আশফাক আহমেদ
২০২৪ সালের সেরা গ্যাজেট
প্রতি বছরের মতো ২০২৪ সালেও এসেছে অনেক গ্যাজেট। এরমধ্যে বছরের সেরা গ্যাজেটের তালিকায় আছে আইফোন ১৬ থেকে শুরু করে বেশ কিছু প্রযুক্তি পণ্য। যা নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ প্রযুক্তিপ্রেমীদের।
প্রতি বছরের মতো এবারও সেপ্টেম্বরে অ্যাপেল বাজারে এনেছে নতুন আইফোন ১৬, ১৬ প্রো, এবং ১৬ প্রো ম্যাক্স এই তিনটি মডেল। আইফোন ১৬ দিয়ে ৬০ এফপিএসে ফোরকে ভিডিও রেকর্ডিং করা সম্ভব। আর আইফোন ১৬ প্রোকে ১২০ এফপিএসে ফোরকে ভিডিও রেকর্ডিংয়ের বিশেষ ক্ষমতায় সজ্জিত করে তোলা হয়েছে।
আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স ব্যাটারি, ক্যামেরা ও র্যামের ক্ষেত্রে অন্যান্য মডেলের মতো হলেও ডিসপ্লে তুলনামূলক বড়, দামও বেশি। এটি ব্যবহারের বিবেচনায় অনেকের জন্য আকর্ষণীয়।
অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য স্যামসাং এর নতুন চমক হচ্ছে প্রাইম গ্রাহকদের জন্য এস২৪ আলট্রা ফোনটি। যা এ বছরের অন্যতম সেরা। স্যামসাং গ্যালাক্সি এম১৫ প্রাইম এডিশন পকেট ফ্রেন্ডলি এ মডেলটি মধ্যবিত্তদের সাধ্যের মধ্যে একাধিক ফিচার নিয়ে এসেছে। ব্যাটারি ব্যাকআপও ভালো।
এক সময় মধ্যবিত্তদের নাগালের বাইরে থাকা ওয়ানপ্লাস, এবার সাশ্রয়ী ফোন নিয়ে এসেছে। এই তালিকায় বিশেষ নাম নর্ড সিই৪ লাইট, যা স্পেসিফিকেশনের দিক থেকে অনন্য।
স্যামসাং এনেছে গ্যালাক্সি রিং। অ্যাডভান্স হেলথ মনিটরিং ফিচারসমৃদ্ধ এই রিং হার্ট রেট এবং স্লিপ মনিটরিং করতে সক্ষম।
২০২৪-এর সেরা গ্যাজেটের তালিকায় স্থান পেয়েছে রকো দ্য সুপার স্মার্ট ফ্রিজ। মোবাইলের মাধ্যমে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক সুবিধা রয়েছে এতে।
২০২৪ সালে গুগল সার্চের শীর্ষে ছিল যেসব বিষয়
ইন্টারনেটের যুগে পুরো বিশ্ব এখন হাতের মুঠোয় বন্দী। কোনো কিছু জানার প্রয়োজন হলেই গুগল সার্চ ইঞ্জিনে গিয়ে খোঁজ করা হয়। আর চলতি বছরের সার্চ হিস্ট্রি ঘেঁটে ইয়ার ইন সার্চ প্রকাশ করেছে গুগল।
২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির সার্চ ইঞ্জিনে সবচেয়ে বেশি খোঁজা হয়েছে মার্কিন নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ক তথ্য। তারপরই রয়েছে আইফোন রিলিজ, ব্লকবাস্টার বিভিন্ন সিনেমা রিলিজ, টিকটক ট্রেন্ড এবং ফ্যাশন-স্টাইল সম্পর্কিত নানা তথ্য।
সার্চ জায়ান্টটি জানিয়েছে, ২০২৪ সালে সার্চ ট্রেন্ডিংয়ের শীর্ষে ছিল ক্রীড়া ইভেন্ট। এ তালিকায় প্রথমেই কোপা আমেরিকা, দ্বিতীয়তে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ (উয়েফা) ও তৃতীয় আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বাকাপ। তারপর রয়েছে ইন্ডিয়া বনাম ইংল্যান্ড ম্যাচ, প্রয়াত ওয়ান ডিরেকশন সদস্য ও ভোকালিস্ট লিয়াম পেইন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, আইফোন ১৬। এছাড়া প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের অলিম্পিক গেমস ও প্রিন্সেস অব ওয়েলস ক্যাথরিন সম্পর্কিত তথ্যও সার্চ ট্রেন্ডিংয়ে ছিল।
২০২৪ সালে গুগলে সবচেয়ে বেশি খোঁজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথমেই ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, দ্বিতীয়তে ক্যাথরিন ও প্রিন্সেস অফ ওয়েলস, তৃতীয়তে কমলা হ্যারিস, চতুর্থতে ইমান খলিফ ও পঞ্চমে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
