শ্রীলংকাকে উড়িয়ে দিয়ে নিউজিল্যান্ডের সেমি ফাইনাল সম্ভাবনা উজ্জ্বল

সালেক সুফী

শ্রীলংকার বিরুদ্ধে  নিউ জিল্যান্ডের ৬১ রানে বিশাল জয় পাকিস্তানের সেমি ফাইনাল সমীকরণ জটিল করে দিলো। একই সঙ্গে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়লো শ্রীলংকা। অথচ নিউজিল্যান্ড  ইনিংসের  একটা পর্যায় ( ১২.১ ওভার ) পর্যন্ত ৮৬/৬ ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ শ্রীলংকার হাতে ছিলো।  শেষ ৭ ওভারে মিচেল সান্টনার (২৬ বলে ৪৭) আর কোলি ম্যাককনি (২৩ বলে ৩১*) জুটি ঝড়ের গতিতে ৮৪ রান তুলে নিউ জিল্যান্ডকে ম্যাচ জয়ের পুঁজি এনে দেয় (১৬৮/৭) . কিছুটা বিপর্যস্ত শ্রীলংকা রাচীন রাভিন্দ্রার (৪/২৭) ঘূর্ণি বলের মায়াজালে ধরা পরে ১০৭/৮ সীমিত থাকলে ৬১ রানের বিশাল ব্যাবধানে হেরে যায়। ২ ম্যাচ খেলে ব্ল্যাক কাপসের সংগ্রহ ৩ পয়েন্টস। ৩.০৫০ নেট রান রেট অর্জন করে নিউজিল্যান্ড এখন অনেকটাই স্বস্তিতে।  হাতে আছে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচটি। ইংল্যান্ড কিন্তু ৪ পয়েন্টস নিয়ে নিজেদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে। পাকিস্তানকে এখন শেষ ম্যাচে শ্রীলংকাকে বিশাল ব্যাবধানে হারানো ছাড়াও ইংল্যান্ডের কাছে নিউজিল্যান্ডের পরাজয় কামনা করতে হবে।  শ্রীলংকার বিদায় ঘন্টা বেজে গাছে। সম্ভাবনা আছে পাকিস্তানের ছিটকে পড়ার। যদি তাই হয় আর x গ্রুপ থেকেও ভারত সেমি ফাইনালে যেতে না পারে তাহলে টুর্নামেন্টে দক্ষিণ এশিয়ার কোন দল টিকে থাকবে না।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের উইকেট ধীর এবং গ্রিপিং। টস জয় করে কেন শ্রীলংকা ব্যাটিং করলো না সেটি যে আত্মঘাতী ছিল তা নিজেদের ইনিংসে রাচীন রাভিন্দ্রার মত অনিয়মিত স্পিনারের মোকাবিলায় তাসের ঘরের মত ধস নামা প্রমান করে নিউজিল্যান্ড কিন্তু তেড়েফুঁড়ে শুরু করেছিল। ৩.১ ওভারেই রান উঠেছিল ৩০, কিন্তু ৩.১ থেকে ১২.১ সময়ে ব্লাকক্যাপসদের ৬ উইকেট দ্রুত পতন ঘটলে ইনিংস স্বল্প রানে গুঁড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা দেখা দেয়। দেয়ালে পিঠ রেখে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় অধিনায়ক মিচেল সান্টনার (৪৭) আর কোল মাকন্চি (৩১*)। ওদের যোগাযোগে ৭.৫ ওভারে ৮৪ রান সংগ্রহীত হলে ব্ল্যাক ক্যাপসদের লড়াই করার পুঁজি ১৬৮/৭ এসে যায়।সান সান্টনার দলের বিপদ মুহূর্তে ২৬ বলে ২ চার আর ৪ ছক্কায় ৪৭ আর মাকন্চি ২৩ বলে অপরাজিত ৩১ রান করে খেলার ধারা পাল্টে দেয়। শেষ মুহূর্তে ব্ল্যাক ক্যাপস ব্যাটিং তান্ডব হকচকিয়ে দেয় লংকানদের।  শ্রীলংকান বোলারদের মধ্যে কাল মাহেশ থিকসানা (৩/৩০), আর দুস্মনথা চামিরা (৩/৩৮) ছিল সফল বলার।

