অভিমানে গান না লেখার সিদ্ধান্ত রাসেল মাহমুদের

প্রকাশের পর থেকেই আলোচনায় ঈদুল আজহায় মুক্তি পাওয়া ‘তুফান’ সিনেমার ‘উড়াধুরা’ গানটি। রাসেল মাহমুদ ও শরিফ উদ্দিনের লেখা গানটি গেয়েছেন প্রীতম হাসান ও দেবশ্রী অন্তরা। সংগীতায়োজন করেছেন প্রীতম হাসান। উড়াধুরা গান নিয়ে চারদিকে যখন হইচই, তখন আর গান না লেখার ঘোষণা দিলেন গীতিকার রাসেল মাহমুদ। মূলত গীতিকার হিসেবে তিক্ত অভিজ্ঞতা এবং অভিমান থেকেই এমন সিদ্ধান্ত তাঁর।

রাসেল মাহমুদ বলেন, ‘রায়হান রাফীর “দামাল” দিয়ে সিনেমার গান লেখা শুরু করেছিলাম। গত চার বছরে গান লেখায় তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। যেহেতু গান লেখা আমার ভালোবাসার জায়গা, তাই এখানে তিক্ততার বিষয়টি আনতে চাই না। নিজের আত্মার তৃপ্তির জন্য গান হয়তো লিখব। কিন্তু সেটা আমার ডায়েরিতেই থেকে যাবে।’

দুঃখ প্রকাশ করে রাসেল মাহমুদ বলেন, ‘বেশির ভাগ সময়ে গান জনপ্রিয় হলে গীতিকারদের কেউ স্মরণ করে না। এই যেমন তুফানের উড়াধুরা গান এত জনপ্রিয় হলো। মাত্র এক মাসে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ভিউ। সবাই শিল্পীদের খোঁজ নিলেও গীতিকারকে মনে করার প্রয়োজন মনে করেনি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই গানের আদ্যোপান্ত নিয়ে আলোচনা করলেও গীতিকারের নাম কেউ নিচ্ছে না। শুধু এই গান নিয়ে আমার অভিমান নয়, আমার লেখা বেশ কয়েকটি গান আলোচিত হয়েছে। সে সময় কিন্তু কেউ খোঁজ নেয়নি। ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের মানুষের কর্মকাণ্ডও আমাকে হতাশ করেছে। সবাই শিল্পী, সংগীত পরিচালক, নায়ক-নায়িকাদের নাম বলে, পরিচালকদের নাম বলে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ইন্ডাস্ট্রির মানুষেরা গীতিকারদের গ্রাহ্য করে না। এতে গীতিকারদের অসম্মান করা হয়।’

সম্মানীর বিষয় নিয়ে রাসেল মাহমুদ বলেন, ‘সম্মানীর বিষয়ে আমার একটা দোষ আছে। গান লিখে দেওয়ার পর আমি টাকা চাইতে পারি না। এটা আমার ধাতে নেই। কিন্তু এটা তো চাওয়ার বিষয় নয়। এই ঘটনাও আমার সঙ্গে বারবার ঘটেছে। কারও নাম নিতে চাই না। আমি এটাও জানি না, অন্য গীতিকারদের বেলায় এমনটা ঘটেছে কি না। কিন্তু আমার সঙ্গে বারবার ঘটেছে।’

রাসেল মাহমুদ প্রথম আলোচনায় আসেন ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি’ গান দিয়ে। ২০১৬ সালে প্রকাশিত ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি ২’ গানটি তাঁর লেখা। এরপর সিনেমা ও ওয়েব কনটেন্টে গান লিখেছেন তিনি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

16 − fifteen =