অস্ট্রেলিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলেই সম্মান ও নিয়মিত টেস্ট সফরের পথ খুলতে চায় বাংলাদেশ

ঢাকা, ৩০ জুলাই ২০২৬: আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরে শুধু জয় নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সম্মান অর্জন এবং ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় নিয়মিত টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ। এমন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

দেশ ছাড়ার আগে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে শান্ত বলেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভালো ক্রিকেট খেলাই দলের মূল লক্ষ্য।

“সেখানে ভালো ক্রিকেট খেলে সম্মান অর্জন করতে চাই। আমরা যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স করতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়া আমাদের আরও বেশি টেস্ট সিরিজ খেলতে আমন্ত্রণ জানাতে আগ্রহী হবে,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশ দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের একাধিক প্রজন্মের ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট না খেলেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করেছেন। দেশের অন্যতম সেরা ওপেনার তামিম ইকবাল কখনো অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি। অন্যদিকে শতাধিক টেস্ট খেলা মুশফিকুর রহিমও এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার অপেক্ষায়।

সিরিজের লক্ষ্য সম্পর্কে শান্ত বলেন, “আমরা প্রতিটি ম্যাচই জয়ের জন্য খেলি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা কতটা ভালো ক্রিকেট খেলছি এবং প্রতিপক্ষকে কতটা চাপে রাখতে পারছি।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টেস্ট ম্যাচ উপহার দিতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে অস্ট্রেলিয়ায় আরও বেশি সফরের সুযোগ তৈরি হবে।”

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করে শান্ত বলেন, গত দুই দশকে বাংলাদেশের আরও বেশি টেস্ট খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল। তবে তিনি স্বীকার করেন, দীর্ঘ সময় দল ধারাবাহিকভাবে ভালো টেস্ট ক্রিকেট খেলতে পারেনি।

বাংলাদেশের টেস্ট দল নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়াকেও ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক।

তিনি বলেন, “এখন প্রতিটি সিরিজেই সমর্থকরা আমাদের কাছে জয়ের প্রত্যাশা করেন। এটা প্রমাণ করে, তারা বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ যেকোনো দলকে হারাতে সক্ষম। এই বিশ্বাস আমাদের জন্য বড় অর্জন।”

সম্প্রতি ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর প্রসঙ্গ টেনে শান্ত বলেন, এবার অস্ট্রেলিয়া পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামছে, যা বাংলাদেশের প্রতি তাদের বাড়তি গুরুত্বেরই প্রমাণ।

“তারা আমাদের হালকাভাবে নেয়নি। গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে আমাদের পারফরম্যান্সের কারণেই এই সম্মান অর্জিত হয়েছে। আমরা যত ভালো খেলব, প্রতিপক্ষও আমাদের তত বেশি গুরুত্ব দেবে,” বলেন তিনি।

তবে ইনজুরির কারণে পেসার নাহিদ রানাকে না পাওয়াকে বড় ধাক্কা হিসেবে উল্লেখ করে শান্ত বলেন, এটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও যারা সুযোগ পেয়েছেন, তাদের নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ রয়েছে।

আগামী ৬-৮ আগস্ট ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে সফর শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ১৩ আগস্ট ডারউইনের মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথম টেস্ট এবং ২২ আগস্ট ম্যাকায়ে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × three =