বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

মাতারবাড়ী, কক্সবাজার, ৯ আগস্ট ২০২৬ — দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি। খবর ইউএনবি

রোববার কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার ১২০০ মেগাওয়াট মাতারবাড়ী আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।

বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃহৎ অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্প অবকাঠামোর সমন্বিত উন্নয়ন ও পরিকল্পিত ব্যবহার শিল্পায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ, পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করেন।

তাকে জানানো হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও জনবল দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় প্রকৌশলী ও কর্মীদের দক্ষতার প্রশংসা করেন।

মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিট রয়েছে। আধুনিক আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তিনির্ভর এই কেন্দ্রের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। প্রকল্পের সঙ্গে কয়লা পরিবহনের বন্দর সুবিধা, সঞ্চালন লাইন, সড়কসহ বিভিন্ন সহায়ক অবকাঠামো রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ঋণ সহায়তা দিয়েছে।

পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থান ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি প্রস্তাবিত এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প ও নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থান সম্পর্কেও কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন।

তিনি এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনালের অবকাঠামো, কয়লা জেটি এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিট নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানও পরিদর্শন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শনে প্রচলিত জ্বালানির পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং বিদ্যমান বিনিয়োগের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × 4 =