মুক্ত ও দায়িত্বশীল বুদ্ধিচর্চাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি: তথ্যমন্ত্রী

ঢাকা, ৪ জুলাই ২০২৬ – তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব গভীর ও জটিল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কোনো একক আদর্শ, দর্শন বা চিন্তার আধিপত্য মানবসভ্যতার জন্য স্থায়ী সমাধান বয়ে আনতে পারে না। তিনি বলেন, সব ধরনের বৈচিত্র্য, ভিন্নমত ও আদর্শের অবাধ আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব, আর এজন্য প্রয়োজন মুক্ত ও দায়িত্বশীল বুদ্ধিচর্চা। খবর বাসস

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে বৈশ্বিক গবেষণা, সংলাপ ও জ্ঞানচর্চার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তি, বিভাজন এবং উপরিভাসা আলোচনার প্রবণতা বাড়ছে। এমন বাস্তবতায় জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বিশ্বাসযোগ্য বুদ্ধিবৃত্তিক উদ্যোগ সময়ের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট গবেষণাভিত্তিক জ্ঞানচর্চা ও গঠনমূলক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

মন্ত্রী বলেন, ভাষা, জাতিসত্তা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক বৈচিত্র্য প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। কোনো একক গোষ্ঠী বা পরিচয় বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না। তাই বিভিন্ন মতাদর্শের গবেষক ও চিন্তাবিদদের সম্মিলিতভাবে এমন সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, যা মানবসভ্যতার সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সব ধরনের বৈচিত্র্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতিতে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির মূল ভিত্তি হলো—প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে নিজের মত প্রকাশ করবেন এবং সুস্থ পরিবেশে মতের আদান-প্রদান হবে। আল-উম্মাহ জার্নালের ঘোষিত লক্ষ্যও এই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি—চারটি ভাষায় জার্নালটি প্রকাশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়লে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে ভুল বোঝাবুঝি কমে আসবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্বখ্যাত তুর্কি লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই বলেন, মুসলিম বিশ্বের সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যকে সমসাময়িক বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করা সময়ের দাবি। তার মতে, আল-উম্মাহ বিশ্বজুড়ে গবেষক ও চিন্তাবিদদের সংযুক্ত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ এফ এম খালিদ হোসেন বলেন, প্ল্যাটফর্মটি ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার করার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জার্নালের সম্পাদক ইন চিফ মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে এক প্যানেল আলোচনায় মুসলিম বিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifteen − 1 =