বাতিল হওয়া এফএসআরইউ চুক্তি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ সামিটের, সাশ্রয়ের দাবি ১.১ বিলিয়ন ডলার

সামিট গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সামিট এলএনজি টার্মিনাল-২ কোম্পানি লিমিটেড (এসএলএনজি-২) তাদের প্রস্তাবিত দ্বিতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) প্রকল্পের বাতিল হওয়া চুক্তি পুনর্বিবেচনার জন্য পেট্রোবাংলার কাছে আবেদন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে।

পেট্রোবাংলার মুখপাত্র তারিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর সামিট এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার কাছে চিঠি দিয়েছে।

সামিটের প্রস্তাবিত বিল্ড-ওন-অপারেট-ট্রান্সফার (BOOT) মডেল অনুযায়ী, ১৫ বছর পর কোনো খরচ ছাড়াই এফএসআরইউ, মুরিং ব্যবস্থা ও সাবসি পাইপলাইনের পূর্ণ মালিকানা পেট্রোবাংলার কাছে হস্তান্তর করা হবে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বর্তমানে বিবেচনাধীন বিল্ড-ওন-অপারেট (BOO) মডেলে এই সুবিধা থাকবে না এবং এতে সরকারের প্রায় ৮৮৩ মিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।

সামিট আরও জানিয়েছে, তাদের প্রস্তাবিত এফএসআরইউর দৈনিক চার্টার ব্যয় হবে প্রায় ৩ লাখ ডলার, যেখানে বিকল্প প্রস্তাবিত প্রকল্পের ব্যয় হতে পারে ৩ লাখ ৪২ হাজার ডলার। এ ব্যবধানের কারণে ১৫ বছরে প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় সম্ভব বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে।

সামিট জানিয়েছে, প্রকল্পটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, প্রয়োজনীয় জরিপ সম্পন্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এফএসআরইউটির এলএনজি পুনঃগ্যাসীকরণ সক্ষমতা হবে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

কোম্পানিটি অবিলম্বে চুক্তিটি পুনর্বহালের পাশাপাশি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়ার অনুমতি চেয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, মোজাম্বিক ও কানাডাসহ বিভিন্ন উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের পরিকল্পনা থাকায় সরবরাহে বৈচিত্র্য আসবে এবং মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সরবরাহ বিঘ্নের ঝুঁকি কমবে।

সামিট ২০২৪ সালের মার্চে BOOT মডেলে এফএসআরইউ নির্মাণের চুক্তি করে। প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান ৩.৭৫ মিলিয়ন টন সক্ষমতার এফএসআরইউ ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল মহেশখালীতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে এবং ২০৩৩ সাল পর্যন্ত পরিচালনার কথা রয়েছে।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × five =