গুগলে সবচেয়ে সার্চ করা শব্দের মধ্যে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন সম্পর্কিত সংবাদ, নিউ ইয়র্ক টাইমসের গেম কানেকশন ও নিউ ইয়র্কের বাস্কেটবল দল ‘নিউ ইয়র্ক ইয়াঙ্কিস’।
২০২৪ সালে গুগলে সার্চ করা সংবাদের মধ্যে প্রথমে ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন, দ্বিতীয়তে অতিরিক্ত তাপদাহ, তৃতীয়তে অলিম্পিক ও চতুর্থতে হারিকেন মিল্টন।
মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে সার্চ লিস্টে প্রথমেই ছিলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ সঙ্গীতশিল্পী লিয়াম পেইন, দ্বিতীয়তে মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী ও গীতিকার টবি কিথ, তৃতীয়তে প্রখ্যাত ফুটবলার ওজে সিম্পসন, চতুর্থতে হলিউড অভিনেত্রী শ্যানেন ডোহার্টি ও পঞ্চমে ছিলেন জাপানি মাঙ্গা শিল্পী আকিরা তোরিয়ামা।
২০২৪ সালের সেরা গেমস
মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ২০২৪ সালের অ্যাপ স্টোর পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা, নকশা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অসাধারণ ভূমিকা রাখার জন্য এ বছর ১৭টি অ্যাপ এবং গেম স্বীকৃতি পেয়েছে।
আইফোনের সেরা গেম এএফকে জার্নি। এটি একটি অ্যাডভেঞ্চার গেম, নির্মাতা ফারলাইট গেমস।
২০২৪ সালে আইপ্যাডের সেরা গেম স্কোয়াড বাস্টার্স। মাল্টিপ্লেয়ার স্ট্র্যাটেজির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি যুদ্ধনির্ভর গেম, নির্মাতা সুপারসেল।
ম্যাকের সেরা গেম হলো থ্যাংক গুডনেস ইউ’আর হিয়ার। হাস্যরসাত্মক চরিত্র এবং ব্যতিক্রমী প্লটের জন্য জনপ্রিয় একটি অ্যাডভেঞ্চার গেম, নির্মাতা প্যানিক ইনকরপোরেটেড।
অ্যাপল ভিশন প্রো সেরা গেম হলো থ্রাশার: আর্কেড ওডিসি। আর্কেড ঘরানার একটি গেম, নির্মাতা পাডল এলএলসি।
অ্যাপল আর্কেড সেরা গেম, বালাত্রো প্লাস। কৌশল এবং পরিকল্পনার মিশ্রণে তৈরি একটি কার্ড গেম, এর নির্মাতা প্লেস্ট্যাক লিমিটেড।
২০২৫ সালে পৃথিবী মাতাবে যে ৫ প্রযুক্তি
২০২৫, আগের বছরগুলোর মতোই এগিয়ে যাচ্ছে প্রযুক্তি উন্নয়নে। বিশেষ করে এআই এর পরিধি বাড়ার সঙ্গে আরও প্রযুক্তির বিস্ময়কর আবিষ্কার হচ্ছে। এসব প্রযুক্তি আমাদের ডিজিটাল জীবনযাপনে কতটা প্রভাব ফেলতে, তা জেনে নেওয়া যাক।
নতুন বছরে সাড়া ফেলতে পারে নানান কাজ এককভাবে করতে পারে এমন রোবট। প্রথাগত রোবটের চেয়ে মাল্টিফাংশনাল রোবট ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে উৎপাদন বাড়াতে শিল্পকারখানাগুলো এ ধরনের রোবট ব্যবহার করছে। আমাজন ও সিমেন্স উৎপাদন এবং কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন্য পলি ফাংশনাল রোবোটিকসে বিনিয়োগ করেছে। এ রোবটগুলো প্যাকেজিং, উৎপাদন যন্ত্রে সহায়তা, জীবাণুমুক্তকরণ ইত্যাদি কাজ করতে সক্ষম। ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য খাতে এ ধরনের রোবটের প্রভাব দেখা যেতে পারে।
এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীরা নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজড এআই এজেন্ট তৈরি করতে পারবেন। এর মূল লক্ষ্য হলো ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কাজকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করা এবং গ্রাহকদের দ্রুত ও সঠিক তথ্য দেওয়া। এই এআই এজেন্টগুলো প্রচলিত চ্যাটবট থেকে আরও উন্নত হবে। কারণ, এগুলো নির্দিষ্ট কাজ নিজে নিজেই করতে পারবে এবং ব্যবহারকারীর নির্দেশনার কোনো প্রয়োজন হবে না। মাইক্রোসফট এরই মধ্যে কয়েকটি নমুনা এজেন্ট তৈরি করেছে। সেগুলো ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবেন। এই এআই এজেন্টগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসেবা, বিক্রয় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করবে।
মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিকমাধ্যমে। ফলে সামাজিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন দিকে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাই এবার মেটা বা এক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এআই দিয়ে মিথ্যা তথ্য ও ভুল প্রচারণা মোকাবিলা করতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে মেটার ফেসবুকে এর ব্যবহার দেখা গেছে। মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে সত্যতা যাচাই করা, ছদ্মবেশে ভুয়া প্রচার চালানো এবং বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন কমাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ২০২৫ সালে হয়তো জনপ্রিয় সব সামাজিক মাধ্যমে ডিসইনফরমেশন সিকিউরিটির ব্যবহার দেখা যাবে।
বাড়ছে কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সংখ্যা। টেক জায়ান্টরা কোয়ান্টাম কম্পিউটারে বিনিয়োগের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এগুলোর অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঐতিহ্যগত এনক্রিপশন কৌশল হ্যাকারদের কবলে পড়তে পারে। পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি কোয়ান্টাম আক্রমণ প্রতিরোধী অ্যালগরিদম তৈরি করে। ইতিমধ্যে গুগল, আইবিএম এবং মাইক্রোসফট কোয়ান্টাম প্রতিরোধী অ্যালগরিদম তৈরি করছে। নতুন বছর কোয়ান্টাম কম্পিউটার জগতে ডেটা সুরক্ষায় পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফির ব্যবহার বাড়বে।
হাইব্রিড কম্পিউটিং এমন একটি প্রযুক্তি, যা সাধারণ কম্পিউটার এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের সমন্বয় ঘটায়। এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের জটিল সমস্যা সমাধানে উন্নততর সমাধান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। এ ধরনের প্রযুক্তি জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি একত্র করে। এর মূল উদ্দেশ্য, প্রতিটি প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগাতে হাইব্রিড পরিবেশ তৈরি করা। বড় আকারের ডেটা সেট বিশ্লেষণ, মার্কেট ট্রেন্ড প্রেডিকশন বা মেশিন লার্নিং মডেল, ক্রিপ্টোগ্রাফি, সাইবার সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন কাজে এই কম্পিউটার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। আইবিএম ও গুগল এ ধরনের কম্পিউটার উন্নত করার জন্য কাজ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রযুক্তি বিভিন্ন শিল্পে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে।
লেখাটির পিডিএফ দেখতে চাইলে ক্লিক করুন: টেক ট্রেন্ড