দ্বিতীয় দিন শেষে স্বস্তির অবস্থানে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ ডারউইন টেস্ট

বিশ্ব ক্রিকেটের বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কট্টর স্বপ্নবিলাসী সমর্থকও ভাবেনি টেস্টের দ্বিতীয় দিনশেষে ৪ উইকেট হাতে রেখে ১৫৩ রানে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের পেস বোলিং দাপটে ১৯৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ করেছে ৩৫১/৬। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একমাত্র মেহেদী মিরাজ ৩২ রানে আছে অপরাজিত। ইতিমধ্যে ১৫৩ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখা যায়। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অতীত-বর্তমান বিষয়ে নিবিড় বিশ্লেষক হিসেবে তবুও লিখতে পুরোমাত্রায় ভরসা পাচ্ছি না টেস্ট জয়ের ফেভারিট বাংলাদেশ।

ম্যাচের এখনো তিন দিন বাকি। কাল যদি বাংলাদেশ ২০০ রান বিস্তৃত করতে পারে তাহলে কিন্তু এই ম্যাচে ফিরে আসা চ্যালেঞ্জিং হবে অস্ট্রেলিয়ার।  উইকেট কিন্তু ধীর হয়ে আসছে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ কার্যকরী বোলিং করে ম্যাচ জয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তবে স্মরণে আছে রিকি পন্টিংয়ের বিশ্বত্রাস অস্ট্রেলিয়া দলকে ফতুল্লা টেস্টে কোণঠাসা করেও হেরে গিয়েছিল পন্টিংয়ের অতি মানবীয় ব্যাটিং কল্যানে। তবে এই বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশে বিশাল ব্যাবধান, আর অস্ট্রেলিয়াও সেই দল নয়। আমার ধারণা কাল যদি লেজের ব্যাটসম্যানদের আড়াল করে মেহেদী মিরাজ লিডটা ২০০+ করতে পারে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরতে পারবে।

আজ সকালে  গতকালের ৯৬/১ স্কোর নিয়ে শুরু করেছিল। ৪৯ রান করে যখন মোমিনুল আউট হয় তখন দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১০২ রান ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। এরপর তামিমকে সঙ্গ দিয়ে নাজমুল শান্ত তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৯৩ রান যোগ করলে বাংলাদেশ এগিয়ে যায়। ১৯৭ বলে ১০১ রান করে তানজিদ তামিম পাকিস্তান কিংবদন্তি হানিফ মোহাম্মদের পর দ্বিতীয় এশিয়ান ব্যাটসম্যান হিসাবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট ইনিংসে শত রান করে।

শান্ত-মুশফিক চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৬৬ রান যোগ হবার পর বাংলাদেশ ইনিংসে মৃদু ধস নামে। ১১ রানের ব্যাবধানে শান্ত (৮৪), লিটন (০) আর মুশফিক (৩২) বিদায় নিলে অস্ট্রেলিয়া সীমিত সময়ের জন্য হলেও ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৬/৩০৮।

সেই অবস্থায় হাসান মাহমুদকে ( ১৩*) সঙ্গী করে অবিচ্ছিন্ন ৭ম উইকেট জুটিতে ৫৩ রান যোগ করে দিন শেষে শক্ত অবস্থানে তাঁবুতে ফেরে মেহেদী হাসান মিরাজ (৩২*)। বাংলাদেশ এগিয়ে আছে ১৫৩ রানে। এখান থেকে বাংলাদেশের দিকে ম্যাচ ঝুকে পড়েছে ঝুঁকি নিয়ে লিখতে রাজি আছি।

আমি অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ দুটি দেশের ক্রিকেট চরিত্র গভীরভাবে জানি। এমন এক ক্রিকেট দল অস্ট্রেলিয়া দেয়ালে পিঠ রেখে ফিরে আসে। আর বাংলাদেশ অনেক সময় প্রত্যাশার চাপে ভেঙে পড়ে। তবুও বলবো ইতিহাস সৃষ্টির দরজায় কশাঘাত করছে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড

অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ অল আউট (স্টিভ স্মিথ ৭১, জেক ওয়েদারাল্ড ২৩, ট্রাভিস হেড ২২। হাসান মাহমুদ ৬/৫৫, ইবাদাত হোসেন ২/৩৯, তাসকিন আহমেদ ২/৫৫)

বাংলাদেশ ৩৫১/৬ (তানজিদ তামিম ১০১, নাজমুল হোসেন শান্ত ৮৪, মোমিনুল হক ৪৯, মুশফিকুর রহিম ৩৬, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩২*। মিচেল স্টার্ক ২/৬৮, জশ হেজেলউড ২/৬৮)

৪ উইকেট হাতে নিয়ে ১৫৩ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen + 5 =