রেলপথের অগ্রগতি ও বর্তমান সরকারের লক্ষ্য

রেজাউল করিম সিদ্দিকী

বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে রেলপথ এক গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবকাঠামো। নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে রেলখাতকে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার অগ্রভাগে স্থান দেওয়া হয়েছে। সেবার মানোন্নয়ন, ব্যয় যৌক্তিকীকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রেলওয়েকে একটি কার্যকর ও জনগণমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের সংস্কার, উন্নয়ন প্রকল্প ও নীতি-উদ্যোগসমূহ রেলপথকে দেশের সমন্বিত ও সবুজ পরিবহন ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় মেরুদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য এবং সময়নিষ্ঠ সেবা নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান সরকারের সময়ে সেবার মানোন্নয়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং যাত্রীবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণে বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

যাত্রীরা দিনের যেকোনো সময়ে যাতে ট্রেনের প্রকৃত অবস্থান ও সময় সহজে জানতে পারেন এবং রেলসেবা সংক্রান্ত অভিযোগ/পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি রেলসেবা সম্পর্কিত তথ্য জানতে পারেন সেজন্য কল সেন্টার নম্বর ১৩১ চালু করা হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও বিদ্যমান ই-টিকিটিংয়ের মানোন্নয়নের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। যাত্রীসেবাকে সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করতে, টিকিট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অনিয়ম কমিয়ে আনার লক্ষ্যে শতভাগ অনলাইন টিকিটিং চালু করা হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। ঢাকা-জয়দেবপুর-ঢাকা রুটে ১ জোড়া এবং ঢাকা-ভৈরববাজার-ঢাকা রুটে ১ জোড়া কমিউটার ট্রেন চালু করা হয়েছে। এসব কমিউটার ট্রেনে মেট্রোরেলের কোচের ন্যায় আসন ব্যবস্থাসহ মহিলাদের জন্য পৃথক কোচ সংযোজন করা হয়েছে। এর ফলে এসব ট্রেনে অধিক সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কর্তনের মাধ্যমে একাধিক বড় প্রকল্পে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যয় হ্রাস করা হয়েছে। এর ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। উল্লেখযোগ্য প্রকল্পসমূহের মধ্যে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে ৬২১.৮৯ কোটি টাকা, দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার ও রামু-গুনদুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে ৬ হাজার ৬শ ৯৮ কোটি ৫০ লাখ, আখাউড়া-লাকসাম ডুয়েলগেজ ডাবল রেললাইন নির্মাণ ও বিদ্যমান রেললাইনকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর (২য় সংশোধিত) প্রকল্পে ৮৫৯.২০ কোটি, বাংলাদেশ রেলওয়ের রোলিং স্টক অপারেশন উন্নয়ন (রোলিং স্টক সংগ্রহ) (১ম সংশোধিত) প্রকল্পে ৩৯.১৩ কোটি, আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেল সংযোগ নির্মাণ (বাংলাদেশ অংশ) প্রকল্পে ১৯১.৮৩ কোটি, খুলনা-মংলা পোর্ট রেলপথ নির্মাণ (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পে ১৮৩.৩০ কোটি টাকা—মোট ৮,৫৯৩.৮৬ কোটি টাকা ব্যয় হ্রাস করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 − six =