বিপিএল ২০২৬ কাল দেখলো দুটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ

কাল ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ছিল বিপিএল ২০২৬ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। লো স্কোরিং দুটি ম্যাচেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। প্রথম ম্যাচে টুর্নামেন্ট ফেভারিট রংপুর রাইডার্সকে ম্যাচের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ইংল্যান্ডের অল রাউন্ডার ক্রিস ওকস পরাজিত করে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে সিলেট টাইটান্স। দ্বিতীয় ম্যাচটিতে অন্যতম ফেভারিট দল রাজশাহী ওরিয়র্সকে ম্যাচের শেষ ওভারে ৩ বল বাকি থাকতে হারিয়ে প্লে অফ নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। বলবোনা গুনে মানে অথবা ব্র্যান্ড ভালুতে বিপিএল আইপিএল, বিগব্যাশ বা পিএসএলের সঙ্গে তুলনীয়। কিন্তু কালকের ম্যাচ দুটি কিন্তু উত্তেজনা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর আকর্ষণে কিন্তু মাঠে উপস্থিত এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় দেখা ক্রিকেট প্রেমিকদের প্রাণভরে উপভোগের সুযোগ করে দিয়েছে।

রংপুর রাইডার্স: সিলেট টাইটান্স এলিমিনাটার ম্যাচ

রংপুর রাইডার্স ১১১/৯ (মাহমুদুল্লাহ ৩৩, খুশদিল শাহ ৩০, খালেদ আহমেদ ৪/১৪, নাসুম আহমেদ ২/১২, ক্রিস ওকস ২/১৫)

সিলেট টাইটান্স ১১২/৭ (স্যাম বিলিংস ২৯, পারভেজ ইমন ১৮, মেহেদী মিরাজ ১৮, এলিস আল ইসলাম ২/১৮, মুস্তাফিজুর রহমান ২/২০)

ম্যাচ সেরা: খালেদ আহমেদ।

তারকায় ঠাসা রংপুর রাইডার্স ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল। এই দলে বাংলাদেশের জাতীয় দলের লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, মুস্তাফিজুর রহমান, পঞ্চ পাণ্ডবের মাহমুদুল্লাহ ছিল, ছিল ডেভিড মালান, কাইল মায়ার্স, খুশদিল শাহ, ফাহিম আশরাফের মতো খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। সেই দলটি মিরপুরের দুর্বোধ্য উইকেটে সিলেটের খালেদ আহমেদের  (৪/১৪) দুর্দান্ত পেস বোলিংয়ের মোকাবেলায় মুখ তুবড়ে পড়ে। মালান (৪), হৃদয় (৪)  লিটন (১) মায়ার্স (৮) রানে বিদায় নিলে রংপুর শুরুতেই ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কোনঠাসা হয়ে পড়ে। সিলেট কালকের ম্যাচের জন্য ইংল্যান্ড থেকে উড়িয়ে এনেছিল ইংল্যান্ড জাতীয় দল থেকে অবসর নেওয়া চৌকষ খেলোয়াড় ক্রিস ওকসকে। ওকস  বল হাতে ১৫ রানে ২ উইকেট এবং বাটিংয়ে ম্যাচের শেষ বলে প্রয়োজনীয় ছক্কা হাঁকিয়ে নাটকীয় জয় উপহার দেয় সিলেট দলকে। রংপুরের হয়ে বর্ষীয়ান মাহমুদুল্লাহ ৩৩ আর পাকিস্তানের খুশদিল শাহ (৩০) ছাড়া সবাই ছিল ব্যর্থ।

আমি বলবো সীমিত পুঁজি নিয়েও দারুন লড়াই করে কাল ম্যাচটিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছিল রংপুর রাইডার্স। স্যাম বিলিংস (২৯), পারভেজ ইমন (১৮), মঈন আলী (১৮), আরিফুল ইসলাম (১৭) ছাড়া বাকি সবাই ছিল বার্থ।  ম্যাচটি শেষ ওভারে গড়ালো। শেষ বলটিতে ম্যাচ জয়ের জন্য প্রয়োজন ৬ রান. বোলিং করছিলো পাকিস্তানের ফাহিম আশরাফ। উইকেটে ক্রিস ওকস.  দুর্দান্ত ছক্কা হাঁকিয়ে নাটকীয় ভাবে ম্যাচটি জিতিয়ে দিলো ওকস।  তীরে এসেও টোরি ডুবলো রংপুর রাইডার্সদের। সিলেট সিক্সার্সের খালেদ দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হলো।

