টি ২০ বিশ্বকাপ: জিম্বাবুয়েতে হোঁচট খেলো অস্ট্রেলিয়া

টুর্নামেন্ট ফেভারিট অস্ট্রেলিয়াকে দাপটের সঙ্গে হারিয়ে কেপটাউনের স্মৃতি কলম্বোতে ফিরিয়ে আনলো। আজ কলম্বোতে অনুষ্ঠিত গ্রূপ বি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চৌকষ ক্রিকেট খেলে জিম্বাবুয়ে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চমক সৃষ্টি করে। অস্ট্রেলিয়ার নখ দন্তহীন বোলিং মোকাবেলা করে জিম্বাবুয়ে ১৬৯/২ করার পর পরিকল্পিত বোলিং এবং চৌকষ ফিল্ডিং করে অস্ট্রেলিয়ান ইনিংস ১৪৬ রানে গুটিয়ে দেয়। ক্রমশ ধীর এবং নিচু হয়ে আসা উইকেটে ব্লেসিং মুজারামবানি (৪/১৭) আর ব্র্যাড ইভান্সের (৩/২৩)  স্মার্ট বোলিং মোকাবেলায় ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ান ইনিংস। অপ্রত্যাশিত পরাজয় ২৩ রানের। এবারের টুর্নামেন্টের প্রথম আপসেট। এই পরাজয়ে গ্রূপের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেকটা উন্মুক্ত হয়ে গেল। শ্রীলংকা, জিম্বাবুয়ে ২ ম্যাচ খেলে ৪ পয়েন্টস নিয়ে আছে সুবিধাজনক অবস্থানে। অস্ট্রেলিয়া বাকি সব ম্যাচে জয়ী হয়ে গ্রূপ অফ এইট খেলতে হবে।

জিম্বাবুয়ে ১৬৯/২ (ব্রায়ান বেনেট ৬৪*, তাদিওনাশে মারুমানি ৩৫, রায়ান বারল ৩৫, সিকান্দার রাজা ২৫*, ক্যামেরুন গ্রিন ১/৬)

অস্ট্রেলিয়া ১৪৬ অল আউট (মাট রানশ ৬৫*, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ৩১, ব্লেসিং মাজুরামবানি ৪/১৭, ব্র্যাড ইভান্স ৩/২৩)

জিম্বাবুয়ে ২৩ রানে জয়ী

ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: ব্লেসিং মুজারামবানি

কোন একটি শীর্ষ দল অপেক্ষাকৃত ছোট দলের কাছে হোঁচট খেলে তাকে অনেকেই আপসেট বলে থাকে। আজ খেলার শুরু থেকেই যেভাবে জিম্বাবুয়ে অস্ট্রেলিয়া দলের উপর প্রভাব বিস্তার করে খেলেছে সেটা থেকে আমি ফলাফলকে চমক বললেও আপসেট বলবো না। আজ ম্যাচে নিঃসন্দেহে জিম্বাবুয়ে শ্রেয়তর দল ছিল। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় চয়েস বোলিং জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংয়ের উপর আদৌ প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। বেনেট-মারুমানি জুটি প্রথম উইকেট জুটিতে ৭.৩ ওভারে ৬১ রান তুলে নেয়। কামিন্স, হেজেলউড টুর্নামেন্টে থাকলে হয়ত অস্ট্রেলিয়ান বোলিংয়ে এভাবে মোকাবেলা করার সুযোগ হত না। একে সীমিত বোলিং আক্রমণ তার পর স্টোনিস বোলিং করার সময় আহত হয়ে পড়লে জিম্বাবুয়ে স্মার্ট ব্যাটিং করে ১৬২/২ প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলক স্কোর গড়ে তুলে। ইনিংসের ফিচার ছিল ব্রায়ান বেনেটের অপরাজত ৬৪ রান। মারুমানি আর রায়ান বাড়ল উভয়ই ৩৫ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।  অস্ট্রেলিয়ার বোলিং ছিল নিতান্তই সাদা মাটা।

অস্ট্রেলিয়ান ইংনিসের শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের শরীরী ভাষা ছিল আক্রমণাত্মক। মুজারামবানি আর ইভান্সের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৫ম ওভারেই ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কোনঠাসা হয়ে পড়ে ক্যাঙ্গারু বাহিনী। উইকেট অনেক শ্লথ আর নিচু হয়ে আসায় মাট রানশ আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল হাল ধরলেও কাঙ্ক্ষিত হারে রান তোলা সম্ভব হয়নি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৭৭ রান যোগ হলেও কাঙ্ক্ষিত রান রেট অর্জন দুরূহ হয়ে পড়ে। ম্যাক্সওয়েল আউট হবার পর আর কোন ব্যাটসম্যান রেনসকে সাঙ্গ দিতে পারেনি। রেনস নিজেও ৬৫ রানে আউট হয়ে গেলে অস্ট্রেলিয়ান ইনিংস ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায়।

জিম্বায়ুয়ে দলের বোলিং এবং বিশেষত ফিল্ডিং ছিল বিশ্বমানের। কিছু ক্যাচ এবং আউটফিল্ড ফিল্ডিং ছিল দর্শনীয়। মুজারামবানি আর ইভান্সের বল অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের কাঁপুনি তুলে দেয়। অস্ট্রেলিয়া দলের ব্যাটিং বোলিং দ্রুত সুসংগঠিত না হলে এই দল টুর্নামেন্টের গভীরে যাবে বলে মনে হয় না। অস্ট্রেলিয়ার আজ উচিত ছিল স্টিভ স্মিথকে দলে নেয়া। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে শ্রীলংকাসহ অবশিষ্ট দুই ম্যাচে বড় ব্যাবধানে জয় ছাড়া বিকল্প নেই। আমি কিন্তু জিম্বাবুয়ের জয়কে আদৌ খাটো করে দেখছি। নিঃসন্দেহে এটি বিশাল অর্জন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

sixteen + fourteen =