ইংল্যান্ডের নাটকীয় জয়ে পাকিস্তানের টিকে থাকার আশা

সালেক সুফী

টি ২০ বিশ্বকাপের নাটকীয় পরিণতি বহুশ্রুত আপ্তবাক্য “শেষ হয়েও হলো না শেষ”। পাক ভারতের উপমহাদেশের ভারত, পাকিস্তানের অগ্রযাত্র যাত্রা এখন দুই গ্রুপের শেষ দুই ম্যাচের ফলাফলের উপর ঝুলে আছে। X গ্রুপের শেষ ম্যাচে ভারত ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী দল সেমি ফাইনালে খেলার সুযোগ পাবে।  আর Y গ্রুপ থেকে সেমি ফাইনালের টিকেট পেতে পাকিস্তানের অবশ্যই শেষ খেলায় শ্রীলংকাকে বড় ব্যাবধানে হারাতে হবে। কাল Y গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শেষ ওভারে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে পাকিস্তানকে লাইফ লাইন দিয়েছে ইংল্যান্ড। প্রথমে ব্যাটিং করে নিজেদের নির্ধারিত ওভার শেষে ১৫৯/৭ করেছিল ব্লাকক্যাপ্সরা।  ১৬১/৬ করে জয় পেতে ইংল্যান্ডকে খেলতে হয়েছে ১৯.৩ ওভার।

X গ্রুপ থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং Y গ্রুপ থেকে ইংল্যান্ড ইতিমধ্যেই সেমি ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড পেয়েছে নক আউট খেলার টিকেট। হাড্ডাহাডি লড়াইয়ের ম্যাচটি কিন্তু কাল শেষ ওভার পর্যন্ত অনিশ্চয়তার দোলক দোলায় দুলছিলো। জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ৬ বলে ৫ রান। হাতে ৪ উইকেট। সম্ভাবনা ছিল ইংল্যান্ড অথবা নিউজিল্যান্ডের জয়, অথবা টাই হয়ে সুপার ওভারে ম্যাচ ভাগ্য নির্ধারণ। মাট হেনরীর করা শেষ ওভারের তৃতীয় বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচ জয় করে ইংল্যান্ড Y গ্রুপের শীর্ষ দল হিসাবেই সেমী ফাইনালে গেলো। আজ Y গ্রুপে পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচ শ্রীলংকার বিরুদ্ধে। ঠিক তেমনি কাল ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁচা মরার লড়াই কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে।

Y গ্রুপে ৩ ম্যাচে শীর্ষ দল ইংল্যান্ড সংগ্রহ করেছে ৬ পয়েন্টস। ২ ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট পেয়ে ১.৩৯০ অর্জনকারী নিউজিল্যান্ড আছে কিছুটা স্বস্তির অবস্থানে। পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ ম্যাচ শেষে ১ পয়েন্টস। আজ শেষ ম্যাচে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বড় জয় পেতেই হবে।  না হয় শুন্য হাতেই ফিরতে হবে বিশ্বকাপ থেকে।

আজ প্রথম ব্যাটিং করে ভালো সূচনা করেছিল দক্ষিণ গোলার্ধের প্রান্তিক দেশ নিউজিয়াল্যান্ড। টিম স্নাইফার্ট (৩৯) আর ফিন এলেন (২৯) যোগাযোগে ৬.৫ ওভারে ৬৪ রান উঠেছিল। এর পর ইংল্যান্ডের দুই স্পিনার আদিল রাশিদ আর উইল জ্যাক্স দুই ওপেনারদের ফিরিয়ে দিলে ব্ল্যাক ক্যাপসরা ছন্দ হারায়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতন হতে থাকায় গ্লেন ফিলিপ্স (৩৯) ছাড়া কেউ হাল ধরতে পারেনি। ১৫৯/৭ ম্যাচ জয়ের জন্য পর্যাপ্ত ছিলনা। ইংল্যান্ডের ৩ স্পিনার্স  উইল জ্যাক্স ২/২৩, আদিল রশিদ ২/২৮ আর রেহান আহমেদ ২/২৮ ব্ল্যাক ক্যাপসদের নিয়ন্ত্রণের বাঁধনে বেঁধে রেখেছে।

তবুও নিউ জিলণ্ডবা সীমিত পুঁজি নিয়েও যুদ্ধ করেছে। ২.২ ওভারেই ফিল সল্ট (২) আর জস বাটলারকে (০) হারিয়ে ইংল্যান্ডের পিঠ দেয়ালে ঠেকেছিল। ১৬.৫ ইংল্যান্ড ৬ /১১৭ অবস্থানে নিশ্চিত ছিল না ম্যাচ জিতবে কিনা। এই অবস্থায় কালকের খেলার সেরা খেলোয়াড় উইল জ্যাক্স (৩২*) আর রেহান আহমেদ (১৯*) ৩ বল হাতে রেখে ১৬১/৬ করে দলের জয় নিশ্চিত করে। লাইফ লাইন পায় পাকিস্তান। ব্ল্যাক ক্যাপসদের হয়ে কালও রাচীন রাভিন্দ্রা (৩/১৯) ছিল সফল বলার। ইংল্যান্ডের জয়ে পাকিস্তানের জন্য সেমিফাইনালে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সুবিধা হলো পাকিস্তান জানে কত রানে অথবা কত দ্রুত ম্যাচ জিতে রান রেটে এগিয়ে ম্যাচ জিততে হবে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে।  তবে কাজটা খুব সহজ হবেনা।

 

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড

নিউজিল্যান্ড ১৫৯/৭ : (গেলেন ফিলিপ্স ৩৯, টিম স্নেইফার্ট ৩৫, ফিন এলেন ২৯, উইল জ্যাক্স ২/২৩, আদিল রাশিদ ২/২৮, রেহান আহমেদ ২/২৮)

ইংল্যান্ড ১৬১/৬ : ১৯.৩ ওভার (টম বণ্টন ৩৩, উইল জ্যাক্স ৩২*, হ্যারি ব্ৰুক ২৬, স্যাম কুরান ২৪. রাচীন রাভিন্দ্রা ৩/১৯)

ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী। ম্যাচের সেরা : উইল জ্যাক্স

 

যদিও দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসাবে পাকিস্তানের প্রতি কিছুটা সহানুভূতি আছে কিন্তু টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিউজিল্যান্ড সেমি ফাইনাল খেলাটা যথার্থ হবে। পাকিস্তান, ভারত দুটি দল যদি শেষ মুহূর্তে সেমি ফাইনালের টিকেট পায় খুশি হবে আইসিসি। কে জানে সেই ক্ষেত্রে পাক ভারত ব্লকবাস্টার ফাইনাল দেখবে কিনা ক্রিকেট বিশ্ব। সেটি অনেক অনেক দূরের পথ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × 3 =