বিশ্বব্যাংক: উন্নয়নশীল দেশের দ্রুত প্রবৃদ্ধির নতুন সুযোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

শিব্বীর আহমেদ ওয়াশিংটন ডিসি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং জনসেবার মান উন্নত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬: দ্য প্রমিজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি নিজেরাই তৈরি করার প্রতিযোগিতায় নামার প্রয়োজন নেই।

বরং বিদ্যমান প্রযুক্তি গ্রহণ, স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার উপযোগী করা এবং ধীরে ধীরে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর মধ্য দিয়েই এসব দেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিধা অর্জন করতে পারে।

বিশ্বব্যাংক এ ক্ষেত্রে তিনটি ধাপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে—গ্রহণ, অভিযোজন এবং অগ্রগতি। প্রথম ধাপে উন্নয়নশীল দেশগুলো বিদ্যমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা ও সরকারি সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যবহার করতে পারে। এরপর স্থানীয় ভাষা, তথ্য, প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব প্রযুক্তিকে অভিযোজিত করার সুযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃষকদের আবহাওয়া ও উৎপাদনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা, চিকিৎসাক্ষেত্রে রোগ শনাক্তকরণে সহায়তা এবং শিক্ষকদের পাঠ প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করার মতো কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ইতোমধ্যে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।

তবে বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সুফল পাওয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিশ্চিত হবে না। নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো, ইন্টারনেট সংযোগ, দক্ষ জনশক্তি, মানসম্মত শিক্ষা, প্রয়োজনীয় তথ্য এবং কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এর সুফল পাওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বৈষম্যের ঝুঁকির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। বর্তমানে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল, অর্ধপরিবাহী প্রযুক্তি এবং তথ্যকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ বিশ্বের অল্প কয়েকটি দেশ ও বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো নতুন ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর নির্ভরতার মধ্যে পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, বিপুল ব্যয়ে অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল তৈরির পরিবর্তে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিদ্যমান প্রযুক্তির বাস্তবভিত্তিক ব্যবহার বেশি কার্যকর কৌশল হতে পারে। একই সঙ্গে এসব দেশকে ডিজিটাল অবকাঠামো, দক্ষতা ও নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে।

বিশ্বব্যাংক মনে করে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের মতো আগের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির তুলনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে সঠিক নীতি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলো তুলনামূলক কম সময়ে এর অর্থনৈতিক সুবিধা কাজে লাগাতে পারে।

প্রতিবেদনটির মূল বার্তা হলো—বিশ্বের দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে শীর্ষ প্রযুক্তি নির্মাতা হওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিজেদের অর্থনীতি ও মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তি গ্রহণ ও ব্যবহার করতে পারলেই উৎপাদনশীলতা, কর্মদক্ষতা এবং জনসেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব।

সূত্র: বিশ্বব্যাংক, ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬: দ্য প্রমিজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

nineteen + ten =