‘সবুজ বিপ্লবের’ পথিকৃৎ ছিলেন শহীদ জিয়াউর রহমান, বৃক্ষরোপণকে গণআন্দোলনে রূপ দেওয়ার আহ্বান পরিবেশমন্ত্রীর

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশে প্রথম ‘সবুজ বিপ্লব’-এর ডাক দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, খাল খনন কর্মসূচি এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযানের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান মানুষকে প্রকৃতিপ্রেম ও আত্মনির্ভরশীলতার শিক্ষা দিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরার নওয়াব হাবিবউল্লাহ স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে ঢাকা-১৮ আসনের মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে গাজীপুরের শালনায় নিজ হাতে মেহগনির চারা রোপণের মাধ্যমে জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তাঁর উদ্যোগেই জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা হয়।

তিনি দেশের প্রতিটি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ ও যুব সংগঠনকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানো এবং তার নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব। তিনি সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নেও সবার অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনের উৎস নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রতিটি চারার সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, গাছ বাঁচাতে না পারলে মানুষের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে। এজন্য ঢাকা-১৮ আসনের প্রতিটি এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে মাসব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা-১৮ আসনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়কের পাশে, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং উন্মুক্ত স্থানে পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ করা হবে।

এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিপুলসংখ্যক স্থানীয় বাসিন্দা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

four × 2 =