চট্টগ্রাম রয়্যালস: রাজশাহী ওরিওর্স  কোয়ালিফায়ার ম্যাচ

রাজশাহী ওরিওর্স ১৩৩ রানে অল আউট (তানজিদ তামিম ৪১, আব্দুল  গাফফার সাকলাইন ৩২, সাহিব জাদা ফারহান ২১, মাহেদী হাসান ২/২০, আমের জামাল ২/২৭)

চট্টগ্রাম রয়্যালস ১৩৪/৪  ১৯.৩ ওভার  (মির্জা বেগ ৪৫, মোহাম্মদ নাঈম ৩০, হাসান নেওয়াজ ২০, মাহেদী হাসান ১৯*, আব্দুল গাফ্ফার সাকলাইন ২/২০)

ম্যাচ সেরা: মাহেদী হাসান

এবারের বিপিএলে অন্যতম ফেভারিট দল ছিল রাজশাহী ওরিয়র্স। গ্রূপ পর্ব শেষ করেছিল সবার শীর্ষে থেকে। অন্যদিকে টুর্নামেন্টের শুরুতেই চট্টগ্রাম ফ্রাঞ্চাইজটির মালিক সটকে পড়ায় বিসিবিকে দলের দায়িত্ব নিতে হয়েছে। কাল কিন্তু ভালো খেলেই চট্টগ্রাম ম্যাচ জিতে সবাইকে বিস্মিত করেছে। ফাইনালে খেলবে এখন চট্টগ্রাম রয়্যালস ভাবতেই অবাক লাগে। রাজশাহী রয়্যালস খেলবে সিলেট টাইটানসের বিরুদ্ধে ফাইনাল খেলার জন্য।

মিরপুরের উইকেট টি২০ র জন্য আদর্শ ছিল না। কিন্তু তাই বলে এটাও বলা ঠিক হবে না উইকেটে রান ছিল না। সেই উইকেটে দুর্দান্ত ব্যাটিং লাইনআপ (সাহেবজাদা ফারহান, তানজিদ তামিম, নাজমুল শান্ত , মুশফিকুর রাহিম, আকবর আলী, জেমস নিশাম) নিয়েও প্রথমে ব্যাটিং করে রাজশাহী ইনিংস ১৩৩ রানে সীমিত রাখার কৃতিত্ব অবস্যই চট্টগ্রামের বোলার্স ফিল্ডার্সদের। গোটা টুর্নামেন্ট ভালো ব্যাটিং করা শান্ত (৮) , মুশফিক (০) , আকবার (৩) কাল ব্যর্থ হয়েছে। কিছু করতে পারেনি জেমস নিশাম (৬), রায়ান বারল (৩)। সাহেবজাদা ফারহান (২১) আর তানজিদ তামিম (৪১) উইকেটে স্থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেনি। চট্টগ্রাম দলের হয়ে ভালো বোলিং করেছে অধিনায়ক মাহেদী হাসান (২/২০) আর পাকিস্তানী বোলার আমের জামাল (২/২৭)।

সীমিত পুঁজি নিয়েও দারুন লড়াই করে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিল রাজশাহীর দলটি। ম্যাচ গড়িয়েছিল শেষ ওভার পর্যন্ত। কিন্তু কাজের কাজটি করে দিয়েছিলো চট্টগ্রাম দলের উদ্বোধনী জুটি মির্জা বেগ (৪৫) আর শেখ নাঈম (৩০) ৬৪ রান তুলে। দলের জয়ে অবদান রেখেছে হাসান নেওয়াজ (২০) এবং অধিনায়ক মাহেদী হাসান (১৯*)। টাইট বোলিং এবং ফিল্ডিং করে রাজশাহী খেলাটি শেষ ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়েছিল। কিন্তু পুঁজি অন্তত ১৫-২০ রান কম থাকায় ম্যাচ জয় হাত ফস্কে গেলো। সাবাস চট্টগ্রাম যোগ্য দল হিসাবেই ফাইনালে উঠে গেলো। রাজশাহীকে খেলতে হবে এখন সিলেট দলের বিরুদ্ধে।

টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলা এখনো অনিশ্চিত রাজনৈতিক টানাপোড়নে। তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো ছাড়া বিকল্প নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + 16 =