নিজেদের দুর্গম দুর্গে আবারো সিরিজ হারালো ভারত

ক্রিকেট বিশ্বে সকল ফরম্যাটে শীর্ষ স্থানীয় শক্তিশালী দল ভারত। আইসিসির কার্যক্রমে দেখায় দাপট। বিশেষত দেশের মাটিতে ওদের অনেকটা অপরাজেয় অবস্থান সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু নিকট অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হারের পর কাল নিউজিল্যান্ডের কাছে ওডিআই সিরিজ হেরে ভারতের অহংকার চূর্ণ হওয়ার কথা।

এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচ শেষে অবস্থান ছিল ১-১। কাল সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচ জিতে ব্ল্যাক ক্যাপসরা ২-১ সিরিজ জিতে নেয়ায় আগামী মাসে টি২০ বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় করলো।

ইন্দোরে অনুষ্ঠিত দিবা রাত্রির ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ড করেছিল ৩৩৭/৮। ছোট মাঠ, ব্যাটিং সহায়ক উইকেট তদুপুরি ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং ইউনিটের কথা বিবেচনা করে কিছু মানুষ ভেবেছিলো ভারত জিতে সিরিজ জিতে নিবে। কিন্তু লাগসই কৌশল, উপযুক্ত বোলিং আর তুখোড় ফিল্ডিং করে ব্ল্যাক ক্যাপসরা ভারতের ইনিংস ২৯৬ রানে সীমিত রাখলো। যোগ্য দল হিসাবেই ৪১ রানে জয়ী হয়ে সিরিজ জয় করলো নিউজিল্যান্ড।

নানা বিবেচনায় নিউজিল্যান্ড প্রথম চয়েস কয়েকজন শীর্ষ খেলোয়াড়দের বিশ্রামে রেখে কয়েকজন নতুন প্রতিভাকে সুযোগ দিয়ে যাচাই করেছে সিরিজে। অন্যদিকে ভারত স্কোয়াডে জাসপ্রিত বুমরা, রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ছাড়া সবাই ছিল। কাগজে কলমে ভারতের মাটিতে ভারত দল সিরিজ জয়ে ফেভারিট ছিল। কিন্তু অনেক ক্রিকেট পন্ডিতদের ভুল প্রমাণ করে নিউজিল্যান্ড সিরিজ জিতে ভারতের টিম ম্যানেজমেন্টের উপর চাপ আরো বাড়িয়ে দিলো।

ভারত-নিউজিলান্ড ওডিআই সিরিজ।

তৃতীয় ম্যাচ, ইন্দোর, ভারত

নিউজিল্যান্ড ৩৩৭/৮ (ড্যারিল মিচেল ১৩৭, গ্লেন ফিলিপ্স ১০৬, উইল ইয়ং ৩০, অর্শদ্বীপ সিংহ ৩/৬৩, হার্শিত রানা ৩/৮৪)

ভারত ২৯৬ অল আউট (বিরাট কোহলি ১২৪, নীতিশ কুমার রেড্ডি ৫৩, হার্শিত রানা ৫২, জ্যাক ফলকস ৩/৭৭, ক্রিস্টাইন ক্লার্ক ৩/৫৪)

নিউজিল্যান্ড ৪১ রানে জয়ী, নিউজিল্যান্ডের ২-১ সিরিজ জয়।

ম্যাচের এবং সিরিজের সেরা খেলোয়াড়: ড্যারিল মিচেল

নিউজিল্যান্ড দল প্রথম দুই ম্যাচ ভালো খেলায় ভারত দল কিছুটা সতর্ক থাকলেও ম্যাচ হেরে সিরিজে পরাজিত হবে এতটা হয়ত ভাবেনি। তাই দিন রাতের ম্যাচটিতে টস জিতে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। প্রথম দুই ওভারে অর্শদ্বীপ সিংহ আর হার্শিত রানা হেনরী নিকলস আর ডিভন কোনওয়েকে ফিরিয়ে দিয়ে ভারতীয় দর্শকদের উল্লসিত করেছিল। কিন্তু ২/৫ কোনঠাসা অবস্থানে থেকে প্রথমে তৃতীয় উইকেট জুটিতে বোলিং ঝড় সামাল দিলো মিচেল এবং ইয়ং।

দলের স্কোর যখন ৫৮ তখন ৩০ রান করে ফিরে গেলো ইয়ং। চতুর্থ উইকেট জুটিতে মিচেল-ফিলিপ্স জুটি অনবদ্য ব্যাটিং করে ২১৯ রান যোগ করে ভারত বোলিং দুমড়ে মুচড়ে দিলো। মিচেলের ১৩১ বলে করা ১৩৭ রানের ইনিংসে ছিল ১৫ চার আর ৩ টি ছক্কা। ফিলিপ্স ছিল আরো সংহারী। ওর ১০৬ করতে লেগেছে ৮৮ বল। এই জুটিকে ভারত পেস বা স্পিন দিয়ে সামাল দিতে পারেনি। ফিল্ডিংও ছিল নড়বড়ে। ৩৩৭/৮ রানের বিচারে বড় হলেও উইকেট পরিস্থিতি এবং প্রতিপক্ষ অনুযায়ী অনেকের মতে পর্যাপ্ত ছিল না।

কিন্তু বলা যায় জয়ের নেশায় উজ্জীবিত নিউজিল্যান্ড দল পরিস্থিতি অনুযায়ী কুশলী বোলিং আর তুখোড় ফিল্ডিং করেছে। একমাত্র বিরাট কোহলি (১০৮ বলে ১২৪) ছাড়া টপ অর্ডারে রোহিত, শর্মা (১১), সুবমান গিল (২৩), স্রেয়াস আয়ার (৩), কে এল রাহুল (১) ছিল ব্যর্থ। শেষ দিকে নীতিশ রেড্ডি ( ৫৩) আর হার্ষিত রানা (৫২) লড়াই করেছিল। কিন্তু ম্যাচ জয়ের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না।

২৯৬ রানে ভারত ইনিংস সাঙ্গ হওয়ায় ৪১ রানে ম্যাচ জয় করে সিরিজ জিতে নিলো সফরকারী নিউজিল্যান্ড। দুটি সমশক্তির দ্বিপাক্ষিক সিরিজে একটি দল জিতবে একটি হারবে সেটি স্বাভাবিক। কিন্তু দেশের মাটিতে ভারত দলের ক্রমাগত হার কিন্তু শীর্ষ থেকে ভারতের ক্রম ক্ষয়িষ্ণুতা কিনা ভাবনার সময় এসেছে।

আমি নিউজিল্যান্ড দলের কৃতিত্বপূর্ণ জয়কে আদৌ খাটো করে দেখছি না। ক্ষুদ্র একটি দেশ নিউজিল্যান্ডে , ভারতের অনেক শহরে হয়ত নিউজিল্যান্ড জনসংখ্যার থেকে বেশি মানুষ থাকে। সেই দেশ সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকে ভারতের মাটিতে টেস্ট সিরিজে ধবল ধোলাইয়ের পর ওডিআই সিরিজেও হারিয়ে দিলো। জানতে ইচ্ছা হয় সুনীল গাভাস্কার বা রবি শাস্ত্রী কি ভাবছেন?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 − three =