ঢাকা, ২৯ জুলাই ২০২৬: দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় দেশের বাইরে থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে মুখ খুলেছেন সাকিব আল হাসান। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জানিয়েছেন, তিনি দেশে ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী এবং আশা করছেন খুব শিগগিরই সেই সুযোগ তৈরি হবে। বার্তা২৪ডটকম
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে জাফনা কিংসের হয়ে খেলতে গিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রেভস্পোর্টস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব দেশের প্রতি নিজের অনুভূতি, বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা এবং ব্যক্তিগত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।
দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সবাই বাংলাদেশকে মিস করি। দেশে ফেরার বিষয়ে আমি খুবই আশাবাদী এবং আশা করি খুব শিগগিরই তা সম্ভব হবে।”
সাকিবের এই মন্তব্য নতুন করে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অন্যান্য বাস্তবতায় দেশের বাইরে থাকা এই অলরাউন্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তার মধ্যেই আশাবাদের বার্তা দিলেন তিনি।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করতে গিয়ে সাকিব বলেন, দেশের পেস বোলিং বিভাগ উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। তবে ব্যাটিং ও স্পিন বোলিংয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
তার ভাষায়, “পেসাররা খুব ভালো করছে, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য দারুণ ইতিবাচক। তবে ব্যাটিং ও স্পিন বোলিংয়েও সমান উন্নতি প্রয়োজন। সব বিভাগ শক্তিশালী হলে দল আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে।”
আগামী বছর লর্ডসে বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাকিব। তিনি বলেন, বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী ভেন্যুগুলোতে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট প্রসঙ্গে আইপিএলের স্মৃতিও তুলে ধরেন সাকিব। তিনি বলেন, আইপিএলকে অবশ্যই মিস করেন, তবে দীর্ঘ সময় বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগে খেলতে পারায় তিনি সন্তুষ্ট।
সাকিব বলেন, “সবকিছুরই একটা সময় থাকে। আমি আটটি মৌসুম আইপিএলে খেলেছি। ব্যক্তিগত কারণ ও এনওসি-সংক্রান্ত জটিলতা না থাকলে হয়তো আরও দুটি মৌসুম খেলতে পারতাম। খুব কম ক্রিকেটারই ৮ থেকে ১০ মৌসুম আইপিএলে খেলার সুযোগ পায়।”
৩৯ বছর বয়সে ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন বলে যে আলোচনা চলছে, সে বিষয়ে সাকিবের মন্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত। তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, একজন ক্রিকেটারের মূল্যায়নের একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত তার পারফরম্যান্স।”
জাতীয় দলের হয়ে খেলাকে কতটা মিস করেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের স্মৃতিই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের হয়ে খেলাটা সেভাবে মিস করি না, কারণ অনেক বছর দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছি। সেই স্মৃতিগুলো সবসময়ই আমার সঙ্গে থাকবে। তবে সুযোগ থাকলে আরও কিছুদিন খেলতে অবশ্যই ভালো লাগত।”
সাক্ষাৎকারের শেষদিকে বাংলাদেশের সমর্থকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সাকিব বলেন, “আমি জানি, যেকোনো পরিস্থিতিতেই তারা আমাকে সমর্থন করে যাবেন।”
সাকিবের এই সাক্ষাৎকারে দেশের প্রতি গভীর টান, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার ভাবনা এবং দেশে ফেরার প্রত্যাশা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তার এই মন্তব্য—“দেশে ফেরার বিষয়ে আমি খুবই আশাবাদী”—নতুন করে ভক্ত-সমর্থকদের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।