দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করলেন রোনালদো

ফুটবল সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ মঙ্গলবার পর্তুগালের কাসকাইসের অবকাশযাপন কেন্দ্রে বিয়ে করেছেন।

দীর্ঘ এক দশকের সম্পর্কের পর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন তারা। বিয়ের স্থান ও সময় নিয়ে পর্তুগালে কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র জল্পনা-কল্পনার অবসান হলো এর মধ্য দিয়ে।

৪১ বছর বয়সী রোনালদো তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে বিয়ের আংটি পরা দুজনের হাতের একটি ছবি শেয়ার করেন। ছবির সঙ্গে তিনি লেখেন, ‘সি ও জি’, দুই অক্ষরের মাঝে হার্টেও একটি ইমোজি রয়েছে।

রোনালদোর জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা ব্রান্সউইক গ্রুপ এএফপিকে জানিয়েছে, তাদের পাঁচ সন্তান “ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ” এই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল।

৩২ বছর বয়সী ইনফ্লুয়েন্সার জর্জিনা রদ্রিগেজ ইনস্টাগ্রামে বাগদানের ঘোষণা দেওয়ার ঠিক এক বছর পর বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন এই জুটি।

গ্রীষ্মে বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে খেলা রোনালদোর দল শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয়। বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন তিনি। সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের এই ফরোয়ার্ড বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন পাঁচবার।

নেটফ্লিক্সের ‘‘আমি জর্জিনা” নামের একটি অনুষ্ঠানে অভিনয় করে নিজের পরিচিতি আরও বাড়িয়েছেন রদ্রিগেজ। অনুষ্ঠানটিতে ফুটবল, ফ্যাশন ও ভ্রমণের পাশাপাশি পরিবারের জীবনযাপন তুলে ধরা হয়েছে।

পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমগুলো আগে ধারণা করেছিল, লিসবনের বাইরে সিন্ত্রা অথবা আটলান্টিক মহাসাগরের দ্বীপ মাদেইরায় রোনালদোর জন্মস্থান ফুনশালে বিয়ের অনুষ্ঠান হতে পারে।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে ফুনশালে অনুষ্ঠান হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তারকা এই দম্পতিকে দেখার আশায় শহরের ক্যাথেড্রালের সামনে শত শত মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।

এর আগে ক্যাথেড্রাল কর্তৃপক্ষ এএফপিকে জানিয়েছিল, রোনালদোর বিয়ের কোনো অনুষ্ঠান সেখানে নির্ধারিত নেই। তবে এমন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারলে তা “সম্মানের বিষয়” হবে বলেও জানিয়েছিল তারা।

শেষ পর্যন্ত কাসকাইসকে বিয়ের স্থান হিসেবে বেছে নেন এই জুটি। লিসবনের প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত অভিজাত সমুদ্রতীরবর্তী এই অবকাশকেন্দ্রে তাদের একটি ভিলা রয়েছে।

২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি গুচি স্টোরে কাজ করার সময় রদ্রিগেজের সঙ্গে রোনালদোর পরিচয় হয়। রদ্রিগেজ পরে সেই অভিজ্ঞতাকে “প্রথম দেখাতেই ভালোবাসা” হিসেবে বর্ণনা করেন।

২০২৫ সালে ভোগ আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, রোনালদোর সঙ্গে থাকলে প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই তার এক ধরনের প্রশান্তি ও ব্যাখ্যাতীত এক অনুভূতি হতো, যেন আমরা একে অপরকে চিরকাল ধরে চিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই দম্পতির সম্মিলিত অনুসারীর সংখ্যা ৭৫ কোটিরও বেশি। ফুটবলের গন্ডি ছাড়িয়ে তারা বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত তারকা-জুটিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছেন। ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং হোটেল ব্যবসার একটি চেইনসহ বিভিন্ন খাতে এই দম্পতির বিনিয়োগ রয়েছে।

রোনালদোর বড় ছেলের নাম ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। ২০১০ সালে জন্ম নেওয়া জুনিয়রের মায়ের পরিচয় পর্তুগিজ কিংবদন্তি কখনও প্রকাশ করেননি। ২০১৭ সালের জুনে সারোগেটের মাধ্যমে ইভা মারিয়া ও মাতেওয়ের বাবা হন আল নাসরের এই তারকা। পাঁচ মাস পর তাঁর প্রেমিকা জর্জিনার কোল আলো করে জন্ম নেয় অ্যালানা মার্টিনা। ২০২২ সালে জর্জিনার গর্ভেই জন্মায় দুই যমজ সন্তান বেলা ও অ্যাঞ্জেল। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরেই মারা যায় অ্যাঞ্জেল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × four =