আরও একটি দাপুটে জয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখলো

গ্রূপ এ-তে নিজেদের  শেষ ম্যাচে আজ ব্যাট বলের আকর্ষণীয় লড়াইয়ের খেলায় যুক্তরাষ্ট্র নামিবিয়াকে ৩১ রানে পরাজিত করে বিশ্ব ক্রিকেটে ওদের উন্নতির ধারা অক্ষুণ্ণ রেখেছে। প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ওভারে যুক্তরাষ্ট্র সংগ্রহ করেছিল ১৯৯ /৪। নামিবিয়া ইনিংস ১৬৮/৬ রানে শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ৩১ রানে ম্যাচ জয় করে এবারের বিশ্বকাপে গ্রূপ পর্বে নিজেদের খেলা শেষ করেছে। বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু উপভোগ্য ক্রিকেট মুহূর্ত উপহার দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকে রমণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। দুই মেগা দল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরাজয় আর বাকি দুটি দল নেদারল্যান্ডস এবং নামিবিয়ার বিরুদ্ধে বিশাল জয় দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী রাউন্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার স্বপ্ন জাগিয়ে রেখেছে। আজ পরের ম্যাচে বিশ্ব ক্রিকেটের দুই জনপ্রিয় দল ভারত পাকিস্তান কলম্বোতে ব্লকবাস্টার ম্যাচ খেলবে। হেরে যাওয়া দলটি পরের ম্যাচে হোঁচট খেলে যুক্তরাস্ট্রের স্বর্ণ দুয়ার খুলে যেতে পারে, আশা নিয়ে বেঁচে থাকার নামই জীবন।

যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯/৪ (সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি ৬৮*, মনানক প্যাটেল ৫২, মিলান্দ কুমার ২৮। উইলাম মাইবুর্গ ২/২২, গারহার্ড এরাসমাস ২/২৭)

নামিবিয়া ১৬৮/৬ (লরেন স্টিনক্যাম্প ৫৮, যান এন  এল ইটন ২৮। ভ্যান স্ক্যালসভেক ২/৩০)

যুক্তরাষ্ট্র ৩১  রানে জয়ী

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি

যুক্তরাষ্ট্রের খেলার যে বিশেষত্ব ভালো লেগেছে সেটি হলো পজিটিভ মানসিকতা সেটি শক্তিশালী দল হোক অথবা সাধারণ মানের দল। আজকের ম্যাচে ব্যাটিং করার সময় শুরু থেকে শেষ অবধি আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছে। অধিনায়ক মোনানক প্যাটেল (৫২) সূচনায় শায়ান জাহাঙ্গীরকে সাথী করে ৬.৫ ওভারে ৬৮ রান তুলে নেয়। একের পর এক দর্শনীয় স্ট্রোকস খেলে মোনানক ৩ চার আর ৩ ছয়ে ৩০ বলে ৫২ রান করে ইনিংসকে শক্ত ভিত্তি দেয়। এরপর উইলাম মাইবুর্গ পর পর জাহাঙ্গীর আর মোনানককে ফিরিয়ে দিলেও রানের ফল্গুধারা স্তিমিত হয়নি। ২২ বছরের মেধাবী তরুণ সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি উপহার দেয় ৩৩ বলে অপরাজিত ৬৮ রানের একটি স্ফলিঙ্গ ইনিংস। শেষ দিকে নামিবিয়া অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস কিছুটা নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ২৭ রানে ২ উইকেট তুলে নেয়ায় দলের রান ২০০ রানের প্রান্ত সীমায় ১৯৯/৪ শেষ হয়।

নামিবিয়ার হারানোর কিছু ছিল না। ব্যাট হাতে ওরা গুটিয়ে যায়নি। ওভার প্রতি ১০ রানের টার্গেট সামনে রেখে প্রথম পর্যায়ে সামর্থের সবকিছু দিয়েই লড়াই করেছে। লোরেন স্টিনক্যাম্প আর জে ফ্রাঙ্কলিংকের সক্রিয়তায় প্রথম উইকেট জুটিতে ৫.২ ওভারে ৫৪ রান সংগ্রহ হবার পর প্রথম আঘাত হানে এবারের টুর্নামেন্টের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল বলার সাধলে ভ্যান স্ক্যালসভেক ।  নামিবিয়া কিন্তু রানের ধারা শ্লথ করেনি। কিন্তু টার্গেট খাড়া থাকায় ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত রান রেট বাড়তে থাকে।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দ্রুত ৪৩ রান যোগ হবার পর ফিরে যায় ১৭ বলে ২৮ রান করা যান এল এন ইটন। ৯৯ রানে ২ উইকেট পতনের পর তখনও টার্গেট দৃষ্টি সীমায় ছিল। লোরেন স্টিনকাম্প যতক্ষণ উইকেটে ছিল নামিবিয়ার সম্ভাবনা ততক্ষন জ্বলছিল। কিন্তু শুভাব রঞ্জনের বলে ৫৮ রান করে স্টিনক্যাম্প ফিরে গেলে রান রেট বজায় রেখে টার্গেট পানে ছুটে চলা উত্তরোত্তর কঠিন হয়ে পড়ে। উইকেটে আসা দুই নতুন ব্যাটসম্যান এরাসমাস আর স্মিটের জন্য তাৎক্ষণিক ঝড়ো ব্যাটিং দুরূহ হতে থাকে।

১৪ ওভার শেষে আসে যুক্তরাষ্ট্র স্ট্রাইক বোলার ভান স্ক্যালসভেক। দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেয়া এই পেসার এবারের বিশ্বকাপকে সমৃদ্ধ করেছে বলতেই হবে। রান রেট দ্রুত বেড়ে একসময় টার্গেট দৃষ্টি সীমার বাইরে চলে যায়। তবু নামিবিয়া চেষ্টা করেছে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন হয় ৬ বলে ৩৮ রান। ২০ ওভার শেষে নামিবিয়া ইনিংস ১৬৮/৬ শেষ হয়। ৩১ রানে ম্যাচ জয় যুক্তরাষ্ট্রের।

গাণিতিক হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাবনা আছে গ্রূপ অফ এইটে পৌঁছানোর। আজ যদি পাকিস্তান হেরে যায় তাহলে নামিবিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানের হবে জীবন মরণ লড়াই। একই ভাবে যদি ভারত আজ হোঁচট খায় তাহলে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে জিতেই হবে ভারতকে।

ভালো লাগছে যুক্তরাষ্ট্র ক্রিকেটের উন্নতির ধারা দেখে। যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেট জনপ্রিয়তা পেলে ক্রিকেটের বিকল্প চারণ ভূমি সৃষ্টি হবে। ইউএই, ওমান এগিয়ে আসছে। শুনেছি কাতার, সৌদি আরব আগ্রহী। বিশ্বক্রিকেটের এপি সেন্টার বদলে গেলে ক্রিকেটের বিশ্বায়ন সার্থক হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + eleven =