম খান জানান, ২০২৬ সালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মাধ্যমে ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা রোপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব চারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব উৎপাদন ও নিজস্ব অর্থায়নে সংগ্রহ করা হবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৩ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে। যেসব মন্ত্রণালয় ও সংস্থা পিছিয়ে রয়েছে, তাদের বর্ষা মৌসুমকে কাজে লাগিয়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, কর্মসূচির সফলতা শুধু চারা রোপণের ওপর নির্ভর করে না; বরং রোপণের পর নিয়মিত পরিচর্যা, সুরক্ষা ও কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি সরকারি ও বেসরকারি নার্সারির সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘রাইট ট্রি, রাইট প্লেস’ নীতি অনুসরণ করে দেশীয় প্রজাতির গাছকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে নারিকেল, তাল, খেজুর ও সুপারির মতো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক গাছ রোপণে জনগণকে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে আগামী জানুয়ারির মধ্যেই চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে নারী, তরুণ ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে সাড়ে তিন লাখের বেশি সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার জন্য একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন প্রয়োজন।

সভায় প্রতিটি রোপিত গাছের জিপিএস অবস্থান, প্রজাতি, রোপণের তারিখ, জিও-ট্যাগযুক্ত ছবি এবং পরিচর্যার তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এই অ্যাপের মাধ্যমে গাছের বেঁচে থাকার হার, প্রতিস্থাপনমূলক বৃক্ষরোপণ, জেলা ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অগ্রগতি এবং রিয়েল-টাইম তথ্য জাতীয় ড্যাশবোর্ডে প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) শামিমা বেগম, বৃক্ষরোপণ সেলের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

one × two =