শ্রীলংকান ইনিংসে মড়ক লাগে। নিঃশঙ্কা (০), আসালংকা (৫), কুশল মেন্ডিস (১১), রত্নায়েকে (১০ ), শানাকা (৩),মধুসকা (৩) আতংক গ্রস্তের মত দ্রুত বিদায় নিলে ৭/৭৭ মৃত্যুকুপের কিনারে চলে যায় লংকান ইনিংস। আর এই ব্যাটিং ধস সৃষ্টি করে অনিয়মিত স্পিনার রাচীন রাভিন্দ্রা ( ৪/২৭)। জানিনা নিজেদের চির চেনা উইকেটে কেন এভাবে লংকান ব্যাটিং আত্মসমর্পণ করলো? মানলাম উইকেট কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এভাবে লড়াই ছাড়া লংকানদের আত্মাহুতি নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। আমি নিউজিল্যান্ড বোলিং খাটো করে দেখছি না।  কিন্তু কাল শ্রীলংকান ব্যাটিং চরিত্র হীন মনে হয়েছে। ১০৭/৮ ইনিংস শেষ হওয়ায় ৬১ রানের বিশাল জয় পায় নিউজিলান্ড। দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্টস আর ৩.০৫০ নেট রান রেট নিয়ে ওদের সেমিফাইনাল সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে আছে। শেষ খেলায় যদি যেন ইংল্যান্ডের কাছে স্বল্প ব্যাবধানে হেরেও যায় তবুও সম্ভাবনা থাকবে সেমি ফাইনাল খেলার। পাকিস্তানকে সেমি ফাইনাল খেলতে হলে শ্রীলংকাকে বিশাল ব্যাবধানে হারাতেই হবে। শ্রীলংকান ইনিংসে ধস নামায় রাচীন রাভিন্দ্রা ( ৪/২৭) আর মাট হেনরী (২/৩)।

টুর্নামেন্টে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি শক্তিধর দল ভারত,পাকিস্তান আর শ্রীলংকা গ্রুপ অফ এইটে উত্তীর্ণ হয়েছিল। পরিস্থিতি এমন যে তিনটি দলই হয়তো টুর্নামেন্ট থেকে ঝরে পড়বে।  আজ x গ্রুপে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা -ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং ভারত -জিম্বাবুয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ খেলা। টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুন ছন্দে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর দক্ষিণ আফ্রিকা টুর্নামেন্টে অপরাজিত দল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বিশাল জয় নিয়ে উভয় দল স্বস্তিতে আছে। টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ভারত প্রথম ম্যাচে বিশাল পরাজয়ে আছে দারুন অস্বস্তিতে। সেমি ফাইনাল খেলতে হলে আজ এবং শেষ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বিশাল জয় পেতে হবে। সম্ভাবনা থাকলেও কাজটি যে ছেলের হাতের মোয়া না সেটি সবাই বুঝবে। আজকের খেলা দুটি শেষে অবস্থান আরো পরিষ্কার হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরকার্ড:

নিউজিল্যান্ড ১৬৮/৭ (মিচেল সান্টনার ৪৭, রাচীন রাভিন্দ্রা ৩২, কোল মাকন্চি ৩১*, ফিন অ্যালেন ২৩, মাহেশ থিকসানা ৩/৩০,দুস্মনথা চামিরা ৩/৩৮)

 

শ্রীলংকা ১০৭/৮ (কামিন্দু মেন্ডিস ৩১, দুনিত ওয়েললাগে ২৯, রাচীনরাভিন্দ্রা ৪/২৭, মাট হেনরী ২/৩)

নিউজিল্যান্ড ৬১ রানে  জয়ী। ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়: রাচীন রাভিন্দ্রা

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

11 − 3 =