বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাত: সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐকমত্যের আহ্বান জানালেন বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিক

দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমানে গভীর সংকটে রয়েছে। অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উচ্চ ব্যয়, জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা, ডলার সংকট, ভর্তুকির চাপ ও সুশাসনের অভাবের কারণে খাতটি আর্থিক ও কাঠামোগতভাবে চাপে পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় নতুন সরকারের তাৎক্ষণিক উদ্যোগের পাশাপাশি বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে পরামর্শ দিয়েছেন এই খাতের বিশ্লেষকরা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চাহিদা নিরূপণে অতীতের অতিরঞ্জিত পূর্বাভাস পরিহার করে ডেটাভিত্তিক পরিকল্পনা নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন বন্ধ, এলএনজি ও তেলনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং কয়লা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুষম ব্যবহারে নীতিগত স্পষ্টতা প্রয়োজন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আগামী সরকারের জন্য টেকসই পথনির্দেশনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। ইংরেজি অনলাইন গণমাধ্যম ‘জাস্ট এনার্জি নিউজ’ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন জাস্ট এনার্জি নিউজের সম্পাদক শামীম জাহাঙ্গীর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মূলত প্রাইমারি এনার্জিতে দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল। এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে এফএসআরইউর সক্ষমতার একটি বড় সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। বর্তমানে দুইটি এফএসআরইউর নির্ধারিত সক্ষমতার বাইরে গিয়ে জরুরি প্রয়োজনে আমদানি বাড়ানো সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘২০০১ সালের পর দেশে বাস্তবভিত্তিক কোনো রিজার্ভার ম্যানেজমেন্ট স্টাডি হয়নি। গ্যাস অনুসন্ধানে গত ১৬ বছর ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছে। অথচ জ্বালানি খাতে বরাদ্দ সীমিত থাকলেও বিদ্যুৎ খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। প্রাইমারি এনার্জিতে বিনিয়োগ ছাড়া টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব নয়। কয়লা খাতে অগ্রগতি নেই এবং ১৯৯৬ সালের পর নতুন কোনো সমন্বিত এনার্জি পলিসি প্রণয়ন হয়নি। দেশের প্রকৃত বিদ্যুৎ চাহিদা বিবেচনায় বিদ্যমান উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ অপ্রয়োজনীয়, যার আর্থিক বোঝা জনগণকে বহন করতে হচ্ছে।’

জালাল আহমেদ আরও বলেন, নতুন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চেয়ে বিদ্যমান সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও বিকল্প জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শর্ত অনুযায়ী তৈরী পোষাক রপ্তানি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ২০৩০ সালের মধ্যে ৪২.৫ মতাংশে নেওয়ার জন্য এখনই নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, নীতিগত সংস্কার ও অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি ছাড়া বিদ্যমান সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন। এসময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জ্বালানির প্রায় ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশই ফসিল ফুয়েলনির্ভর। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্যারিস চুক্তির আলোকে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক একটি চিত্র। একই সঙ্গে বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুতের প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যা গত এক বছরে আরও বেড়েছে। এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও বৈদেশিক মুদ্রা চাপ সহজেই অনুমেয়।’

