জিম্বাবুয়ের বড় হার কি বাংলাদেশের ফাইনালের পথ খুলে দিল?

সালেক সুফী

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে চলমান তিন জাতির ক্রিকেট টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের ৯৯ রানের পরাজয়ের পর জিম্বাবুয়েকে ১৫৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করেছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট আফগানিস্তান। আফগানদের এই জয় বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে জিম্বাবুয়ের বড় পরাজয় বাংলাদেশের জন্য শাপে বর হবে কি না, তা নির্ভর করছে শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের ওপর।

বাংলাদেশকে ফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারাতেই হবে। আফগানদের পরাজিত করার সামর্থ্য বাংলাদেশের আছে—এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে আবুধাবির মাঠে শক্তিশালী আফগান দলকে হারানো যে সহজ হবে না, সেটিও স্পষ্ট।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পূর্ণশক্তির আফগানিস্তান। উদ্বোধনী জুটিতে রহমানউল্লাহ গুরবাজের ২৫ রানের সঙ্গে ইব্রাহিম জাদরান যোগ করেন ৯০ রান। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে সেদিকুল্লাহ অতলের সঙ্গে জাদরানের ১৪০ রানের জুটি আফগান ইনিংসকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করায়। অতল খেলেন ১০২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। জাদরানের ৯০ রানের সঙ্গে তাঁর এই শতক আফগানিস্তানের বড় সংগ্রহ গড়ার পথ তৈরি করে।

নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই সব উইকেট হারিয়ে আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৯৪ রান। জিম্বাবুয়ের ব্র্যাড ইভান্স ৪৯ রানে তিনটি উইকেট নিয়ে দলের সফল বোলার ছিলেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও ভালো বোলিং করেছিলেন তিনি। তবে আফগান ব্যাটিং লাইনআপ বাংলাদেশের মতো দ্রুত ভেঙে পড়েনি। বরং টপ অর্ডারের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়।

আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ যে যথেষ্ট শক্তিশালী, তা সবারই জানা। বড় সংগ্রহ পাওয়ার পর সেই বোলিং শক্তি কাজে লাগিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াই ছিল তাদের লক্ষ্য।

জয়ের জন্য ২৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। আফগান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের মুখে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে তারা। একপর্যায়ে জিম্বাবুয়ের স্কোর দাঁড়ায় পাঁচ উইকেটে ১০৫ রান। ঠিক সেই সময় আফগান অধিনায়ক রহমত শাহ কৌশলগতভাবে আক্রমণে আনেন দলের প্রধান অস্ত্র রশিদ খানকে।

বিশ্বসেরা লেগ স্পিনারদের একজন রশিদ খান নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন যথারীতি। মাত্র ১৭ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড ভেঙে দেন তিনি। ফজলহক ফারুকীও দুটি উইকেট নিয়ে তাঁকে কার্যকর সহযোগিতা করেন। শেষ পর্যন্ত ১৩৬ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। আফগানিস্তান জয় পায় ১৫৩ রানের বিশাল ব্যবধানে। ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন সেদিকুল্লাহ অতল।

এই জয়ে আফগানিস্তান শুধু বড় ব্যবধানে জয়ই পায়নি, টুর্নামেন্টে নিজেদের অবস্থানও শক্ত করেছে। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের বড় পরাজয় বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে ওঠার একটি সম্ভাব্য পথ খোলা রেখেছে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে নিজেদের শেষ ম্যাচে জিততেই হবে।

দুই ম্যাচ শেষে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ একটি করে জয়। বাংলাদেশ এখনো জয়ের দেখা পায়নি। ফলে শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। তবে শুধু জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামলেই হবে না; ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে আফগানিস্তানের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণ সামলানো। একই সঙ্গে আফগান ব্যাটসম্যানদের বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ না দেওয়াও জরুরি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফগানদের ব্যাটিং ও বোলিংয়ের যে ভারসাম্য দেখা গেছে, তা বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা।

সব মিলিয়ে জিম্বাবুয়ের বড় পরাজয় বাংলাদেশের ফাইনালের পথ সহজ করেছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো যাবে না। বরং এই ফল বাংলাদেশকে শেষ ম্যাচে জয়ের বাধ্যবাধকতার মুখে দাঁড় করিয়েছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয় পেলে ফাইনালের সমীকরণে বাংলাদেশ টিকে থাকবে; আর পরাজিত হলে টুর্নামেন্টে তাদের পথ কঠিন হয়ে পড়বে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আফগানিস্তান: ২৯৪ অলআউট

সেদিকুল্লাহ অতল ১০২, ইব্রাহিম জাদরান ৯০, হাসমতউল্লাহ শহিদী ২৮, রহমানউল্লাহ গুরবাজ ২৫; ব্র্যাড ইভান্স ৩/৪৯, আর্নেস্ট মাশুকু ৩/৪৪।

জিম্বাবুয়ে: ১৩৬ অলআউট

সিকান্দার রাজা ৪৮, ব্রায়ান বেনেট ৩১, রায়ান বার্ল ৩১; রশিদ খান ৪/১৭, ফজলহক ফারুকী ২/১৫।

ফল: আফগানিস্তান ১৫৩ রানে জয়ী।

ম্যাচসেরা: সেদিকুল্লাহ অতল।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × 5 =