বাংলাদেশ কি পারবে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে?

সালেক সুফী

কয়েকজন প্রথম চয়েস কিংবদন্তি খেলোয়াড়কে বিশ্রামে রেখে অপেক্ষাকৃত কম শক্তির দল নিয়ে বাংলাদেশে পা ফেলেছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। এই দলটি সবে পাকিস্তান সফরে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওডিআই সিরিজ ১-২ ব্যাবধানে  হেরেছে।  অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বাংলাদেশী ক্রিকেট অনুরাগী হিসাবে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট সিরিজ বরাবরের মত এবারও আমাদের কাছে অনেক আকর্ষণের। বিশেষ করে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য যখন দ্বিপাক্ষিক ওডিআই সিরিজে কার্ডিফের সেই একমাত্র ওডিআই ম্যাচ জয়ের পর ওডিআই সিরিজ জয়ের হাতছানি। পাকিস্তান কিন্তু সিরিজ জিতেছে অস্ট্রেলিয়াকে ধীর গতির ঘূর্ণি উইকেটের ফাঁদে ফেলে। বাংলাদেশ কিন্তু সেই পথে হাঁটলে ভুল করবে।

আগামী ৯, ১১ ও ১৪ জুন মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। পরবর্তীতে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন টি-টোয়েন্টি সিরিজ হবে চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে।

দুই ওয়ানডেতে বাংলাদেশের স্কোয়াড: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান, তানজিদ হাসান তামিম, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, রিশাদ হোসেন, তানভীর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম এবং নাহিদ রানা।

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ানডে স্কোয়াড: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জাভিয়ের বার্টলেট, অ্যালেক্স ক্যারি, কপার কনলি, বেন ডারউইশ, নাথান এলিস, ক্যামেরন গ্রিন, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেম্যান, মার্নাস লাবুশেন, ম্যাথু রেনশ, তানভীর সাঙ্ঘা, লিয়াম স্কট ও অ্যাডাম জাম্পা।

পাকিস্তান সিরিজে উইকেটের ধরণে অনভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়া দল প্রথম এবং তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটিং ধকল সইতে না পেরে হেরে গেলেও দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে নিয়েছিল। সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচেও চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছে। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটের স্বরূপ জানা আছে বলেই লিখছি অস্ট্রেলিয়া দলটিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়ার অবকাশ নেই। অস্ট্রেলিয়ার মেয়ে পুরুষ কোন খেলোয়াড়ী দল কখনও কোনো খেলায় হারার আগেই হেরে যায়না। দলে যদিও প্যাট  কামিন্স, জস হেজেলউড, মিচেল  স্টার্ক,স্টিভ স্মিথ ,গ্লেন ম্যাক্সওয়েল নেই তবুও মার্শ, হেড, ক্যামেরুন, কারী, ইংলিস, লাবুশেন, রেনশ, সমন্বিত ব্যাটিং লাইন আপকে অতিক্রম করে সিরিজ জয় করতে বাংলাদেশকে সামর্থের সবকিছু প্রয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশকে যেহেতু অচিরেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজ খেলতে যেতে হবে তাই সুপারিশ করবো স্পোর্টিং উইকেট বানিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি গ্রহণ করার। ঠিক অস্ট্রেলিয়র মূল বোলিং শক্তি অনুপস্থিত থাকলেও নাথান এলিস, জাভিয়ের বার্টলেট, ক্যামেরন গ্রিনকেও সতর্কতার সঙ্গেই খেলতে হবে।  অ্যাডাম জাম্পা আর ম্যাথু কুনেম্যান যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।

বর্তমান ফর্ম আর ফিটনেস বিচার করে বাংলাদেশ স্কোয়াডে মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান সোহানকে ফিরিয়ে এনেছে। নড়বড়ে লেট্ মিডল অর্ডার এই সংযুক্তি কাজে লাগবে বলে মনে হয়। তবে টপ অর্ডার ব্যাটিং বিশেষত ওপেনিং নিয়ে মাথাব্যাথা আছে। তানজিদ তামিম বা সাইফ হাসান এখনো ধারাবাহিক না। সৌম্যকে আবারো একটু দীর্ঘ সময় সুযোগ দেয়া যেতে পারে। তবে ব্যাটিং নিতে হবে শান্ত, লিটন আর তাওহীদ হৃদয়কেও। মোসাদ্দেক সৈকত ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলেছে। সৌম্য এবং মোসাদ্দেক দলে থাকলে বোলিংয়ে বাড়তি অপসন থাকবে। মুস্তাফিজ, নাহিদ রানা, তাসকিন। শরিফুল সিরিজে আলো ছড়াবে। কিন্তু মনে রাখতে হবে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা কিন্তু পেস খেলতে পাকিস্তানীদের মত হাঁসফাঁস করবে না। সেই ক্ষেত্রে জ্বলে উঠতে হবে রিশাদ হোসেন, মেহেদী মিরাজ আর সুযোগ পেলে তানভীরকে। মোসাদ্দেক একাদশে থাকলে বাংলাদেশ তিন পেসার দুই স্পিনার নিয়ে খেলা যুক্তিযুক্ত হবে।

বাংলাদেশকে ভালো খেলে সিরিজ জিতে আইসিসি বিশ্বকাপ ২০২৭ সরাসরি খেলার জন্য নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে। আইসিসি রাংকিংয়ে এখন অস্ট্রেলিয়ার অবস্থান ৩ আর বাংলাদেশের ৯। বাংলাদেশকে মার্চ ২০২৭র মধ্যে অবস্থান শীর্ষ ৮র অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

আমি বদলে যাওয়া বাংলাদেশ নিয়ে দারুন আশাবাদী। আমার মনে হয় বাংলাদেশ ওডিআই সিরিজ জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nine + eight =