বিশ্বকাপ জয়ের রাতে স্পটলাইটে ইয়ামালের ছোট ভাই কেইন, আবেগঘন মুহূর্তে মুগ্ধ ফুটবল বিশ্ব

স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে শামিল হয়েছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। তবে শিরোপা উৎসবের মাঝেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে লামিন ইয়ামাল ও তার তিন বছর বয়সী সৎভাই কেইনের আবেগঘন পুনর্মিলনের মুহূর্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ১৬ বছর পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। ম্যাচ শেষে যখন সতীর্থদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে ব্যস্ত ছিলেন ইয়ামাল, তখন গ্যালারি থেকে দৌড়ে এসে বড় ভাইকে জড়িয়ে ধরে ছোট্ট কেইন। ইয়ামালও তাকে কোলে তুলে নিয়ে ভালোবাসায় ভরিয়ে দেন। দুই ভাইয়ের সেই আবেগময় মুহূর্ত মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

বিশ্বকাপজুড়ে স্পেনের প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারিতে দেখা গেছে কেইনকে। কখনও দুই হাত নেড়ে উল্লাস, কখনও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লাফিয়ে আনন্দ—তার সরল উচ্ছ্বাস দর্শকদের নজর কেড়েছে বারবার। মাত্র তিন বছর বয়সী এই শিশুর কাছে বিশ্বকাপের গুরুত্ব হয়তো স্পষ্ট নয়, কিন্তু বড় ভাইয়ের প্রতিটি সাফল্য যেন তার নিজের উৎসবে পরিণত হয়েছে।

ফাইনালের পর আরও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায় গোলপোস্টের জালের একটি অংশ স্মারক হিসেবে হাতে নিয়ে ইয়ামালের দিকে ছুটে যাচ্ছে কেইন। বড় ভাইকে কাছে পেয়েই তাকে জড়িয়ে ধরে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে সে। এই দৃশ্য ফুটবলপ্রেমীদের আবেগাপ্লুত করেছে।

কেইন ইয়ামালের মায়ের দ্বিতীয় সংসারের সন্তান। ইয়ামালের জন্মের কিছুদিন পর তার বাবা মুনির নাসরাউই ও মা শেইলা এবানার বিচ্ছেদ হয়। পরে শেইলা নতুন সংসার শুরু করলে সেখানে জন্ম হয় কেইনের। ইয়ামালের বাবার দিক থেকেও আরেক সৎবোন রয়েছে, যার নাম বারা।

বিশ্বকাপেই প্রথম নয়, ইয়ামালের ক্যারিয়ারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও দেখা গেছে কেইনকে। বার্সেলোনার ম্যাচ থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে বড় ভাইয়ের পাশে ছিল সে। এবারের বিশ্বকাপেও স্পেনের প্রায় প্রতিটি ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ধীরে ধীরে নিজেই টুর্নামেন্টের অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয় ছোট্ট কেইন।

এদিকে মাঠের পারফরম্যান্সেও উজ্জ্বল ছিলেন ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল করলেও তার গতি, ড্রিবলিং ও আক্রমণ সাজানোর দক্ষতা স্পেনের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফাইনালেও তার একাধিক প্রচেষ্টা আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ রুখে দেন। শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলে নিশ্চিত হয় স্পেনের বিশ্বকাপ জয়।

ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর মাত্র ১৯ বছর বয়সেই বিশ্বকাপও জিতে ইতিহাসে নিজের নাম লেখালেন ইয়ামাল। তবে শিরোপা জয়ের রাতের সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া ছবি হয়ে থাকবে ট্রফি হাতে নয়, বরং ছোট ভাই কেইনকে বুকে জড়িয়ে ধরা এক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফুটবলারের ভালোবাসার মুহূর্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

12 − 5 =