অভিনেত্রী মেহজাবীন মামলা থেকে অব্যাহতি পেলেন

অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাই আলিশান চৌধুরীকে হুমকি, ধমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে মামলার শুনানি শেষে ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আদনান জুলফিকার এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ ১২ জানুয়ারি মামলার জবাব দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। নির্ধারিত দিনে মেহজাবীন চৌধুরী ও আলিশান চৌধুরীর পক্ষে লিখিত জবাব দাখিল করা হয়। জবাব গ্রহণের পর আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁদের মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী তুহিন হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছর অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে হুমকি-ধমকির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন আমিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ও ১১৭(৩) ধারায় ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি করেন। অভিযোগে বলা হয়, মেহজাবীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্র ধরে তাঁর নতুন পারিবারিক ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার জন্য ২৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন বাদী। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় তিনি টাকা ফেরত চাইতে থাকেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পাওনা টাকা চাইলে আসামিরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। একপর্যায়ে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি টাকা চাইতে গেলে তাঁকে ১৬ মার্চ ২০২৫ সালে হাতিরঝিলের একটি রেস্টুরেন্টে আসতে বলা হয়। সেখানে গেলে মেহজাবীন চৌধুরী, তাঁর ভাই আলিশান চৌধুরী এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজন তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পর তিনি ভাটারা থানায় গেলে পুলিশ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়।

তবে শুনানি চলাকালে আদালত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে হুমকি বা ভয় দেখানোর অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাননি বলে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতেই আদালত মামলাটি থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেন।

আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে মেহজাবীন চৌধুরী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি আদালতের সিদ্ধান্তকে ন্যায়সঙ্গত উল্লেখ করে বলেন, তাঁরা সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে তিনি আরও বলেন, বিনোদন জগতে কাজ করতে গেলে অনেক সময় সামাজিক ও গণমাধ্যমে ভিত্তিহীন অভিযোগের মুখে পড়তে হয়, তবে আইনের আশ্রয় নিলে ন্যায়বিচার পাওয়া সম্ভব।

এই মামলার অব্যাহতির পর মেহজাবীন চৌধুরী ও আলিশান চৌধুরীর পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন তাদের ঘনিষ্ঠজনরা। আদালতের সিদ্ধান্তে পরিবারের ওপর থাকা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ অনেকটাই কমেছে বলেও জানা গেছে। একই সঙ্গে মেহজাবীনের ভক্ত ও বিনোদন অঙ্গনের সহকর্মীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আদালতের এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

19 + 4 =