জিম্বাবুয়ের কাছে বড় হারে চাপে বাংলাদেশ

সালেক সুফী

তিন জাতি টুর্নামেন্টে ৯৯ রানের পরাজয়, আফগানিস্তান ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ

আবুধাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাত: তিন জাতির ওয়ানডে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্টে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে টাইগাররা। প্রথমে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ৮ উইকেটে ২৭১ রান। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১৭২ রানে, ৩৩.৪ ওভারে।

এমন হতাশাজনক শুরুর পর পরবর্তী ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে শুধু জয় নয়, রান রেটের হিসাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ম্যাচের আগে জানা যায়, বাংলাদেশের নিয়মিত অধিনায়ক লিটন কুমার দাস চোটের কারণে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছেন। তাঁর পরিবর্তে অধিনায়কের দায়িত্ব পান তাওহীদ হৃদয়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিং করে তিনটি উইকেট তুলে নেন। একপর্যায়ে মাত্র ২৪ রানে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু এরপরই ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়।

চতুর্থ উইকেটে অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেইলর দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তাঁদের ১৫০ রানের জুটি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেয়। আরভিন ৯৩ এবং টেইলর ৮১ রান করেন। তাঁদের ব্যাটিং দৃঢ়তায় প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রানে তিনটি এবং শরিফুল ইসলাম ৪৭ রানে দুটি উইকেট নেন। অনিয়মিত বোলার সাইফ হাসানও দুটি উইকেট পেলেও জিম্বাবুয়েকে ২৭১ রানের মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি। মাঝের ওভারগুলোতে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারা এবং বড় জুটি ভাঙতে ব্যর্থ হওয়াই বাংলাদেশের বোলিংয়ের প্রধান দুর্বলতা হিসেবে সামনে আসে।

জবাবে বাংলাদেশের শুরুটা অবশ্য খারাপ ছিল না। প্রথম উইকেটে ৪৭ রান যোগ হওয়ার পর সৌম্য সরকার ফিরে গেলে শুরু হয় ব্যাটিং বিপর্যয়। জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও ক্ষুরধার ফিল্ডিংয়ের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।

তানজিদ তামিম ৪৬ রান করে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন। সাইফ হাসান করেন ২৬ এবং রিশাদ হোসেন ২৩ রান। তবে তাঁদের কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। ফলে লক্ষ্য তাড়া করার মতো কোনো কার্যকর জুটি গড়ে ওঠেনি।

জিম্বাবুয়ের বোলার ব্র্যাড ইভান্স ৪৫ রানে চারটি উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধস নামান। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা দুটি এবং সিকান্দার রাজাও দুটি উইকেট নিয়ে তাঁকে সহায়তা করেন।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস ও পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার কৌশলের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। উইকেটের অবস্থা খুব কঠিন না হলেও ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা গেছে। শুরুতে ভালো অবস্থানে থেকেও সেই সুবিধা কাজে লাগাতে না পারার ব্যর্থতা শেষ পর্যন্ত বড় পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

৯৯ রানের এই হার বাংলাদেশের টুর্নামেন্ট-ভাগ্যকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতে হবে। বিশেষ করে বড় জুটি গড়া, মাঝের ওভারগুলোতে রান নিয়ন্ত্রণ এবং চাপের মধ্যে উইকেট ধরে রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

জিম্বাবুয়ে: ২৭১/৮

ক্রেইগ আরভিন ৯৩, ব্রেন্ডন টেইলর ৮১, নিউম্যান নিয়ামহুরি ২১*, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ২১*; তাসকিন আহমেদ ৩/৪৪, শরিফুল ইসলাম ২/৪৭, সাইফ হাসান ২ উইকেট।

বাংলাদেশ: ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ অলআউ

তানজিদ তামিম ৪৬, সাইফ হাসান ২৬, রিশাদ হোসেন ২৩; ব্র্যাড ইভান্স ৪/৪৫, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ২ উইকেট, সিকান্দার রাজা ২/২৮।

ম্যাচসেরা: ক্রেইগ আরভিন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

2 × 1 =