বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বাণিজ্য বাড়াতে লন্ডনে ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বিবিসিসিআইয়ের

যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিবিসিসিআই)। প্রস্তাবিত এই কেন্দ্র দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব তৈরিতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

লন্ডনের আইভি হিল হোটেলে আয়োজিত বিবিসিসিআই বিজনেস রিসেপশন ২০২৬ ও নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, ট্রেড সেন্টারের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করতে আগ্রহী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও দ্বিপক্ষীয় ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিবিসিসিআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল মুসলেহ আহমেদ বলেন, ট্রেড সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ চেম্বারের প্রচলিত নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমের বাইরে গিয়ে ব্যবসায়ীদের জন্য বাস্তব সুযোগ তৈরির একটি পদক্ষেপ। তাঁর ভাষায়, ব্রিটিশ ও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগকে বাণিজ্যে রূপ দেওয়া এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরিই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

মুসলেহ আহমেদ বলেন, ট্রেড সেন্টারের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে, নতুন বাজার খুঁজতে এবং যৌথভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন।

বিবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মুহিব চৌধুরী বলেন, ‘ব্রিটিশ-বাংলাদেশ ট্রেড সেন্টার’ একটি আধুনিক ও উচ্চাভিলাষী চেম্বার গড়ে তোলার প্রতি তাঁদের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরিতে বিবিসিসিআই অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার ডক্টর এম নজরুল ইসলাম। এ ছাড়া বিবিসিসিআইয়ের বর্তমান কমিটির উপদেষ্টা, সাবেক সভাপতি, পরিচালক, নির্বাচন কমিশনের সদস্য, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা ড. ওয়ালি তাসার উদ্দিন, আহমদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, সাইদুর রহমান রেনু, সাবেক সভাপতি বশির আহমেদ বিইএম ও রফিক হায়দার, নর্থ ওয়েস্ট রিজিয়নের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান এবং লন্ডন রিজিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিবিসিসিআইয়ের  পরিচালক আতাহির খান, যুক্তরাজ্যের জাজ নজরুল খসরু, ডক্টর জাকির খান, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট তারেক চৌধুরী, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল লেকচারার ড. মঞ্জুর শওকত, বিবিপিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা কাউন্সিলর আবদাল উল্লাহ, বিসিএর প্রেসিডেন্ট অলি খান, চ্যানেল এসের প্রতিষ্ঠাতা মাহী ফেরদৌস জলিল, এনটিভি ইউরোপের সিইও সাবরিনা হোসাইন, কারি লাইফের সম্পাদক-প্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ নাহাস পাশা, বাংলাদেশ সেন্টারের সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসাইন এবং হ্যারোর সাবেক মেয়র সেলিম চৌধুরী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, বিনিয়োগের সুযোগ খোঁজা এবং কৌশলগত অংশীদারত্ব তৈরির ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত ট্রেড সেন্টার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে এটি যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে সংগঠনটি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen − thirteen =