মতপার্থক্য যেন মতবিরোধের পর্যায়ে না যায়: তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের পরিণতি কী হতে পারে তা দেশের মানুষ ৫ আগস্ট দেখেছে। মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে কমিয়ে আনতে হবে। মতপার্থক্য যেন মতবিরোধের পর্যায়ে না যায়। খবর বাসস

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যে কোন মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু রাখতে হবে। আমাদের সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে। কিন্তু আমরা ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। তাই মতপার্থক্য ভুলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।’

আজ শনিবার রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে দেশের জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমগুলোর সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

দেশে ফিরে বিভিন্ন স্থানে সফর করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি দিকনির্দেশনা ও আশার খোঁজ করছে। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, সব প্রজন্মই একটি গাইডেন্স প্রত্যাশা করছে। যারা রাজনীতি করেন, তাদের প্রতি মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সব প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব না হলেও, রাজনীতিবিদরা যদি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কাজ করেন, তাহলে জাতিকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’

নারীদের নিরাপত্তা বিষয়ে এক নারী সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘শুধু নারীর নয়- নারী ও পুরুষ সবারই নিরাপত্তা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় সাত হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যা অস্বাভাবিক। কোনো বছর কম, কোনো বছর বেশি হলেও এমন ঘটনা কেন ঘটছে- তা নিয়ে রাজনীতিবিদদের গভীরভাবে ভাবা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। আগামী ২২ তারিখ থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণাকালে আমরা সকলে জনগণের কাছে যাবো। জনগণের ভোটে আগামীতে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে সকলের সমালোচনা সঙ্গে নিয়েই আমরা জনগণের সকল সমস্যা সমাধান করবো।

কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে না পারলে সব অর্জন ধ্বংস হয়ে যাবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি নারী, কৃষক, প্রবাসী ও তরুণসহ নাগরিকদের জীবন মান উন্নয়নে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

এর আগে বেলা ১১ ২০ মিনিটে  মাওলানা আবুল কালাম আজাদের কোরআন তেলওায়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। তারেক রহমান উপস্থিত সাংবাদিকের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।

পরে স্বাগত বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ এক কঠিন সময়ে আমাদের নেতা তারেক রহমান বিদেশ থেকে দেশে এসেছেন। তিনি দূর থেকে এই দেশ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছেন, তাতে গোটা জাতি আজকে অনেক বেশি আশান্বিত হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা- বহু বছর পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশকে একটি উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে পারব।’

অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জাতীয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন গণমাধ্যমের সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

3 × five =