তিনি বলেন, ‘গ্যাস খাতের দিকে তাকালে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪০০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কম নয়। কিন্তু দৈনিক গড় গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২৫০০ থেকে ২৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট, যার প্রায় ৫৯ থেকে ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ক্যাপটিভ বিদ্যুৎখাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। গৃহস্থালি খাতে গ্যাস ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয় প্রায় ১১ শতাংশ, তবে বাস্তবে এটি ৫–৬ শতাংশের বেশি নয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—গ্যাস বিতরণ ও সঞ্চালনে প্রায় ৮.৫ শতাংশ সিস্টেম লস দেখানো হলেও গ্যাস খাতে প্রকৃতপক্ষে এই ধরনের লস হওয়ার কথা নয়। বাস্তবতায় এটি মূলত চুরি ও অনিয়মের ফল। সব হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, প্রযুক্তিগত ক্ষতি বাদ দিয়েও প্রায় ১০ শতাংশ গ্যাস কার্যত চুরি বা অপচয় হচ্ছে। অতীতে এই চুরিকে দেশীয় গ্যাসের ক্ষতি হিসেবে দেখা হতো, কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। বর্তমানে মোট গ্যাস সরবরাহের ৩০ থেকে ৩৩ শতাংশই আমদানিকৃত এলএনজি। ফলে এই ১০ শতাংশ ক্ষতি মানে হচ্ছে সরাসরি এলএনজির ক্ষতি, যা বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সমান। এই অপচয় বন্ধ করা গেলে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় সম্ভব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক বিদু্যত্ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘বিদ্যুৎ কোনো সহজ বিষয় নয়। বিদ্যুৎ একদিকে একটি বাণিজ্যিক পণ্য, অন্যদিকে রাষ্ট্রের মাধ্যমে পরিচালিত একটি জনসেবা। সরকারকে একদিকে উৎপাদন ও ব্যয়ের হিসাব রাখতে হয়, অন্যদিকে জনগণকে সুলভ দামে বিদ্যুৎ দিতে হয়। এই ভারসাম্য রক্ষা করতে গভীর চিন্তা ও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, যা পাঁচ বছরে সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের নামে গত ১৭ বছর দেশে গণতন্ত্র কার্যত স্থগিত ছিল। এই সময় ‘উন্নয়ন হলেই যথেষ্ট’— এই দর্শনে দেশ পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু সেই উন্নয়নের প্রকৃত বোঝা আজ জনগণের কাঁধে গিয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ খাতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।’

টুকু বলেন, ‘তার সময়ে বিদ্যুৎ খাতে স্পষ্ট নীতি ছিল—৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারের হাতে থাকবে এবং ৩৫ শতাংশ বেসরকারি খাতে দেওয়া হবে পিপিপি ভিত্তিতে। এতে সরকার বাজারের ওপর নিয়ন্ত্রণ রেখে জনগণকে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ দিতে পারত। কিন্তু এই নীতি পরবর্তীতে অনুসরণ করা হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, সরকারের অর্থাভাব দূর করতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো শেয়ারবাজারে আনার পরিকল্পনা ছিল। এতে জনগণ একদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী, অন্যদিকে শেয়ারহোল্ডার হিসেবে ডিভিডেন্ড পেত এবং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বাড়ত। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়নি; বরং ক্যাপিটাল মার্কেটকে দুর্বল করা হয়েছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিদ্যুৎ সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান একমাত্র গ্যাসনির্ভর করে করা ছিল বড় ধরনের নীতিগত ভুল। কোনো দেশ একটিমাত্র জ্বালানির ওপর নির্ভর করে বিদ্যুৎ পরিকল্পনা করতে পারে না। এতে জ্বালানি সংকট দেখা দিলেই পুরো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল (পিপিআর) বাতিল করে ওয়ান-টু-ওয়ান নেগোশিয়েশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র দেওয়া হয়েছে, যা দুর্নীতি ও লুটপাটের পথ খুলে দিয়েছে। গত ১৭ বছরে বাপেক্সকে কার্যত ব্যবহার না করে আমদানিনির্ভর জ্বালানি নীতিই অনুসরণ করা হয়েছে।

টুকু বলেন, দেশে কয়লা থাকা সত্ত্বেও তা উত্তোলনে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও দুর্বল হয়েছে। অন্যদিকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করছে।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যে সরকারই আসুক, ‘বিজনেস অ্যাজ ইউজুয়াল’ চলবে না। দেশ গভীর আর্থিক সংকটে রয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে জাতীয় ঐকমত্য, কাঠামোগত সংস্কার এবং জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা ছাড়া বিকল্প নেই।’

