সমালোচকদের ভুল প্রমাণের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার সোমবার তার নেতৃত্ব নিয়ে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে সমালোচকদের ভুল প্রমাণ করার অঙ্গীকার করেছেন। সাম্প্রতিক স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর তার নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। খবর বাসস

লন্ডন থেকে এএফপি জানায়, একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে স্টারমার বলেন, তার ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি ‘আরও ভালো করবে’ এবং তিনি ক্ষুব্ধ ও অস্থির সংসদ সদস্যদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করবেন।

তিনি বলেন, ‘আমি জানি মানুষ ব্রিটেনের অবস্থায় হতাশ, রাজনীতিতে হতাশ, এবং কেউ কেউ আমার ওপরও হতাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি আমার ওপর সন্দেহকারীরা আছে, এবং আমি জানি আমাকে তাদের ভুল প্রমাণ করতে হবে এবং আমি তা করব।’

২০২৪ সালে ১৪ বছর পর লেবার পার্টিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা স্টারমার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে একাধিক নীতিগত ভুল ও বিতর্কের মধ্যে পড়েছেন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ ও পরে বরখাস্ত করার ঘটনাও রয়েছে, যা যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি না বাড়ার কারণে জনঅসন্তোষ বাড়ছে, যদিও ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য তিনি প্রশংসিত হয়েছেন।

গত বৃহস্পতিবারের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি বড় ধাক্কা খায়, যেখানে কট্টর ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে এবং বামপন্থী গ্রিন পার্টি বড় অগ্রগতি অর্জন করে। এতে ওয়েলসে লেবারের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটে এবং স্কটল্যান্ডেও স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) বিপরীতে তারা কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।

ভাষণে স্টারমার বলেন, ‘ক্রমাগত ছোট ছোট পরিবর্তন এখন আর যথেষ্ট নয়’, এবং তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি ব্রিটিশ স্টিলকে সম্পূর্ণ জাতীয়করণের জন্য আইন আনার ঘোষণা দেন এবং বলেন, তার সরকার ব্রিটেনকে ‘ইউরোপের কেন্দ্রবিন্দুতে’ রাখতে চায়, যার মধ্যে তরুণদের জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচিও থাকবে।

তিনি রিফর্ম পার্টির অভিবাসনবিরোধী নেতা নাইজেল ফারাজকে ‘অবসরপ্রার্থী প্রতারক’ বলে অভিহিত করেন এবং সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি ঠিকভাবে কাজ না করি, আমাদের দেশ অন্ধকার পথে চলে যাবে।’

স্টারমার আরও জানান, আগামী শনিবার ব্রিটেনে একটি মার্চে অংশ নিতে আসা কট্টর ডানপন্থী কর্মীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।

তবে লেবার পার্টির ভেতরেই তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। কয়েকজন সংসদ সদস্য নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে হলে অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তারা সবাই একমত নন। রেইনার বলেছেন, বর্তমান কৌশল কাজ করছে না এবং পরিবর্তন প্রয়োজন।

এদিকে লেবার পার্টি ওয়েলসের আঞ্চলিক সরকারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং ইংল্যান্ডে প্রায় ১,৫০০ স্থানীয় কাউন্সিল আসন হারিয়েছে, যেখানে রিফর্ম ইউকে বিপুল অগ্রগতি করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

three × two =