৪৯০ কোটি টাকার এলএনজি’র চালান দেশে পৌঁছেছে

দেশের শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) আরও একটি চালান দেশে পৌঁছেছে।  খবর বাসস

সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড’ সরবরাহকৃত এই কার্গোটি গত ২৮ ডিসেম্বর কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ‘এক্সসিলারেট এনার্জি লিমিটেড’-এর ভাসমান টার্মিনালে এসে পৌঁছায়। এই কার্গো এলএনজি আমদানি করতে সরকারকে খরচ করতে হয়েছে ৪৯০ কোটি টাকা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর উপ-মহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন। তিনি জানান, বিদায়ী বছরের ২৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড’র সরবরাহকৃত এক কার্গো এলএনজি বাংলাদেশে পৌঁছায়। তিনি আরও জানান, আমাদনিকৃত এলএনজি দিয়ে চলতি মাসের প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি মেটানো হবে।

সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির এক সারসংক্ষেপ থেকে জানা যায়, ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ এই কার্গো এলএনজি আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮৯ কোটি ৮৮ লাখ ১২ হাজার ২৬২ টাকা। ২০২৫ সালের জন্য স্পট মার্কেট থেকে আমদানির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, এটি তার ৪৯তম কার্গো।

তবে, নতুন বছরে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এলএনজি আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন রুপান্তরিত প্রকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের অপর উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কে. এম. জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, এটি ছিল গত বছরের সর্বশেষ আমদানি করা এলএনজির কার্গো। নতুন বছরে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এলএনজি আমদানি করা হবে।

উপ-মহাব্যবস্থাপক বলেন, সরকার দেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি করে থাকে। প্রতি মাসে ৮/৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করে দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতি মেটানো হয়।

দরপত্র ও আর্থিক বিশ্লেষণ- পারচেজ কমিটির কাছে পাঠানো জ্বালানি বিভাগের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, এলএনজি আমদানির জন্য গত বছরের ১০ নভেম্বর আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান করা হলে মাস্টার সেল অ্যান্ড পারচেজ এগ্রিমেন্ট (এমএসপিএ) স্বাক্ষরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে চারটি বৈশ্বিক কোম্পানি দরপত্র প্রস্তাব জমা দেয়। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের ‘বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড’ প্রতি এমএমবিটিইউ ১১ দশমিক ৬৪ মার্কিন ডলার দর উল্লেখ করে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি আমদানিতে মূল খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ৪০০ মার্কিন ডলার। গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের মুদ্রা বিনিময় হার (১ ডলার = ১২২ দশমিক ৮০ টাকা) অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৪৮০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এর সাথে ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) যুক্ত হয়ে চূড়ান্ত ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৯০ কোটি টাকা।

সাশ্রয় ও বাজার পরিস্থিতি- জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমান বাজারে এলএনজির আন্তর্জাতিক সূচক জেকেএম দরের তুলনায় এই দাম বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। ইতিপূর্বে কেনা ৪৬, ৪৭ ও ৪৮তম কার্গোর তুলনায় এই চালানে প্রতি এমএমবিটিইউতে যথাক্রমে শূন্য দশমিক ২১, শূন্য দশমিক ২৪ এবং শূন্য দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলার সাশ্রয় হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ আরও জানিয়েছে, বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড একটি শক্তিশালী বৈশ্বিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশে এটিই এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম এলএনজি সরবরাহ। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, নিজস্ব তহবিল থেকে এই আমদানির ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা এই প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে।

উল্লেখ্য, কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির আওতায় বর্তমানে বছরে ৫৬ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। তবে অভ্যন্তরীণ গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও শিল্পোৎপাদন সচল রাখতে স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি এলএনজি আমদানির এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে সরকার।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

five × one =