আদানির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বাতিলের দাবি প্রসঙ্গে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও আইইউবি’র উপাচার্য অধ্যাপক এম. তামিম বলেন, সামনে দেশে বড় জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করতে হবে। বিদ্যুৎ চুক্তি বাতিলের আগে চলমান অবস্থায় যাচাই ও পর্যালোচনা জরুরি, কারণ তা না হলে সরবরাহ বন্ধ হয়ে জনগণ ভোগান্তির মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিজস্ব গ্যাস সবচেয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের তুলনায় এখনও অনেক সাশ্রয়ী। নিজস্ব জ্বালানি ছাড়া বিদ্যুৎ ১০ টাকার নিচে দেওয়া সম্ভব নয়।

এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মুশতাক হোসাইন খান বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি কয়েকটি ভয়াবহ অমীমাংসিত সংকটের মুখে রয়েছে, যা ধ্বস নামাতে পারে। ব্যাংকিং খাতে প্রায় ৩৫ শতাংশ খেলাপি ঋণ এবং বিদ্যুৎ খাতের গভীর আর্থিক সংকট সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।’

তিনি বলেন, ‘গত বছর বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিতে হয়েছে, যার বড় অংশ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করা হয়েছে। এই লোকসান ঋণ বা টাকা ছাপিয়ে বহন করা সম্ভব নয়; এতে হাইপার ইনফ্লেশনের আশঙ্কা তৈরি হবে। ভর্তুকি তুলে নিতে হলে বিদ্যুতের দাম প্রায় ৮৬ শতাংশ বাড়াতে হবে, তাহলে শিল্প খাত টিকবে না এবং দেশে ডি-ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন শুরু হবে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংকটের মূল কারণ নীতির অভাব নয়, বরং ২০১০ সালের পর থেকে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি। বিদ্যুৎ উৎপাদন চার গুণ বাড়লেও খরচ বেড়েছে ১১ গুণ এবং ক্যাপাসিটি চার্জ বেড়েছে ২০ গুণ। মাস্টার প্ল্যান উপেক্ষা করে এবং অযৌক্তিক চুক্তির মাধ্যমে এই সংকট তৈরি হয়েছে। দুর্নীতি বন্ধ না হলে কোনো নীতিগত সংস্কারই কার্যকর হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল আহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, জাতীয় ইস্যুতে সকল রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীদের মধ্যে ঐকমত্যের প্রয়োজন। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নীতি বদলে যাওয়ায় সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, বরং সমস্যা বেড়ে যাচ্ছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, দুর্নীতি রোধ, এবং দেশপ্রেমমূলক নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কমিটমেন্ট এবং দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য।

সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের (বিইপিআরসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওয়াহিদ হোসেন বলেন, ‘আসন্ন সরকারের জন্য শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ রয়েছে, বিশেষ করে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। অপ্রিয় সত্য বলা ও অপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরুতেই করা ভালো, কারণ সরকারকে তিন-চার বছরের মধ্যে নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হয়।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. শামসুল আলম বলেন, ‘বছরের পর বছর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অনিয়ম চললে কোনো প্রতিষ্ঠান সুস্থভাবে কাজ করতে পারে না। রেগুলেটরি কমিশন, যা সেক্টরের একমাত্র নিয়ন্ত্রক, দায়িত্বপালনে ব্যর্থ হয়েছে এবং অনিয়ম ও করাপশনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের হাতিয়ার হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার রিসার্চ কাউন্সিলের অতিরিক্ত সচিব ও সদস্য (উদ্ভাবন) ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রাকৃতিক গ্যাসের পাশাপাশি সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ, বায়োমাস ও ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাগুলো কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। এ জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক রোডম্যাপ ও অ্যাকশন প্ল্যান প্রণয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব নয়; দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। গবেষণাভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য নীতি গ্রহণের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে।’

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির আহ্বায়কসাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ওমূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ, বিইআরসির সাবেক সদস্য মো. মিজানুর রহমান, চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের প্রধান নির্বাহী এম. জাকির হোসেন খান, আইইইএফএ’র লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম, এলপিজি অটোগ্যাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনেরর সভাপতি মো. সিরাজুলমাওলা, লোয়াবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ, সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন মালিক সমিতির মহাসচিব ফারহান নূর, রবির চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার শহীদ আলমসহ প্রমুখ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + five =